‘হিটলারের মতোই দম্ভ আর সাহস ট্রাম্পের’
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
ইহুদি সঙ্গীতের অনুষ্ঠানে ‘হাইল হিটলার! হাইল ট্রাম্প!’ বলে চিৎকার করা ব্যক্তি আসলে ইহুদি-বিদ্বেষী নন, ঘোরতর ট্রাম্প-বিরোধী। একটি মার্কিন টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজেই এই দাবি করেছেন অ্যান্টনি ডার্নুলাস নামের ওই ব্যক্তি। দিন কয়েক আগের কথা। বল্টিমোরের হিপোড্রোম থিয়েটারে ‘ফিডলার অন দ্য রুফ’ নামে এক ইহুদি মিউজ়িক্যাল হচ্ছিল। সবে বিরতি হয়েছে।

হঠাৎ দর্শকাসন থেকে লাফিয়ে দাঁড়াল এক জন। নাৎসি কেতায় স্যালুট দিয়ে চিৎকার করে উঠল— ‘হাইল হিটলার! হাইল ট্রাম্প!’  মুহূর্তে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। কোনও ইহুদি-বিদ্বেষী বন্দুকবাজ বুঝি এই গুলি চালাল। কিন্তু গুলি চালানোর কোনো ঘটনা ঘটেনি।

পুলিশ এসে শুধু ধরে নিয়ে যায়  অ্যান্টনিকে(৫৮)। পুলিশের হাত থেকে ছাড়া পাওয়ার পরে অ্যান্টনি জানিয়েছেন, তিনি আসলে নাৎসি প্রধান অ্যাডল্ফ হিটলার বা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরাগী নন। বরং ঠিক তার উল্টো। টিভি চ্যানেলটি দেওয়া সাক্ষাৎকারে অ্যান্টনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে কাজ হাসিল করার চেষ্টা করেন। স্বেরাচারী শাসকেরা ঠিক যেমন করত।’ কিন্তু হঠাৎ চিৎকার করে উঠলেন কেন?

অ্যান্টনির কথায়, ‘গীতিনাট্যটির একটি দৃশ্যে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলছে। হঠাৎ হিটলারের মতো এক জন এসে হুমকি দিয়ে বিয়ে বন্ধ করে দিল। লোকটার দম্ভ আর সাহস দেখে মনে হল, ঠিক যেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প! তাই তখন ‘হাইল হিটলার, হাইল ট্রাম্প’ বলে চেঁচিয়ে উঠেছিলাম।’

থিয়েটার হলে অযথা আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্য তিনি ‘খুবই লজ্জিত’ বলে জানিয়েছেন অ্যান্টনি। বলেছেন, ‘সে দিন আমার জন্য যাদের ওই সুন্দর সন্ধ্যাটা নষ্ট হয়ে গেল, তাঁদের সকলের কাছে আমি খুবই লজ্জিত। আমার বোকামির জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী।’

অ্যান্টনি অবশ্য স্বীকার করে নিয়েছেন যে, সে দিন নাটক শুরুর আগে অনেকটা মদ্যপান করেছিলেন তিনি। ‘তাতেই হয়তো বেশি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলাম। পুলিশ অ্যান্টনিকে গ্রেফতার করেনি। ভবিষ্যতে সংযত থাকতে বলে ছেড়ে দিয়েছে তাকে। তবে বল্টিমোর থিয়েটার কর্তৃপক্ষ অ্যান্টনিকে আর কখনও তাদের থিয়েটারে ঢুকতে দেবেন না বলে জানিয়েছেন। তথ্যসূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

 

১৯ নভেম্বর, ২০১৮ ১১:২২:৫২