আল্লাহর গুণবাচক নামের আমল
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
আল্লাহ তায়ালা সুন্দর কিছু গুণবাচক নাম রয়েছে। যেগুলোকে বলা হয়, আল আসমাউল হুসনা বা সুন্দর নামসমূহ। আল্লাহর গুণবাচক নাম প্রসঙ্গে কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর আল্লাহর জন্য রয়েছে সুন্দর সুন্দর নাম। অতএব তোমরা তাকে সেই সব নামেই ডাকবে।’ সূরা আরাফ: ১৮০

আল্লাহর গুণবাচক নামগুলো অতিশয় মোবারক ও পবিত্র। মহান আল্লাহর পরিচয় সঠিকভাবে জ্ঞাত হয়ে ঈমানকে পূর্ণাঙ্গ করার জন্য আসমাউল হুসনা সম্পর্কে জানা আবশ্যক। এ ছাড়া আল্লাহ তায়ালার এসব নামের জিকিরের প্রচুর ফজিলতের কথা বিভিন্ন হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। বলা হয়েছে যে, এসব নাম মুখস্থ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

ইমাম তিরমিজি (রহ.) এক হাদিসে মহান আল্লাহর ৯৯টি গুণবাচক নাম উল্লেখ করেছেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, মহান আল্লাহর ৯৯টি নাম আছে, অর্থাৎ এক কম ১০০টি। যে ব্যক্তি সেগুলো সংরক্ষণ (মুখস্থ) করবে সে জান্নাতে যাবে। তিনিই আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো ১. ইলাহ বা উপাস্য নাই, তিনি ২. আর রাহমানু (পরম দয়ালু), তিনি ৩. আর রাহিমু (সীমাহীন করুণাময়), ৪. আল মালিকু (সত্ত্বাধিকারী), ৫. আল কুদ্দুসু (মহাপবিত্র), ৬. আস সালামু (শান্তিদাতা), ৭. আল মুমিনু (নিরাপত্তাদাতা), ৮. আল মুহাইমিনু (রক্ষণা-বেক্ষণকারী), ৯. আল আজিজু (মহাপরাক্রমশালী), ১০. আল জাব্বারু (মহাপ্রতাপশালী), ১১. আল মুতাকাব্বিরু (মহাগৌরবের অধিকারী)।

আল খালিকু (সৃষ্টিকর্তা), ১৩. আল কারিমু (উদ্ভাবনকারী), ১৪. আল মুসাব্বিরু (আকৃতিদানকারী), ১৫. আল গাফফারু (অসীম ক্ষমাশীল), ১৬. আল কাহ্হারু (মহাপরাক্রমশালী), ১৭. আল ওয়াহ্হাবু (মহান দাতা), ১৮. আর রাজ্জাকু (রিজিকদাতা), ১৯. আল ফাত্তাহু (মহা বিজয়দানকারী), ২০. আল আলিমু (মহাজ্ঞানী), ২১. আল ক্বাবিদু (হরণকারী), ২২. আল বাসিতু (সম্প্রসারণকারী)।

আল খাফিদু (অবনতকারী), ২৪. আর রাফিয়ু (উন্নতকারী), ২৫. আল মুয়িজু (মার্যাদাদানকারী), ২৬. আল মুজিল্লু (অপমানকারী), ২৭. আস সামিয়্যু (সর্বশ্রোতা), ২৮. আল বাসিরু (সর্বদ্রষ্টা) ২৯. আল হাসিবু (মহাবিচারক), ৩০. আল আদিলু (ন্যায়পরায়ণ), ৩১. আল লাতিফু (সুক্ষ্মদর্শী), ৩২. আল খাবিরু (মহা সংবাদ রক্ষক), ৩৩. আল হালিমু (মহা সহিঞ্চু), ৩৪. আল আজিমু (মহান), ৩৫. আল গাফুরু (ক্ষমাশীল), ৩৬. আশ শাকুরু (গুণগ্রাহী), ৩৭. আল আলিয়্যু (মহাউন্নত), ৩৮. আল কাবিরু (সর্বাপেক্ষা বড়), ৩৯. আল হাফিজু (মহারক্ষক), ৪০. আল মুকিতু (মহান শক্তিদাতা)।

