যেসব লক্ষণ বলে দেবে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হতে পারেন আপনি
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
হার্ট অ্যাটাকের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে মৃত্যুর হার বেড়েই চলেছে। পাশাপাশি এখন দেখা যাচ্ছে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হওয়ারও যেন কোনো বয়স নেই। যে কোনো বয়সী মানুষই আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন হার্ট অ্যাটাকের সমস্যায়, হারাচ্ছেন প্রাণও। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এখন সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে। আরো নির্দিষ্ট করে বলতে চাইলে হার্ট অ্যাটাক খু্বই কঠিন এবং জীবননাশক শারিরীক সমস্যা যার ফলে হৃদপিন্ডে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। হৃদপিন্ডের শিরা উপশিরায় কোনো বাধা সৃষ্টি হলে, অস্বাস্থ্যকর খাবার খেলে এবং খুবই দুশ্চিন্তাময় জীবন কাটালে এই সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

তবে কিছুটা সচেতন থাকলে হার্টের সমস্যাকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যায় স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করে, নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস মেনে চলে এবং মানসিক চাপ কমিয়ে। পাশাপাশি হার্ট অ্যাটাকের আগের সময়কার ছোট ছোট কিছু লক্ষণ টের পেলে নিজেকে আরো বেশি সচেতন করে রক্ষা পাওয়া সম্ভব বড় কোনো দুর্ঘটনার হাত থেকে। হতে পারে সেটাই হবে আপনার জীবনরক্ষাকারী কোনো পদক্ষেপ। জেনে নিন সাধারণত হার্ট অ্যাটাকের সমস্যার আগে আগে যেসব সতর্কতামূলক লক্ষণ দেখা দেয় সেসব। আর সচেতন হোন নিজের বা প্রিয়জনের ব্যাপারে।

শ্বাস নিতে সমস্যা: লাঙসে পর্যাপ্ত অক্সিজেন না থাকলে হার্টেও ভালোমতা রক্ত চলাচল করবে না। তার মানে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন, হার্ট ও লাঙসের মধ্যে সংযোগটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সঙ্গে এটাও বুঝে নিন, আপনার আশপাশের কেউ শ্বাসের সমস্যা বোধ করছে মানেই খুব দ্রুতই তার হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।

ঠান্ডা বা ফ্লুয়ের লক্ষণ: হঠাৎ করেই যদি ঠাণ্ডা লেগে যায় বা ফ্লুতে আক্রান্ত হন তাহলে বুঝতে হবে আপনার দ্রুতই হার্ট অ্যাটাকের সমস্যা হবে। অনেক গবেষণা থেকে জানা গেছে, যারাই হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়েছেন তারা কিছুদিন আগে থেকেই ঠাণ্ডার সমস্যায় ভুগেছেন।

বুকে চাপ, অস্বস্তি বা ব্যথা: দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি যে বেশিরভাগ মানুষই বুকে চাপ অনুভব করার ব্যাপারটাকে উপেক্ষা করে যায়। কিন্তু এটাই হার্ট অ্যাটাকের একটি বড় লক্ষণ। তাই বুকে কোনো ধরনের চাপ, অস্বস্তি এবং ব্যথা অনুভব হলেই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ক্লান্তি: হার্টে সঠিক পরিমাণে রক্ত প্রবাহিত না হলে ক্লান্তি তৈরি হবে। যদি কোনো বিশেষ কারণ ছাড়াই আপনি সবসময় ক্লান্ত অনুভব করেন তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

মাথা ঘোরা ও ঠান্ডা ঘামের সমস্যা: যদি আপনার শিরায় কোনো বাধার তৈরি হয় তাহলে হৃদপিন্ডে সহজে রক্ত পৌঁছাতে পারবে না। ফলে তৈরি হয় ঠাণ্ডা ঘামের। এভাবেই শরীর চেষ্টা করে তাপমাত্রা খানিকটা কম রাখতে। পাশাপাশি রক্ত চলাচল কম থাকায় মস্তিস্কে রক্ত চলাচলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে করে মাথা ঘোরায় ক্রমাগত।

দুর্বলতা: ক্রমাগত দুর্বলতাও হার্ট অ্যাটাকের একটি লক্ষণ। আরো গভীরভাবে বলতে চাইলে, যখন আপনার শিরা সরু হয়ে যায়, তখন রক্ত ঠিকভাবে চলাচল করতে পারে না। ফলে মাংসপেশীর যা যা দরকার তা সে পায়না। স্বভাবতই দুর্বলতা তৈরি হয় শরীরে। তাই এমন বোধ হলে দ্রুতই কোনো ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।

ছোট ছোট লক্ষণগুলোকে অবহেলা না করে সেসব একটু গুরুত্ব সহকারে নিন। আর সাথে সাথে ডাক্তারের কাছে যান। হয়তো পুরোপুরিই রেহাই পাবেন হার্ট অ্যাটাকের মতো জীবননাশী একটি সমস্যার হাত থেকে।

 

০৯ জানুয়ারি, ২০১৭ ০৭:৪৫:১৮