‘ভগ্নি, তোমার নীরবতার দাম বড় বেশি’
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
নীরবতা ভেঙে রোহিঙ্গা নিপীড়ন বন্ধের পদক্ষেপ নিতে মিয়ানমারের নেত্রী নোবেল বিজয়ী অং সান সু চির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী নেতা ডেসমন্ড টুটু। নোবেল বিজয়ী এই সাবেক ধর্মযাজক বৃহস্পতিবার এক খোলা চিঠিতে এ আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘বার্ধক্য আমাকে গ্রাস করেছে, আমি এখন জরাগ্রস্ত, সব কিছু থেকে অবসর নিয়েছি। ঠিক করেছিলাম, সার্বজনীন বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে আর কিছু বলব না। কিন্তু আজ তোমার দেশের সংখ্যালঘু মুসলমানদের গভীর সঙ্কটে সেই নীরবতা আমি ভাঙছি।’

৮৫ বছর বয়সী টুটু দীর্ঘ দিন ধরে নিজেকে সব কিছু থেকে দূরে রেখেছেন। সাবেক এই আর্চ বিশপ প্রোস্টেট ক্যান্সারে ভুগছেন প্রায় দুই দশক ধরে। সু চির উদ্দেশে টুটু লিখেছেন, ‘হে আমার বোন, মিয়ানমারের রাজনৈতিক ক্ষমতার শিখরে পৌঁছানোই যদি তোমার নীরবতার কারণ হয়ে থাকে, তার জন্য সত্যিই বড় বেশি দাম দিতে হচ্ছে... আমরা প্রার্থনা করি, তুমি ন্যায়বিচারের পক্ষে মুখ খোলো, মানবতার পক্ষে কথা বলো, দেশের মানুষের ঐক্যের কথা বলো। আমরা প্রার্থনা করি, যাতে তুমি হস্তক্ষেপ করো।’ 

বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারে যুগ যুগ ধরে নিপীড়নের শিকার সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিষয়ে নীরবতার কারণে পশ্চিমা বিশ্বে সু চির কড়া সমালোচনা হচ্ছে, এমনকি তার নোবেল পুরস্কার কেড়ে নেয়ার দাবিও কেউ কেউ তুলছেন।

গত ২৪ আগস্ট রাখাইনে পুলিশ চেকপোস্ট ও সেনা ক্যাম্পে কথিত হামলার পর সেখানে নতুন করে সেনা অভিযান শুরু হওয়ায় লাখ লাখ রোহিঙ্গা দেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। জাতিসঙ্ঘের হিসাবে আড়াই লক্ষাধিক রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে এসেছে। এ সংখ্যা আরো অনেক বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে জাতিসঙ্ঘ। 

গুলিবিদ্ধ হয়ে পালিয়ে আসা কয়েকজন রোহিঙ্গা বলেছেন, রাখাইনে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকাগুলোয় নির্বিচারে গুলি করে মানুষ মারছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও পুলিশ। জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম।

মিয়ানমারে ১০ লক্ষাধিক মুসলিম রোহিঙ্গা মূলত থাকেন রাখাইন প্রদেশে। ১৪ হাজার বর্গমাইলের এই রাজ্যে তাদের জনসংখ্যার হার ৪২ শতাংশ। কিন্তু মিয়ানমার সরকার তাদের নাগরিক হিসেবে মানতে রাজি নয়। গণতন্ত্রের আন্দোলনে ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯১ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী সু চির দল এখন মিয়ানমারের ক্ষমতায়। কিন্তু রাখাইনে চলমান সহিংসতার জন্য মুসলিম বিশ্বের তীব্র সমালোচনা সইতে হচ্ছে তাকে। 

দুই দিন আগে এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনালকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সু চি রাখাইনের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বললেও রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রসঙ্গ উহ্য রাখেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের নাগরিকদের দায়িত্ব আমাদের নিতে হবে, আমাদের দেশে যারা আছে, তারা আমাদের নাগরিক হোক বা না হোক, তাদের প্রত্যেকের দেখভাল আমাদের করতে হবে।’

 

০৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১০:২৬:২৬