দেশত্যাগের নিষ্ঠুরতার শিকার ক্রন্দনরত শিশু, এই ছবিই পেল সেরার খেতাব
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
শরণার্থী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মার্কিন প্রশাসন৷ তাতে কী? দেশত্যাগের মতো কঠোর বাস্তব তো আর থেমে থাকছে না৷ তাই মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে শরণার্থী  অনুপ্রবেশ চলছেই৷ আর সেখানেই ধরা পড়ল এক করুণ চিত্র৷ সেই ছবি তুলেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে সেরার তকমা জিতে নিলেন চিত্র সাংবাদিক জন মুর৷ শরণার্থী সমস্যা যে কতটা প্রকট, তা আরও একবার সামনে এল৷

হন্ডুরাস থেকে আমেরিকা-মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের সময় মাকে হারিয়ে দিশেহারা শিশু পুলিশের কাছে কান্নাকাটি করছে৷ মাকে খুঁজে দেওয়ার আবদার, অভুক্ত অবস্থায় কিছু খাবার চাওয়ার প্রার্থনা করছে৷ হন্ডুরাসের বাসিন্দা সান্ড্রা স্যাঞ্চেস এবং তার ছোট মেয়ে ইয়ানেলা বেআইনিভাবে ঢুকে পড়ে মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে৷ তারপরই নিরাপত্তারক্ষীদের অভিযানে মা, সন্তান ছিটকে পড়ে দু’দিকে৷ ছোট্ট ইয়ানেলা ঢুকে পড়ে মার্কিন সীমান্তে৷ কিন্তু ততদিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শরণার্থী প্রবেশে ‘না’ বলে দিয়েছেন৷ কাজেই সীমান্তের প্রহরীদেরও কিছুই করার নেই৷ ইয়ানেলাকে শনাক্ত করার পর মার্কিন পুলিশ জানিয়েছে, এরা ঠিক সেই ধরনের শরণার্থী নয়, যাদের সাহায্য করার মতো নয়৷ তাই ছোট্ট মেয়ের শত কাকুতি-মিনতিতেও মন গলেনি নিরাপত্তারক্ষীদের৷

 সেদিনের সেই করুণ ছবি তুলে রেখেছিলেন জন মুর নামে এক ফটোগ্রাফার৷ রাতে মেক্সিকো সীমান্তের রিও গ্রান্দেতে দাঁড়িয়ে ছবিটি ফ্রেমবন্দি করেন বছর একান্নর মুর৷ সেসময় সেখানে শরণার্থীদের ভিড়৷ তার মধ্যে থেকে কচি মেয়েটির কান্নাই মুরের হৃদয় তোলপাড় করেছিল৷ বেশি সময় না নিয়ে এক ক্লিকে তুলে নিয়েছিলেন তিনি৷ পুরস্কৃত হয়ে তাঁর খুব সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া – ‘আমি ওর চোখে,মুখে ভয় দেখতে পেয়েছিলাম৷ আর ক্যামেরার চোখ দিয়ে সেটাই দেখাতে চেয়েছি আমি৷’ ছবিটা তোলার পর নাকি মুর নিজেই নাকি বেদনায় ভেঙে পড়েছিলেন৷ চাইছিলেন, সান্ড্রার হাতে তাঁর ছোট্ট মেয়েকে তুলে দিতে৷  

বৃহস্পতিবার নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান মঞ্চে দাঁড়িয়ে মুর বলেন, ‘সেদিন আমার চোখে মানবতা ধরা পড়েছিল অন্যভাবে৷ ছবির মধ্যে দিয়ে আমি সেই ভিন্ন ব্যাপারটাই বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে চেয়েছি৷’ মুরের মতে, শরণার্থী সমস্যা শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরই নয়৷ সারা বিশ্বের সমস্যা৷ তবে উপর থেকে যা যা দেখা যাচ্ছে, তার গভীরেও অনেক কিছু রয়ে গিয়েছে৷ ক্যামেরার চোখ দিয়ে সেটাই দেখতে চান জন মুর৷

১৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০৮:৪৬:০১