চেয়ারে বসে নামাজ আদায় জায়েজ নয় : ইসলামিক ফাউন্ডেশন
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম
অ+ অ-প্রিন্ট


চেয়ারে বসে ফরজ, ওয়াজিব ও মুয়াক্কাদা নামাজ আদায়ের কোনো বৈধতা নেই বলে ফতোয়া দিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা বিভাগের পক্ষে মুফতি মোঃ আবদুল্লাহ এ ফতোয়া দেন। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে 'মসজিদে চেয়ারে বসে নামাজ আদায়ের শরিয়তসম্মত সমাধান' সম্পর্কে জানতে চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এ ফতোয়া দেয়া হয়েছে বলে রোববার জনসংযোগ কর্মকর্তা বিল্লাল বিন কাশেম জানিয়েছেন।

ফতোয়ায় বলা হয়েছে, অসুস্থতা বা ওজর অবস্থায় নামাজ আদায়ের ব্যাপারে শরিয়তে তিনটি অবস্থানের কথা উল্লেখ আছে। তা হলো দাঁড়িয়ে, বসে ও শায়িত অবস্থা। এ তিনটির সবই অবস্থাভেদে অসুস্থ ব্যক্তির গ্রহণ করা জায়েজ। তবে কোনোটি উত্তম, কোনোটি বেশি উত্তম। কিন্তু চেয়ারে বসে নামাজ আদায় করার বিষয়টি বা প্রক্রিয়া বা বৈধতা বা বিকল্প পন্থা হওয়ার কথা রাসুল (সা.) এর যুগে, সাহাবাদের যুগ থেকে শুরু করে গবেষক ইমামদের যুগ পেরিয়ে হিজরি পঞ্চদশ শতাব্দী পর্যন্ত লিখিত-রচিত কোনো কিতাবে যেমন পাওয়া যায় না, তেমনি প্রামাণ্য তিন যুগ বা তার পরের কোনো যুগে বা শতাব্দীতে নবী, সাহাবি, তাবেঈ, আলেম, ওলি- কারও বইয়ে বা পরস্পর আচার-রীতিতে তার কোনো নজির পাওয়া যায় না।

সুতরাং এসব মৌলিক দিক বিবেচনায় চেয়ারে বসে নামাজ আদায়ের বৈধতা বের করা যায় না। তাছাড়া যেখানে অসুস্থ ব্যক্তির জন্য খোদ শরিয়া আইনে সুবিধামতো অনেকগুলো বিকল্প পন্থা বলে দেয়া হয়েছে, সেখানে সেসব বাদ দিয়ে অন্য নতুন বিকল্প পন্থা অর্থাৎ চেয়ারে বসে নামাজ আদায়ের বৈধতা দেয়ার অবকাশ থাকে না। এভাবে এ ফতোয়ার পক্ষে মুফতি আবদুল্লাহ মোট ১২টি যুক্তি তুলে ধরেন।

সর্বশেষ যুক্তিতে একান্ত গবেষণা হিসেবে তিনি বলেন, বিতর্কের খাতিরে যদি কারও বেলায় এমনটি বলা হয় যে, তিনি দাঁড়িয়েও নামাজ পড়তে পারেন না এবং চেয়ার ছাড়া যে কোনো প্রক্রিয়ায় বসেও পারেন না-তেমন কারও জন্য বৈধতার অনুমতির কথা মেনে নিলেও তা প্রযোজ্য হতে পারে বাসাবাড়ি, অফিস-আদালত তথা মসজিদের বাইরের ক্ষেত্রে; মসজিদে নয়। কারণ তার প্রয়োজনে মসজিদের পরিবেশ ব্যাহত করা যাবে না এবং তিনি রোগী বিধায় তার পক্ষে মসজিদে জামাতে অংশগ্রহণও জরুরি নয়। তবে মুফতি আবদুল্লাহ বিষয়টি সম্পর্কে দেশের বিজ্ঞ মুফতিদের আরও গভীরে যাওয়ার আহ্বান জানান এবং সংশ্লিষ্ট রোগীদের কষ্টসাধ্য নামাজ যেন বাতিল না হয়ে যায়, সে সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ করেন।

 


০১ জুন, ২০১৫ ১২:২২:০৮