একজন শরণার্থী, অন্যজন অভিবাসী! ইতিহাস গড়ে মার্কিন কংগ্রেসে দুই মুসলিম
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
একজন সোমালিয়ান রিফিউজি। আট বছর বয়সে কেনিয়ার ক্যাম্পে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন। অন্যজন প্যালেস্তাইনের শরণার্থী পরিবারের মেয়ে। ইতিহাস গড়ে মার্কিন কংগ্রেসে জায়গা করে নিলেন সেই দুই মুসলিম মহিলা। ৩৭ বছরের ইলহান ওমর এবং ৪২ বছরের রাশিদা তালেব। মার্কিন কংগ্রেসের প্রথমবার জায়গা পেলেন কোনও মুসলিম মহিলা।

ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী ছিলেন দু’জনে। এরা বারবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মুসলিম-বিরোধী পলিসির সমালোচনা করেছেন প্রকাশ্যে। মঙ্গলবারের নির্বাচনে জিতে এরাই ইতিহাস তৈরি করেছেন। মিচিগান থেকে জিতেছেন মিজ তালেব। ইলহান ওমর জিতেছেন মিনেসোটা থেকে। আমেরিকায় এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক মুসলিম প্রার্থী লড়াই করেছেন। একটি মুসলিম সংগঠনের দেওয়া হিসাবে, মুসলিম প্রার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১০০।

জয়ী হওয়ার প্রথম ভাষণে, ইলহান ওমর বলেন,” মিনেসোটায় আমরা অভিবাসীদের শুধু সাদরে বরণই করিনা, আমারা তাদের ওয়াশিংটনে পাঠাই।” হিজাব পরিহিত এই প্রার্থী বলেন, ”আমিই প্রথম শরণার্থী যে কংগ্রেসে নির্বাচিত হয়েছি।”

১৪ বছর বয়সে সোমিলিয়ার সিভিল ওয়ারের সময় পরিবারের সঙ্গে আমেরিকায় কেনিয়ার একটি শরণার্থী শিবিরে চলে আসেন ইলহান। চার বছর সেখানেই কাটিয়েছিলেন। ১৯৯৫-তে তাঁর পরিবার মিনিয়াপোলিসে আসার সুযোগ পায়। তিনি তখন সামান্যই ইংরেজি জানতেন এবং মাত্র তিন মাসের ভেতর ভাষা রপ্ত করে ফেলেন। এর আগে ২০১৬ সালে মিনেসোটা রাজ্য সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন।

সেই নির্বাচনে জেতার পর তিনি বলেছিলেন, “এ বিজয় শরণার্থী শিবিরে ৮-বছর বয়সী এক শিশুর বিজয়। এই বিজয় একজন তরুণীর যাকে জোর করে অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়া হয়। এই বিজয় তাদের যাদের বলা হয় যে তাদের স্বপ্ন দেখার সীমা রয়েছে।”

অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত রাশিদা তালেব মিচিগান একটি আসন থেকে বিজয়ী হয়েছেন। তার জন্ম ওই রাজ্যেরই রাজধানী শহর ডেট্রয়েটের দরিদ্র, খেটে খাওয়া এক অভিবাসী ফিলিস্তিনি পরিবারে। ৪২ বছরের তালেব ১৪ ভাইবোনের মধ্যে সবচেয়ে বড়। ২০০৮ সালে তিনি প্রথম মুসলিম নারী হিসাবে মিচিগান রাজ্য পরিষদে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

তিনি জানান, মুসলিম দেশের নাগরিকদের আমেরিকায় আসা নিষিদ্ধ করা সহ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কিছু রীতির বিরোধিতা করার জন্যই তিনি কংগ্রেস নির্বাচনের দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। ডেট্রয়েটের কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে রাশিদা নিজেকে শ্রমিক শ্রেণীর অধিকারের প্রতিভূ হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণার সময় রিপাবলিকানদের একটি নির্বাচনী সভায় ঢুকে তালেব মুখের ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা শুরু করনে। তাকে তখন জোর করে সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়।

০৮ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:২১:৩৭