বেনজির আলোকেও আপন ছটায় উজ্জ্বল সাত বোন চম্পা
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তানের রাজনৈতিক অবস্থান ভারতের পক্ষে চিন্তাজনক৷ দেশ ভাগের পর থেকেই সেটা বুঝেছেন ভারতবাসী৷ তবে পাক রাজনীতিতে এমন এক সময় এসেছিল যখন নয়াদিল্লি-ইসলামাবাদ সম্পর্ক ছিল অনেকটা স্বস্তিদায়ক৷ দেশটির প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন বেনজির ভুট্টো(১৯৮৮-১৯৯০)৷ পরে আরও একবার ক্ষমতায় এসেছিলেন বেনজির (১৯৯৩-১৯৯৬)৷ ২০০৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর বেনজির ভুট্টোকে রাওয়ালপিন্ডিতে গুলি করে খুন করা হয়৷ প্রয়াত বেনজির ভুট্টোকে খুনের নয় বছর পূর্তি হল৷ তাঁকে পাকিস্তানের সবথেকে প্রভাবশালী মহিলা হিসেবে মনে করা হয়৷

শুধু ‘প্রাচ্যের কন্যা’ বেনজির নন, ইসলামিক প্রজাতন্ত্র পাকিস্তানে আরও কয়েকজন মহিলা ব্যক্তিত্ব রয়েছেন যাঁরা কর্মগুণে বিশেষ প্রভাব রেখেছেন৷ধর্মীয় সংস্কার ও মোল্লাতন্ত্রের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করেই এই মহিলারা স্ব স্ব ক্ষেত্রে সুপরিচিত ৷

রুথ পাকিস্তানের ‘মাদার টেরেসা’

এই নামেই  পাকিস্তান সহ বিশ্বে তিনি পরিচিত৷  ১৯২৯ সালে জার্মানিতে জন্ম রুথের৷  গত ৫০ বছর ধরে রুথ পাকিস্তানে রয়েছেন Dr. Ruth Katherina Martha Pfau৷ কুষ্ঠ নিবারণ কাজে তাঁর অসামান্য অবদান রয়েছে৷ ১৯৫৮ সালে তিনি ভারতে এসে কাজ করতে চেয়েছিলেন৷ ভিসা পেতে দেরি হওয়ায় পাকিস্তানে চলে যান৷ তারপর থেকেই পাকিস্তানই রুথের ঘর৷ কুষ্ঠ রোগীদের জন্য তাঁর সেবামূলক কাজ বিশ্বজোড়া স্বীকৃতি পেয়েছে৷ পাকিস্তানের সর্বচ্চো নাগরিক সম্মান হিলাল ই ইমতিয়াজ, হিলাল এ পাকিস্তানে ভূষিত হয়েছেন তিনি৷  অর্ডার অব মেরিট জার্মানি ও রামন ম্যাগসেসে পুরষ্কারেও তিনি সম্মানিত৷

বিলকিস বানো ইধি‘পাকিস্তানের মা’  

ভারতীয় মূক বধির কন্যা গীতা সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে চলে গিয়েছিল৷ তাকে পরে রাখা হয়ে ইধি ফাউন্ডেশনে৷ পাকিস্তানের সর্বাধিক আস্থার কেন্দ্র এই প্রতিষ্ঠান৷ প্রতিষ্ঠাতা আবদুল সাত্তার ইধি ও তাঁর স্ত্রী বিলকিস বানো ভারতীয় কন্যার নাম রেখেছিলেন গীতা৷ সেই বিলকিস বানোকেই পাকিস্তানের মা বলে ডাকা হয়৷ গীতার মতোই হাজারো পরিচয়হীন শিশুর রক্ষাকারী হলেন এই ইধি দম্পতি৷ স্বামীর সঙ্গে কখনও নিজে হাতে বেওয়ারিশ মৃতদেহ সমাধিস্থ করাই ছিল বিলকিসের কাজ৷ পরে তৈরি করেন বিশ্বের বৃহত্তম বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা৷ যা গিনেস বুকে স্থান পেয়েছে৷ স্বামী আবদুল ইধির প্রয়াণের পরও ইধি ফাউন্ডেশনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বিলকিস বানো৷

