মাত্র চারটি প্রশ্নেই শনাক্ত করা যায় অবসাদ
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
বিষন্নতা, ক্লান্তি, ইচ্ছাহীনতা, হতাশা এইসব বোধ থেকেই সৃষ্টি হয় অবসাদ বা ডিপ্রেশন৷ রবার্ট কখ ইন্সটিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, জার্মানির প্রতি চারজনের একজন মেয়ে ও প্রতি আট জনের একজন পুরুষ জীবনে অন্তত একবার ডিপ্রেশনে ভোগেন৷এঁদের মধ্যে বছরে কমপক্ষে ৯০০ জন আত্মহত্যার পথ বেছে নেন৷ তালিকার বাইরে এই সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি হবে৷ ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সিদের মধ্যে দুর্ঘটনার পরেই আত্মহত্যায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটে৷ জানিয়েছে জার্মানির ফেডারেল পরিসংখ্যান দপ্তর৷ এছাড়া এর প্রায় ১০ গুণ বেশি ঘটে আত্মহত্যার প্রচেষ্টা৷
প্রায় ক্ষেত্রেই এই ধরনের দুর্ভাগ্য এড়ানো সম্ভব
অথচ প্রায় ক্ষেত্রেই এই ধরনের দুর্ভাগ্য এড়ানো সম্ভব, যদি অবসাদগ্রস্ত মানুষদের সাহায্য করা যায়৷ এ জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত থেরাপি'৷ ডিপ্রেশনের গভীরতা মাপার জন্য ইন্টারনেটের মাধ্যমে পরীক্ষা করা যায়৷ এতে মানসিক অবস্থা যাচাই করার জন্য ২০টি প্রশ্ন রাখা হয়েছে৷ ডিপ্রেশনের রোগীদের (১৩ বছর বয়স থেকে) মানসিক অবস্থা ও পরিমাপ করা যায় এইসব প্রশ্নের মাধ্যমে৷
অংশগ্রহণকারীরা জানাতে পারেন গত দু'সপ্তাহে তাদের বিষন্নতা, হতাশা, ব্যর্থতার অনুভূতি, বিরক্তি, আনন্দহীনতা, অপরাধবোধ, অশান্তি, ইচ্ছাহীনতা, ক্লান্তি, যৌনতায় উৎসাহহীনতা, আত্মহত্যার চিন্তা ইত্যাদি অনুভূতি দেখা দিয়েছে কিনা৷
প্রতিটি প্রশ্নের চারটি সম্ভাব্য উত্তর দেওয়া থাকে৷ না' থেকে সবসময়'৷ এই পদ্ধতিতে কয়েক মিনিটের মধ্যে সংক্ষিপ্তভাবে রোগ নির্ণয় করা সম্ভব৷ ডিপ্রেশনের লক্ষণ বোঝা গেলে অনলাইন প্রোভাইডার সাধারণত চিকিৎসক বা থেরাপিস্টকে দেখানোর পরামর্শ দেয়৷
দ্রুত টেস্টে নিশ্চিত হওয়া
সম্প্রতি বার্লিনস্থ মাক্স প্লাঙ্ক ইন্সটিটিউটের কর্মীরা একটি দ্রুত টেস্টের প্রশ্নাবলী তৈরি করেছেন৷ যাতে মাত্র চারটি প্রশ্নের মাধ্যমে ডিপ্রেশনের পরিমাপ করা সম্ভব৷ টেস্টের প্রশ্নগুলি সহজ সরল হওয়ায় অংশগ্রহণকারীদের পক্ষে তা বোঝা ও যোগাযোগ করাও সহজ হয়''৷ ডয়চে ভেলেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান সমীক্ষাটির পরিচালক মিরিয়াম জেনি৷
এই প্রশ্নগুলি হলো:
আপনি কী এই সপ্তাহে আগের চেয়ে বেশি কেঁদেছেন?
আপনি কী এই সপ্তাহে নিজের ব্যাপারে হতাশ হয়েছেন বা নিজেকে ঘৃণা করেছেন?
আপনি কী এই সপ্তাহে বিশেষ নিরাশার দৃষ্টিতে ভবিষ্যতকে দেখেছেন?
আপনার কী এই সপ্তাহে নিজেকে একজন ব্যর্থ মানুষ বলে মনে হয়েছে?
এই প্রশ্নগুলির উত্তর হ্যাঁ' হলে বোঝা যাবে যে ডিপ্রেশনের লক্ষণ আছে৷ হাউস ফিজিশিয়ান তখন একজন বিশেষজ্ঞকে দেখাতে পরামর্শ দেবেন৷
চিকিৎসকদের পক্ষেও সুবিধাজনক
এই টেস্টে কম সময় লাগে বলে চিকিৎসকদের পক্ষেও দেখাশোনা করা সুবিধাজনক৷ ডাক্তারদের হাতে এখন আগের চেয়ে সময় কম৷ বিশেষ করে জরুরি অবস্থায় দ্রুত প্রশ্নোত্তরের ব্যবস্থা থাকাটা প্রয়োজন'', বলেন মিরিয়াম জেনি৷
১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সি ১৩০০ তরুণীর ওপর চালানো একটি সমীক্ষার ভিত্তিতে এই দ্রুত টেস্টের প্রশ্নগুলি করা হয়েছে৷ তাই শুধু এই বয়সি মেয়েদের জন্যই প্রযোজ্য এই প্রশ্নগুলি৷ মিরিয়াম জেনির ভাষায়, পুরুষদের জন্য আমাদের কিছুটা ভিন্ন ধরনের প্রশ্ন করতে হচ্ছে৷ বিশেষ করে কান্নার ব্যাপারে পুরুষদের ঘুরিয়ে প্রশ্ন করা প্রয়োজন৷ কেননা সামাজিকভাবে পুরুষরা কাঁদতে চান না বা কাঁদলেও স্বীকার করতে দ্বিধাবোধ করেন৷ তাই প্রশ্নগুলি বিভিন্ন গ্রুপের সঙ্গে খাপ খাইয়ে তৈরি করতে হচ্ছে৷''
তবে রোগের চূড়ান্ত শনাক্তকরণ এইসব প্রশ্নের মাধ্যমে সম্ভব নয়৷ এটা করতে পারেন কোনো মনঃরোগ বিশেষজ্ঞ বা থেরাপিস্ট'', বলেন মিরিয়াম জেনি৷ ।ডচভেলে।
১৩ অক্টোবর, ২০১৫ ০৮:৪৩:৩৫