আল হাসিবু (হিসাব গ্রহণকারী), ৪২. আল জালিলু (মহা মহিমাময়), ৪৩. আল কারিমু (মহা অনুগ্রহশীল), ৪৪. আর রাকিবু (মহাপর্যবেক্ষণকারী), ৪৫. আল মুজিবু (মহান কবুলকারী), ৪৬. আল ওয়াসিয়ু (মহাবিস্তারকারী), ৪৭. আল হাকিমু (মহাপ্রজ্ঞাময়), ৪৮. আল ওয়াদুদু (প্রেমময় বন্ধু), ৪৯. আল মাজিদু (মহাগৌরবান্বিত), ৫০. আল বায়িসু (পুনরুত্থানকারী), ৫১. আশ শাহিদু (সর্বদর্শী), ৫২. আল হাক্কু (মহাসত্য), ৫৩. আল ওয়াকিলু (মহান দায়িত্বশীল), ৫৪. আল ক্বাজিয়্যু (মহাশক্তি ধর), ৫৫. আল মাতিনু (চূড়ান্ত সুরক্ষিত ক্ষমতার অধিকারী), ৫৬. আল ওয়ালিয়্যু (মহান অভিভাবক), ৫৭. আল হামিদু (মহাপ্রশংসিত)।

আল মুহসিয়্যু (পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব গ্রহণকারী), ৫৯. আল মুবদিয়ু (সূচনাকারী), ৬০. আল মুঈদু (পুন:সৃষ্টি কারী), ৬১. আল হাইয়্যু (চিরঞ্জীব), ৬২. আল কাইয়ূমু (চিরস্থায়ী), ৬৩. আল মুহইয়্যু (জীবনদানকারী), ৬৪. আল মুমিতু (মৃত্যুদানকারী), ৬৫. আল ওয়াজিদু (ইচ্ছাপূরণকারী), ৬৬. আল মাজিদু (মহাগৌরবান্বিত), ৬৭. আল ওয়াহিদু (একক সত্ত্বা), ৬৮. আস সামাদু (অমুখাপেক্ষী), ৬৯. আল ক্বাদিরু (সর্বশক্তিমান), ৭০. আল মুক্তাদিরু (মহান কুদরতের অধিকারী), ৭১. আল মুকাদ্দিমু (অগ্রসরকারী), ৭২. আল মুয়াখখিরু (বিলম্বকারী), ৭৩. আল আউয়ালু (অনাদি), ৭৪. আল আখিরু (অনন্ত), ৭৫. আজ জাহিরু (প্রকাশ্য), ৭৬. আল বাতিনু (লুক্কায়িত)।

আল ওয়ালিয়্যু (মহান অধিপতি), ৭৮. আল মুতাআলিয়ু (চিরউন্নত), ৭৯. আল র্বারু (কল্যাণদাতা), ৮০. আত তাউওয়াবু (মহান তওবা কবুলকারী), ৮১. আল মুন্তাকিমু (প্রতিশোধ গ্রহণকারী), ৮২. আল আফুউ (ক্ষমাকারী), ৮৩. আর রাউফু (অতিশয় দয়ালু), ৮৪. মালিকুল মুলকি (সর্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী), ৮৫. জুল জালালি ওয়াল ইকরামি (গৌরব ও মহত্ত্বের অধিকারী), ৮৬. আল মুকসিতু (ন্যায়পরায়ণ), ৮৭. আল জামিয়ু (একত্রকারী), ৮৮. আল গানিয়্যু (ঐশ্বর্যের অধিকারী)।

আল মুগনিয়ু (ঐশ্বর্যদানকারী), ৯০. আল মানিয়ু (প্রতিরোধকারী), ৯১. আদ দারু (অনিষ্টকারী), ৯২. আন নাফিয়ু (উপকারকারী), ৯৩. আন নূরু (জ্যোতি), ৯৪. আল হাদিয়ু (পথ প্রদর্শনকারী), ৯৫. আল বাদিয়ু (সূচনাকারী), ৯৬. আল বাকিয়ু (চিরবিরাজমান), ৯৭. আল ওয়ারিসু (স্বত্বাধিকারী), ৯৮. আর রাশিদু (সৎপথে পরিচালনাকারী), ৯৯. আস সাবূরু (মহাধৈর্যশীল)।

পবিত্র কোরআন ও হাদিসে আল্লাহর সুন্দরতম ও অর্থবোধক এসব নাম নিয়ে দোয়া করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। মানুষ প্রতিনিয়ত নানা রকম কষ্ট-ক্লেশ, পেরেশানি, দুশ্চিন্তা ও জটিল বিষয়ের সম্মুখীন হয়ে পড়ে। তখন সে আশ্রয় নেবে আল্লাহর রহমতের ছায়ায়, সে ছায়া পড়ে আছে আল্লাহর নানা সিফাতি বা গুণবাচক নামের তাৎপর্যের মধ্যে।

০৬ মার্চ, ২০১৭ ১০:২৫:১০