ডায়বেটিসে আক্রান্ত হাজারো শিশু-কিশোর
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
ডায়বেটিসের কথা শুনলেই মনে হয় যে, এটা বোধহয় শুধু বড়দের অসুখ৷ কিন্তু আজকের দিনে সেটা মোটেই ঠিক কথা নয়৷ দিন দিনই বেড়ে চলেছে শিশু-কিশোর-কিশোরী ডায়বেটিস রোগীর সংখ্যা৷ জেনে নিন এর কারণ ও মুক্তির উপায়৷

ইনসুলিনের অভাব

ডায়বেটিস সাধারণত শরীরে ইনসুলিনের অভাব থেকে হয়৷ প্যানক্রিয়াস ইনসুলিন উৎপাদন করলেও অল্প বয়সিদের শরীরে হরমোনের সংবেদনশীলতা কমে গিয়ে গ্ল্যান্ডের কোষে সমস্যা দেখা দেয়৷ প্যানক্রিয়াসের গ্ল্যান্ড ইনসুলিনের সমতা রক্ষার চেষ্টা করেলেও, ইনসুলিনের মাত্রা বেশি থাকায় শরীরে যথেষ্ট চিনি যেতে পারে না৷ জানান জার্মানির শিশু ও ডায়বেটিস বিশেষজ্ঞ ডা. টোমাস ডান৷

ডায়বেটিস টাইপ-২

আগে ডায়বেটিসকে বয়স্কদের অসুখ বলা হয়ে থাকলেও, এখন আর তা বলা যায় না৷ সারা বিশ্বেই অসংখ্য শিশু-কিশোর ডায়বেটিস রোগে আক্রান্ত হচ্ছে৷ বিশেষ করে ডায়বেটিস টাইপ-২, অর্থাৎ যা কিনা মানুষের জীবনযাত্রা বা লাইফ স্টাইলের সাথে সম্পর্কিত৷ জার্মানিতে আনুমানিক পাঁচ হাজার শিশু-কিশোর ডায়েবেটিস টাইপ-২’তে আক্রান্ত৷

অতিরিক্ত খাওয়া-দাওয়া

অনেক শিশু বা কিশোর-কিশোরী ছোটবেলা থেকেই খুব খেতে ভালোবাসে আর সন্তান ভালোভাবে খাওয়া-দাওয়া করলে স্বাভাবিকভাবেই সব মা-বাবাই খুশি হন৷ এতে তাঁরা অনেকটাই নিশ্চিন্ত থাকেন যে, তাঁদের সন্তান ভালো আছে৷ কিন্তু এই খাওয়া কখন যে অতিরিক্ত পর্যায়ে চলে যায়, তা বেশিরভাগ সময়ই টেরই পাওয়া যায় না৷

যে অসুখ গোপনে আসে

অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে সন্তান ভালো থাকে৷ কিন্তু একটা পর্যায়ের পর যখন তারা আস্তে আস্তে ডায়বেটিসের দিকে ঝুঁকতে থাকে, তখন প্রথমদিকে ঠিকমতো বোঝা যায় না৷ কারণ এই রোগ শরীরে ব্যথা বা অন্য কোনোরকম সমস্যা না করেই গোপনে বাসা বাঁধে৷ তাই এ রোগকে ধরতে বা চিনতে অনেক মা-বাবাই সমস্যায় পড়ে যায়, জানান ডা. ডানে৷

শুধু মিষ্টি নয়, চর্বিও দায়ী

অনেকের ধারণা শুধু মিষ্টি খেলেই ডায়বেটিস হয়, যা পুরোপুরি ভুল৷ শিশু বয়সে ডায়বেটিস এড়ানোর জন্য প্রয়োজনের চেয়ে বেশি চর্বি জাতীয় ফাস্টফুড খাবার মোটেই খাওয়া উচিত নয়৷ তাছাড়া ফাস্টফুট থেকে শিশু-কিশোরদের সব সময় দূরে রাখা উচিত৷ এর সঙ্গে সঙ্গে শিশুর পর্যাপ্ত খেলাধুলাও করা দরকার৷ তা না হলে শরীরে শর্করার পরিমাণ বাড়তেই থাকবে৷

রোগ নির্ণয়

বাড়ন্ত অবস্থায় বেশি মোটা হলে অবশ্যই ডায়বেটিস পরীক্ষা করাতে হবে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে৷ এমনটা ঠিক সময়ে না করা হলে ‘কার্ডিওভাসকুলার’ রোগের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে৷ দেখা দিতে পারে নানা সমস্যাও৷ তাছাড়া শুধুমাত্র রোগ নির্ণয়ের পরই ডায়বেটিসের সঠিক চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব৷

খেলাধুলা

অল্প বয়সে ডায়বেটিস হলে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে৷ তাই খাওয়া-দাওয়া কমানো এবং স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের পাশাপাশি যথেষ্ট খেলাধুলা করা উচিত৷ সুন্দর আবহাওয়ায় বাইরে বা মাঠে এবং আবহাওয়া অনুকূল না থাকলে ‘ইনডোর’ খেলাধুলা করা যেতে পারে৷ এবং সেটা নিয়মিতই করা উচিত৷ তা না হলে সারাজীবনই ডায়বেটিসের মতো কঠিন রোগকে বয়ে বেড়াতে হবে৷

ডায়বেটিস টাইপ-১

ডায়বেটিস টাইপ-১ সাধারণত বংশোগত কারণে হয়ে থাকে৷ আর তা শুধু বড়দের ক্ষেত্রে নয়, শিশু-কিশোরদেরও হতে দেখা যাচ্ছে৷ যাতে শরীরে চিনির মাত্রা বেড়ে গিয়ে রক্তনালী, স্নায়ু ও অন্যান্য অঙ্গের ক্ষতি করতে পারে৷ এ সব ব্যাপারে সরাসরি ডায়বেটিস বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়৷ কারণ এক্ষেত্রে রোগীর শরীরে ইনসুলিনের মাত্রার ওপর অনেককিছুই নির্ভর করে৷

সন্তানকে সতর্ক করে দিন

যে ধরণের ডায়বেটিসই হোক না কেন, তা জানার পর সন্তানকে কোনো রকম ভয় না দেখিয়ে গল্পের ছলে ভালোভাবে বুঝিয়ে বলতে হবে যে তাদের পরবর্তী জীবনে ডায়বেটিসের কতটা প্রভাব ফেলবে৷ এতে করে কী কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে তাদের৷ তাছাড়া ভিটামিন-যুক্ত খাবার এবং খেলাধুলা সম্পর্কে সচেতন করতে হবে, পরামর্শ ডা. টোমাস ডানের৷

১০ জানুয়ারি, ২০১৬ ০৯:০৬:৩৮