বিদায়লগ্নে ইসরাইলকে ওবামার চপেটাঘাত
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ক্ষমতার ৮ বছরে ইসরাইলের বিরুদ্ধে যাননি কখনও। প্রথমবারের মতো প্রথা ভেঙেছেন তিনি।    

পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনের নিন্দা এবং এ প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে জাতিসংঘে উত্থাপিত একটি প্রস্তাবে ভেটো দেয়নি ওবামা প্রশাসন।    

শুক্রবার রাতের ওই ভোটাভুটিতে যুক্তরাষ্ট্র ভোটদানে বিরত ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্ত ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কাছে ওবামার চূড়ান্ত বিশ্বাসঘাতকতা। আর ওবামার কাছে এ সিদ্ধান্ত নেতানিয়াহুর জন্য তার নীতির বিরুদ্ধে আবশ্যিক পাওয়া আন্তর্জাতিক সম্প্রাদায়ের চরম ক্ষোভ।   

উভয় দেশের নেতার মধ্যে ঘৃণা লুকায়িত ছিল। শুক্রবারের ভোটাভুটির পর তা প্রকাশিত হল। এখন ইসরাইল কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন।   

কারণ ভোটাভুটির আগে ওই প্রস্তাবে ভেটো দেবেন বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তার হস্তক্ষেপেই বৃহস্পতিবার ভোটাভুটির কথা থাকলেও তা স্থগিত করা হয়।    

পরে নিউজিল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সেনেগাল ও ভেনেজুয়েলার অনুরোধে ভোটের আয়োজন করা হয়। ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া উত্থাপিত প্রস্তাবের পক্ষে সবাই ভোট দেয়।    

এরপরই ওবামা প্রশাসনের প্রতি নিন্দার ঝড় তুলতে থাকে নেতানিয়াহু প্রশাসন। নেতানিয়াহু সরকারের বিশ্বাস, ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সমন্বয় করে অনেকদিন ধরেই নিরাপত্তা পরিষদের এই ভোটাভুটির কথা পরিকল্পনা করেছেন ওবামা।    

এক জ্যেষ্ঠ ইসরাইলি কর্মকর্তা ওবামা ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির নাম উল্লেখ করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিবৃতি দিতে শুরু করেন। 

তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘে ইসরাইলের বিরুদ্ধে ওবামা ও কেরির পদক্ষেপ লজ্জাজনক।’    

ইসরাইলের বিশ্বাস, ‘এই প্রস্তাবনায় ভোটদানে বিরত থেকে বিদায়বেলায় শেষ আঘাত দিতে চেয়েছিলেন ওবামা। তার আমলে ব্যর্থ শান্তি প্রক্রিয়ায় ইসরাইলি বসতি স্থাপনাকেই তিনি অন্তরায় মনে করতেন।’    

মার্কিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে ইসরাইলের এসব তোপের জবাব দিয়েছে হোয়াইট হাউস। ওবামার উপদেষ্টা বেন রোডেহ বলেন, ‘ইসরাইলের বিবৃতি অযৌক্তিক ও মিথ্যা। আট বছরের শেষলগ্নে এসে আমাদের এ সিদ্ধান্তে এটাই প্রমাণিত হয়েছে, এটি আমাদের পছন্দের পদক্ষেপ নয়।’    

তিনি আরও বলেন, যদি এটি আমাদের পছন্দের সিদ্ধান্ত হতো, তবে দীর্ঘদিন আগেই তার সমাধান করতাম। ফিলিস্তিনের শান্তি, ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা, মানবাধিকার ও যুদ্ধের অবসান করতেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান রোডেহ।  

এএফপি, নিউইয়র্ক টাইমস। 

২৫ ডিসেম্বর, ২০১৬ ১৫:১২:০৪