যে হৃদয়কে বিরান গৃহের সঙ্গে তুলনা করলেন মুহাম্মদ সা.
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
পবিত্র গ্রন্থ কোরআন আল্লাহ তায়ালার বাণী। সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ আসমানি গ্রন্থ। কোরআন মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক। পবিত্র কুরআনে ঘোষিত হয়েছে, ‘নিঃসন্দেহে আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের ওপর অবশ্যই অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তাদের সামনে আল্লাহর আয়াতগুলো তেলাওয়াত করেন এবং তাদেরকে কিতাব এবং হিকমত শিক্ষা দেন’ (সুরা ইমরান-১৬৪)।

আল কুরআন মহান বিশ্বনিয়ন্তার এক মহা দান, যা পাঠ করলে হৃদয়ে ছড়িয়ে পড়ে প্রশান্তি। আত্মায় ঢেউ খেলে যায় এক অলৌকিক নূরের, যা পাঠ করলে হতে হয় মোহগ্রস্ত, লোভাতুর, এক আবেগ যেন ছাড়তে চায় না মনকে। কী মধুর সুর! কী মায়াবী এক টান। প্রেম আর বিশ্বাস নিয়ে যখন কোনো মুমিন কুরআন পাঠ করে বা শোনে, তখন কি সে তার নিজের মধ্যে থাকে? তার অস্তিত্ব তার হৃদয় কোথায় দোল খায়? সে কি বলতে পারে? নিশ্চয় নয়। আল কুরআন হচ্ছে এক মোহনীয় সুরের মায়াবি টান, যা পৃথিবীর অন্য কোনো ভাষায় নেই। নেই পৃথিবীর কোনো সুরে। তাই তো আরব্য ইতিহাসে পাওয়া যায় রাসুল সা. এবং সাহাবায়ে কেরাম রা. কুরআন পাঠ করলে মক্কার কাফেরেরা চুপিসারে এসে তা শুনত। আর বিমোহিত হতো। কিন্তু তাদের কপালে হেদায়েতের মতো মহান সম্পদ জোটেনি।

হজরত উমর ফারুক রা. তো তার বোনের তেলাওয়াত শুনেই পাগল হয়েছিলেন এবং নাঙ্গা তরবারি হাতে রাসূল সা. এর দরবারে এসে মুসলমান হয়েছিলেন।

কুরআন তেলাওয়াতকারীর ফজিলত সম্পর্কে রাসুল সা. বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে ওই ব্যক্তি সর্বশ্রেষ্ঠ যে আল কুরআন স্বয়ং শেখে এবং অন্যকেও শেখায়’ (বুখারি)।

যেহেতু কুরআনে ইসলামের মূল নীতিমালা এবং প্রচার-প্রসারের তাগিদ এসেছে বারবার, সেহেতু কুরআনের শিক্ষালাভ ও শিক্ষাদান এবং তা তেলাওয়াত করা শ্রেষ্ঠ ইবাদত হওয়াই স্বাভাবিক। তবে এখানে একটি কথা বলতেই হয়, আরবি ভাষীরা তেলাওয়াতের সাথে সাথে কুরআনের অর্থ তথা তার মাঝে বর্ণিত হুকুম-আহকামকে বুঝত। আমাদের কুরআনের অর্থ জানা, বোঝা ও তার ওপর আমল করা অবশ্যই কর্তব্য।

আর সাধারণ জিকির থেকে কুরআন তেলাওয়াত অবশ্যই বেশি মর্যাদাশীল ও ফজিলতপূর্ণ। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, ‘যে ব্যক্তি কুরআন পড়ানো এবং তেলাওয়াতের কারণে আমার কাছে কিছু চাইতে পারল না, আমি তাকে প্রার্থনাকারীর চেয়ে বেশি দান করি।’

অপর হাদিসে এসেছে, রাসুল সা. বলেন, ‘যে হৃদয়ে আল কুরআনের কোনো অংশ নেই, সে হৃদয় একটি বিরান গৃহের মতো।’

তেলাওয়াতকারী সম্পর্কে আরো বলেন, ‘যে ব্যক্তি কুরআনের একটি অক্ষর পড়বে তাকে আল্লাহ তায়ালা দশটি নেকি দান করবেন’ (বায়হাকি)।

এক আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আমি আল কুরআনের মধ্যে এমন সব নাজিল করেছি, যা বিশ্ববাসীর জন্য রোগমুক্তি ও রহমতস্বরূপ’ (সূরা বনি ইসরাইল : ৮২)।

এ প্রসঙ্গে রাসূল সা. ইরশাদ করেছেন, ‘কেয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা কুরআন তেলাওয়াতকারীদের আহ্বান করবেন এবং বলবেন, তোমরা কুরআন তেলাওয়াত করো এবং মর্যাদার আসনে উন্নীত হতে থাকো। নিশ্চয়ই তোমার মর্যাদার আসন হবে তোমার তেলাওয়াতকৃত আয়াতের শেষ প্রান্তে’ (মুসলিম, তিরমিজি)।

বস্তুত কুরআন পঠন ও পঠনে বিশেষ মনোযোগী হওয়া অবশ্যই কর্তব্য। কেননা, কুরআন কারিমের মাধ্যমেই মানবজাতি মনজিলে মকসুদে পৌঁছার পথ সুগম করতে পারে। এর মাধ্যমেই মুমিন পায় তার স্রষ্টার পরিচয়। জানতে পারে প্রিয় রাসুল সা. এর আদর্শকে। বুঝে নিতে পারে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব-কর্তব্যকে। তাই আমাদের উচিত বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত ও এর ওপর আমল করা।

 

১৫ এপ্রিল, ২০১৬ ১২:১৯:১২