যে হোটেলে সময় কাটাবেন কিম এবং ট্রাম্প...
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট


এই শতকের সবচেয়ে আলোচ্য এবং ঐতিহাসিক কূটনৈতিক বৈঠকটি হতে চলেছে জুন মাসের ১২ তারিখ। স্থান- সিঙ্গাপুরের সেন্তোসা দ্বীপ। কিন্তু, ট্রাম্প-কিমের এমন হাই ভোল্টেজ বৈঠকের জন্য যে হোটেলটি নির্ধারিত হয়েছে তা দেখে রীতিমত তাজ্জব তামাম দুনিয়া। প্রায় চার দশক পর কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান। তার উপর পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ সংক্রান্ত রাষ্ট্রপুঞ্জের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনসহ একাধিক বিষয়ে মার্কিন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্ক যখন অনিবার্য যুদ্ধের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই অপ্রত্যাশিতভাবে বৈঠকে বসার ইচ্ছা প্রকাশ করেন কিম। সাড়া দেন ট্রাম্পও। এরপর বিভিন্ন সময় কূটনৈতিক দড়ি টানাটানিতে বৈঠকে বিশ বাঁও জলে চলে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলেও উভয় পক্ষের 'সদিচ্ছায়' শেষ পর্যন্ত বৈঠকের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। কিন্তু, সাধারণ কূটনৈতিক বৈঠকই যখন হাই-প্রোফাইল হোটেলে হওয়াটাই দস্তুর, সেখানে ট্রাম্প-কিমের এমন 'ঐতিহাসিক' বৈঠকের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে রীতিমত সাধারণ এক হোটেল।

সিঙ্গাপুরের মতো দেশে বিলাসবহুল হোটেলের কোনও অভাব নেই। মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা আকাশ ছোঁয়া স্থাপত্যগুলির কোনও একটিতে এই হাইভোল্টেজ বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছিল কূটনৈতিক মহল। তবে সবাইকে অবাক করে সুদূর নিরালা দ্বীপের ক্যাপেলা হোটেলকেই বেছে নেওয়া হয়েছে।

এই হোটেলের বিশেষত্ব কী?

সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, সিঙ্গাপুরের সেন্তোসা দ্বীপের ক্যাপেলা নামে পাঁচতারা হোটেলটি বাইরের দিক থেকে ব্রিটিশ ঘরানার শিল্পকলায় এবং অন্দরে কর্পোরেট লুকের মিশেলে তৈরি হয়েছে। ১১২টি ঘর বিশিষ্ট এই হোটেলের অন্যতম আকর্ষণ ময়ূর। এই দ্বীপজুড়ে অবাধে বিচরণ করছে তারা। ক্যাপেলা হোটেল চত্বরেও ময়ূরও দেখা মিলতে পারে। এছাড়া এই হোটেলের ঘরগুলি থেকে দেখতে পাওয়া যায় দক্ষিণ চিন সাগরে দাঁড়িয়ে থাকা সারি সারি জাহাজ।

তবে, এসব কারণে হোটেলটিকে নির্বাচন করা হয়নি বলেই মনে করা হচ্ছে। আসলে, মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন সান্তোসা দ্বীপে অবস্থিত হওয়াতেই হোটেল ক্যাপেলা সবাইকে পিছনে ফেলে 'বাজি জিতে' গিয়েছে। দ্বীপ এলাকায় জন কোলাহল তো নেই-ই বরং, দুই রাষ্ট্রপ্রধানের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার আয়োজন করতেও এই এলাকা 'আদর্শ' বলে মনে করা হচ্ছে।

ক্যাপেলার ইতিহাসে এখনও পর্যন্ত খ্যাতির অধ্যায় না থাকলেও ট্রাম্প-কিম বৈঠকের 'স্থান' হিসাবে খবরে উঠে আসতেই ‘হট কেক’ হয়ে উঠেছে এই হোটেল। এমনিতে সিঙ্গাপুরের দক্ষিণ উপকূলের সেন্তোসাকে ‘প্রশান্তির দ্বীপ’ বলা হয়ে থাকে। ছুটির দিনে স্থানীয় বাসিন্দাদের অন্যতম গন্তব্যস্থল এটি। কিন্তু সবুজ বনানিতে ঘেরা এই হোটেল কি ভাবি কালের  জন্য শান্তি ও সজীবতার সকাল নিয়ে আসবে, না কি নিউক্লিয় অস্ত্রের ঝনঝনানি থামাতে না পারার কলঙ্ক মাথায় নিয়ে 'ব্ল্যাক ল্যান্ড' হয়েই থাকবে! উত্তর দেবে আগামী।

 


০৬ জুন, ২০১৮ ২০:০৩:০৮