যারা মানুষের মধ্যে বিভেদ করে আমরা তাদেরকে নেতা মানি না: মমতা
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, যারা দেশের মধ্যে ভাগাভাগি করে, মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে তাদেরকে আমরা দেশের নেতা মানি না। তিনি বুধবার নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দার্জিলিংয়ে এক অনুষ্ঠানে ভাষণ দেয়ার সময় ওই মন্তব্য করেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি ও প্রধানমন্ত্রীর নাম উল্লেখ না করে বলেন, ‘যিনি দেশকে টুকরো টুকরো করতে চান, তিনি কখনোই দেশের নেতা হতে পারেন না। উনি তো কেবল ওদের জন্য নেতা হতে পারেন, দেশের নেতা হতে পারেন না। আমরা তাকে দেশের নেতা বলে মানি না, যিনি দেশকে বিভক্ত করেন। একে অন্যের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধিয়ে দেয়। যিনি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলেন তিনিই দেশের নেতা।’  

মমতা বলেন, ‘দেশের নেতা কে হতে পারেন? যিনি দেশের প্রত্যেক জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়কে নিয়ে চলেন। তিনিই দেশের নেতা। গান্ধীজি সবাইকে নিয়ে চলতেন বলেই তিনি দেশনেতা হতে পেরেছিলেন। বাবাসাহেব আম্বেদকর, মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মতো দেশনেতারা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলতেন বলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেন।

বিজেপিকে ইঙ্গিত করে মমতা বলেন, ‘ওরা একটা কাজও করে না, পাহাড়ের কোনো উন্নয়ন করেনি, ভোট এলেই শুধু প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু ভোটের পরে সব ভুলে যায়।’

তিনি বলেন, ‘নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর জন্মদিনে রাজ্য সরকার ছুটি ঘোষণা করলেও আজও কেন্দ্রীয় সরকার জাতীয় ছুটি ঘোষণা করেনি। আজও নেতাজিকে রাষ্ট্রনায়ক মানে না। এটা দুঃখের বিষয়।’

মমতা বলেন, নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু কেবল ‘জয় হিন্দ’ স্লোগান দিয়েছিলেন, তাই নয়, তিনি ‘ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি’ গঠন করেছিলেন, প্ল্যানিং কমিশন গঠন করেছিলেন। শাহনওয়াজ খান নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর ডান হাত ছিলেন।’  

নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু ভারতের ঐক্য রক্ষা করার জন্য হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান, গুজরাটি, পাঞ্জাবি যাই হোক না কেন সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে থাকাই সবচেয়ে মহত্ত্বপূর্ণ বলে মনে করতেন বলেও মমতা মন্তব্য করেন।

২৪ জানুয়ারি, ২০১৯ ০৭:৩৭:৫২