সামিনা বেগ: পাকিস্তানের মতো ধর্মীয় বেড়াজালে আবদ্ধ দেশটির অন্যতম এক নক্ষত্র৷ ২০১৩ সালে ২১ বছরেই এভারেস্ট জয় করেছেন তিনি৷ এই নজির একেবারেই বিরল৷ শুধু এভারেস্ট জয়ী নন সামিমা৷ পর্বতারোহীদের অতি গর্বের সম্মান সেভেন সামিট অর্থাৎ সাতটি মহাদেশের শীর্ষ পর্বত বিন্দুতেও তিনি পা রেখেছেন৷  পাকিস্তানের মহিলা মহলে তাঁর বিশেষ কদর রয়েছে৷

মালালা ইউসুফজাই: তালিবান হামলায় রক্তাক্ত হয়েছিলেন মালালা৷ চেয়েছিলেন পড়তে৷ গুলি করে তাকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল জঙ্গিরা৷ অনেক চিকিৎসার পর সুস্থ হন মালালা ইুসুফজাই৷ আধুনিক পাকিস্তানের এক প্রতিবাদী মুখ৷ শিক্ষার অধিকার চেয়ে আন্দোলন করেছেন মালালা৷ ২০১৪ সালে ভারতীয় সমাজকর্মী কৈলাস সত্যর্থীর সঙ্গে মালালা ইউসুফজাইকে দেওয়া হয় নোবেল শান্তি পুরষ্কার৷  পাকিস্তানের আধুনিক মুখ হিসেবেও পরিচিত মালালা৷

শরমিন ওবেদ: পাকিস্তানের একমাত্র অস্কার বিজেতা৷ দুটি ছোট তথ্যচিত্র ‘দ্য গার্ল ইন দ্য রিভার’ ও‘সেভিং ফেস’ বানিয়েই অস্কার কমিটির নজরে পড়ে যান শরমিন৷ প্রথম ডকুমেন্টরি ছিল সরাসরি মোল্লাতন্ত্র ও পুরুষ তন্ত্রের উপর আঘাত৷ পাকিস্তানে অনার কিলিং নিয়মিত ঘটনা৷ তারই প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন শরমিন৷ দ্বিতীয় ডকুমেন্টরিটি তিনি দেখিয়েছেন, অ্যাসিডে আক্রান্ত পাক কিশোরী ও মহিলাদের কথা৷ পাক সরকার তাঁকে দেশের সর্বচ্চো নাগরিক সম্মান হিলাল এ ইমতিয়াজ প্রদান করেছে৷ উত্তর আধুনিক পাক সমাজে শরমিন বিশেষ আলোচিত এক নাম৷

মুখতারন বিবি: রক্ষণশীল পাক সমাজের অন্যতম প্রতিবাদী চরিত্র৷ দুনিয়া তাঁর সাহসকে বারবার সেলাম করেছে৷  লজ্জা ভেঙে নিজেকে গণধর্ষিতা বলে দাবি করেছিলেন মুখতারন বিবি৷ ২০০২ সালে গণধর্ষণ কার হয়েছিল তাঁকে৷ যে দেশে ধর্ষণের পর মহিলাদের চুপ থাকাই রীতি৷ সেই পাকিস্তানেই ধর্ষণের প্রতিবাদে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করেছিলেন মুখতারন বিবি৷ দোষীদের সাজা হয়েছিল৷

আসিফা ভুট্টো: পাকিস্তান পুরোপুরি পোলিও মুক্ত দেশ নয়৷ ধর্মীয় বন্ধন ও পোলিও কর্মীদের উপর জঙ্গি হানার জেরে এই কর্মসূচি বারবার ধাক্কা খাচ্ছে৷ এরকমই পরিস্থিতিতে পোলিও দূরীকরণে কাজ করছেন বেনজির কন্যা আসিফা আলি৷ মায়ের হাতেই দেশের  প্রথম পোলিও দূরীকরণ কর্মসূচি শুরু হয়েছিল৷ কন্যা আসিফাকেই বেনজির প্রথম পোলিও ড্রপটি খাইয়েছিলেন৷

২৭ ডিসেম্বর, ২০১৬ ২৩:৩৪:২৮