মানুষ হত্যা পৃথিবীর শান্তি বিনষ্ট করে
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
নিরাপদ জীবন লাভ প্রতিটি মানুষের জন্মগত অধিকার। এ অধিকার স্বয়ং বিশ্বস্রষ্টা আল্লাহ দান করেছেন, যাতে মানুষ নিরাপদে, নিশ্চিন্তে তাঁর পৃথিবীতে বিচরণ করতে সক্ষম হয় এবং নির্বিঘ্নে তাঁর ইবাদত, উপাসনা করতে পারে। মানবজীবনের সম্মান, মর্যাদা ও নিরাপত্তার ব্যাপারে মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। একদা প্রিয় নবী (সা.) কাবার প্রতি লক্ষ করে অত্যন্ত আবেগ ও আনন্দের সঙ্গে বলেন, 'হে কাবা! তুমি কত না পবিত্র! তোমার খোশবু কত না উত্তম! এবং তুমি কত না মর্যাদার অধিকারী। কিন্তু মোমিনের মর্যাদা তোমার চেয়েও বেশি। আল্লাহ তোমাকে মর্যাদাবান করেছেন। তিনি মোমিনের জান, মাল ও সম্ভ্রমকেও সম্মানে ভূষিত করেছেন। এমনকি কোনো মোমিনের ব্যাপারে খারাপ ধারণা পোষণও নিষেধ করে দিয়েছেন।' (তাবারানি)। শুধু কাবা কেন, একজন ঈমানদারের মর্যাদা সমগ্র দুনিয়ার চেয়েও বেশি। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলে করিম (সা.) এরশাদ করেছেন, 'কোনো মুসলমানকে হত্যা করা আল্লাহর কাছে সমগ্র দুনিয়া ধ্বংস হয়ে যাওয়া থেকে গুরুতর।' (নাসাঈ)। মানবহত্যা মহান আল্লাহর কাছে অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। এর পাপ শিরক সমতুল্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, 'জঘন্যতম কবিরা গোনাহ হচ্ছে, আল্লাহর সঙ্গে শিরক সাব্যস্ত করা, বাবা-মার অবাধ্য হওয়া এবং অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা করা।' (বোখারি ও মুসলিম)। হত্যা ও নাশকতার ফলে পৃথিবীর শান্তি উবে যায়। এর ধনসম্পদ ও মানবসম্পদ বিনষ্ট হয়। আল্লাহর রহমত ও বরকত উঠে যায় এবং পৃথিবীতে পতিত হয় একের পর এক শাস্তি ও বিপর্যয়। রাসুল (সা.) বলেন, 'মোমিন যদি পৃথিবীতে হারাম রক্তপাত না ঘটায়, তাহলে নিরাপদ ও স্বস্তিতে থাকবে।' (বোখারি)।

'হত্যার ভয়াবহতার কারণে কেয়ামত দিবসে আল্লাহ সর্বপ্রথম রক্তের হিসাব নেবেন।' (বোখারি ও মুসলিম)। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে- 'যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে মুসলমানকে হত্যা করে, তার শাস্তি জাহান্নাম। তাতেই সে চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়েছেন, তাকে অভিসম্পাত করেছেন এবং তার জন্য ভীষণ শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন।' (সূরা নিসা : ৯৩)। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, 'আসমান ও জমিনবাসী সবাই মিলে যদি কোনো মোমিনকে হত্যা করে, তবুও আল্লাহ সবাইকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।' (তিরমিজি)।

মানুষ হত্যার বিষয়টি তো অনেক গুরুতর, পবিত্র ইসলামে উপহাসবশত কারও প্রতি তারবারি উত্তোলন করতেও কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেন, 'যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের প্রতি অস্ত্র তাক করে, ফেরেশতাকুল তাকে অভিসম্পাত করতে থাকে, হোক সে তার আপন ভাই।' (মুসলিম)।

ইসলামে মানুষ হত্যা যেমন গুরুতর পাপ তেমনি আত্মহত্যাও মহাপাপ। আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'তোমরা নিজেদের হত্যা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি দয়াবান। আর যে সীমা লঙ্ঘন কিংবা জুলুমের বশবর্তী হয়ে এরূপ করবে, তাকে খুব শিগগিরই আগুনে নিক্ষেপ করা হবে।' (সূরা নিসা : ৩০)। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, 'যদি কেউ পাহাড় থেকে গড়িয়ে পড়ে নিজেকে হত্যা করে, সে জাহান্নামে আগুনের পাহাড় থেকে চিরকাল পতিত হতে থাকবে। কেউ যদি বিষপানে নিজেকে হত্যা করে, জাহান্নামে সে চিরদিন বিষপান করবে। কেউ যদি অস্ত্রের আঘাতে আত্মহত্যা করে, সে জাহান্নামে চিরদিন নিজ পেটে অস্ত্র দিয়ে আঘাত করবে। অর্থাৎ যেভাবে আত্মহত্যা করবে, পরকালে সেভাবেই তাকে শাস্তি দেয়া হবে।' (বোখারি ও মুসলিম)। নিজেকে হত্যা করার যদি এই ভয়াবহ পরিণতি হয়, তাহলে অন্যের হত্যার শাস্তি কত গুরুতর হবে! মূলত মানুষের জীবন আল্লাহর দেয়া আমানত। এতে কারও মালিকানা বা কর্তৃত্ব নেই।

মানুষের কল্যাণে দয়াময় আল্লাহ পশু-পাখির হত্যা বৈধ করেছেন। কিন্তু অকারণে তাদের হত্যা বা কষ্ট দেয়া যাবে না। বিশিষ্ট সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) একদল যুবকের পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে লক্ষ করলেন, তারা একটি মুরগিকে নিশানা বানিয়ে ঢিল ছুড়ছে। তিনি তাদের শাসিয়ে বললেন, রাসুল (সা.) এমনটি করতে নিষেধ করেছেন। বরং যারা প্রাণীকে নিশানা বানায়, তাদের প্রতি তিনি অভিসম্পাত করেছেন। ইসলামের শিক্ষা কত উন্নত ও ইনসাফপূর্ণ। ইসলামের প্রতিটি বিধান মানবতার পক্ষে কল্যাণ বয়ে আনে। শুধু ইসলামের ছায়াতলেই রয়েছে মানবজীবনের শান্তি ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। ইসলাম মুসলমানদের দেশে বসবাসরত অমুসলিমদের জীবনের নিরাপত্তা অপরিহার্য ঘোষণা করেছে। তাদের জান, মাল ও সম্ভ্রমের হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।

১৭ নভেম্বর, ২০১৫ ১১:২৮:০৩