কেমন ছিল ইমরানের রঙিন জীবন?
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট


পাকিস্তানের রাজনীতিতে ছক্কা হাঁকাতে পারবেন তো ইমরান৷ এখন তো এমন জল্পনা শুধুমাত্র পাকিস্তান নয় পাকিস্তানের বাইরেও৷ হ্যা সেই ইমরান যার পুরো নাম ইমরান খান নিয়াজি৷ খেলোয়াড়ি জীবন শেষে এখন যিনি রাজনীতির ময়দানে। বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বকালের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডারদের তিনি। ১৯৯২ সালে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডে যৌথভাবে আয়োজন করা বিশ্বকাপের শেষ তাঁরই হাতে উঠে এসেছিল বিশ্বজয়ের কাপট৷ সেদিন পাকিস্তানের মানুষকে ক্রিকেটে বিশ্বজয়ের আনন্দ তিনিই দিতে পেরেছিলেন।


এখন অবশ্য ইমরান খানের জীবন যেন পকিস্তানের রাজনীতির উত্তেজনায় ভরপুর। রাজনৈতিক দিক থেকে গোলযোগে ভরা এই দেশটিতে রাজনীতির আঙিনায় তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে৷ এই দলের চেয়ারম্যান ইমরান। ২৫ জুলাই এই দেশের নির্বাচনে যদি ইমরান খান জিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন রাজনীতি এবং খেলার দুনিয়ায় এক অন্য মাত্রা দেবে৷ প্রশ্ন অবশ্য রয়েছেই ক্রিকেটের মূলধনকে রাজনীতির মূলধনে রূপান্তর করতে কতটা সক্ষম হবেন অক্সফোর্ডের এই প্রাক্তনী।

১৯৫২ সালের ৫ অক্টোবর লাহোরে জন্ম৷ এক সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ইক্রামূল্লা খান নিয়াজি এবং শৌকত খানুমের পুত্র তিনি৷ লাজুক এই ছেলেটি বড় হতে থাকে তাঁর চার দিদির সঙ্গে৷ লাহোরের এচিসন কলেজ পড়াশুনা৷ পরে অক্সফোর্ডে থেকে স্নাতক হন ১৯৭৫ সালে৷ ১৯৭১ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলতে নেমে টেস্ট ক্রিকেট অভিষেক৷ তার তিন বছর বাদে অবশ্য একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশ নেওয়া৷ ১৯৮২ সালে পাকিস্তানের ক্যাপ্টেন হন৷ ৮৮টি টেস্ট খেলে তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ৩৬২টি ইউকেট ৩৮০৭ রান৷ অন্যদিকে ১৭৫টি একদিনের ম্যাচ খেলে তিনি রান ৩৭০২ রান করেন এবং ১৮২টি উইকেট পান৷ তাঁর ক্যাপ্টেন্সিতে ৪৮টি টেস্টে পাকিস্তান ১৪টি জেতে এবং ৮টিতে পরাজিত হয়েছিল৷

১৯৯৬ সালে ইমরান খান গঠন করেন তাঁর রাজনৈতিক দল তেহরিক-ই-ইনসাফ৷ ১৯৯৭ সালে তিনি নির্বাচনে দুটি কেন্দ্র থেকে দাঁড়ালেও দুটিতেই হেরেছিলেন৷ তবে ১৯৯৯ সালের তিনি পারভেজ মুশারফের সামরিক অভুত্থানকে সমর্থন করেন এই আশায় যে দেশ থেকে দুর্নীতির অবসান ঘটবে ৷ ২০০২সালে নির্বাচনে তিনি জেতেন৷ এদিকে ২০০৭ সালে ২ অক্টোবর তিনি আরও ৮৫জন সাংসদের সঙ্গে পদত্যাগ করেন আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বিরোধিতা করে কারণ সেবার সেনা প্রধান পদ থেকে পদত্যাগ না করেই নির্বাচনে লড়ছিলেন মুশারফ৷ এরপর রাষ্ট্রপতি হয়ে মুশারফ জরুরি অবস্থা জারি করে ইমরানকে গৃহবন্দী করেন৷ ওইসময় কিছুদিন তাঁকে হাজতবাসও করার পর মুক্তি পান৷

২০১৩ সালে পকিস্থানের নির্বাচনে তার দল দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে আসন জেতে৷ ২০১৮তে ফের ক্ষমতা দখলের লড়াইতে তিনি৷ তবে ইমরান ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মাঝে মাঝেই বিতর্ক উঠেছে৷ তার প্লে-বয় ইমেজ নিয়ে নানা রটনা৷ ১৯৯৫ সালে তাণর সঙ্গে জেমিমা গোল্ডস্মিথেব বিয়ে হলেও ২০০৪ সালে তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়৷ এরপর ফের ২০১৫ সালে ব্রিটিশ- পাকিস্তানী সাংবাদিক রেহাম খানের সঙ্গে পরিণয় হলেও সে বিয়েও টেকেনি বেশি দিন ওই বছরেই ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়৷ এরপরে আবার ইমরানের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং বিয়ে হয় তাঁর আধ্যাত্মিক উপদেষ্টা বুশা মানিকার৷

 

২৭ জুলাই, ২০১৮ ০০:০৪:০৩