আমি জানি কিভাবে কাটতে হয়: খাশোগির হত্যাকারীদের একজন
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যার পর লাশ টুকরো টুকরো করার সময় এক ঘাতক বলেছেন, আমি জানি কীভাবে কাটতে হয়। তুরস্ক ওই হত্যাকাণ্ডের যে অডিও ক্লিপটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছে পাঠিয়েছে তাতে এমনটাই শোনা যায় বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান।

গত ২ অক্টোবর প্রয়োজনীয় কিছু কাগজপত্র সংগ্রহের জন্য ইস্তাম্বুলে সৌদি আরবের দূতাবাসে ঢুকেছিলেন সাংবাদিক জামাল খাশেগি। পরে আর তাকে দেখা যায়নি। চাপের মুখে সৌদি সরকার স্বীকার করে, দূতাবাসের মধ্যেই খুন হয়েছিলেন খাশোগি। খুনিদের কণ্ঠস্বর অডিও রেকর্ডে ধরে রেখেছিল কোনও অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি। সেই ক্যাসেট এসেছে তুরস্ক সরকারের হাতে। শুক্রবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান জানান, ওই অডিও টেপ তুলে দেওয়া হয়েছে আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সরকারের হাতে। ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট খাশোগির মৃত্যু নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ যেভাবে বার বার বক্তব্য বদল করেছে, তারও সমালোচনা করেন তিনি।

তার কথায়, ‘সৌদি আরব আগে বলেছিল, খাশোগি দূতাবাস থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। পরে তিনি কোথায় গিয়েছেন আমাদের জানা নেই। তিনি তো শিশু নন যে রাস্তা হারিয়ে ফেলবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরে সাংবাদিকের মৃত্যু নিয়ে যখন সৌদি আরবের ওপরে চাপ সৃষ্টি হলো, তখন সেদেশের সরকার বললো, খাশোগির মৃত্যুর কথা মুহাম্মদ বিন সালমান জানতেন না। এখন বলছে, তিনি দূতাবাসে ঢোকার পরে কয়েকজন তাকে বোঝাচ্ছিল, আপনি সৌদিতে চলুন। তিনি রাজি হননি। ধস্তাধস্তির সময় খাশোগি মারা যান। তাকে খুন করা উদ্দেশ্য ছিল না।’

অডিও টেপ সম্পর্কে এরদোগান বলেন, ‘এখন আমেরিকা, জার্মানি, ফ্রান্স, কানাডা, সব দেশের সরকার শুনছে, একজন খুব স্পষ্ট বলেছিল, আমি জানি কীভাবে মানুষকে কাটতে হয়।’ অডিও টেপে আর কী আছে তিনি জানাননি।

খাশোগি সৌদির যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের কঠোর সমালোচক ছিলেন। সালমানই কার্যত সৌদি আরবের শাসক। খাশোগির মৃত্যুর জন্য তাকে দায়ী করেছেন অনেকে। সাংবাদিক খুন হয়েছেন জানাজানি হওয়ার পরে বিশ্বের অনেক দেশ সৌদি আরবের নিন্দা করেছিল। এর মধ্যে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সালমানের পক্ষে কথা বলেছিলেন। সেজন্য আমেরিকার সিনেট তাকে তিরস্কার করেছে। কোনও প্রেসিডেন্টকে সিনেটের তিরস্কার করা বিরল ঘটনা।

ইস্তানবুলের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেছেন, সৌদি কনসুলেটের ভেতরে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছিল খাশোগিকে। তার দেহ পাওয়া যায়নি। অডিও টেপে শোনা গিয়েছে, খাসোগি বলছেন, আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না।

একটি সূত্র জানায়, খাসোগির দেহ টুকরো টুকরো করে কেটে বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। দেহটি কাটার সময়ই সম্ভবত খুনি বলেছিল, কীভাবে মানুষকে কাটতে হয় আমি জানি।

 

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০৭:০৯:৪৩