কিডনির পাথর : সচেতনতা ও পরামর্শ
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
কিডনির রোগগুলোর মধ্যে পাথরজনিত রোগই সবচেয়ে বেশি৷ তাই কিডনিতে পাথর হওয়া বা হলে সেই কষ্টের কথা শোনেননি, এমন মানুষের সংখ্যা বোধহয় কম৷ খনিজলবণ এবং অ্যামিনো অ্যাসিড দিয়ে কিডনির পাথর তৈরি হয়৷ তবে পাথর হয়ে থাকে নানা কারণে৷ প্রস্রাব ঘন বা গাঢ় হলে খনিজগুলোকে দানা বাঁধতে সহায়তা করে বিভিন্ন উপাদান৷

বোঝার উপায়

কিডনির মধ্যে পাথর খানিকটা বড় হয়ে যখন বিচরণ করতে থাকে তখনই ব্যথা বাড়ে৷ তবে এমন পাথরও আছে যেগুলো চুপচাপ বসে থাকে৷ তাই শুধুমাত্র এক্সরে এবং আলট্রাসাউন্ডের মাধ্যমেই ধরা পড়ে এগুলি৷ এক্ষেত্রে ডাক্তাদের পরামর্শ, ব্যথা না করা পর্যন্ত নিয়মিত চেকআপ করানোর৷

পেটে ব্যথা

কিডনিতে জমে থাকা পাথর যখন আস্তে আস্তে মূত্রনালিতে চলে আসে, তখনই ব্যথা এবং অন্যান্য সমস্যা শুরু হয়৷ সাধারণত প্রস্রাব করার সময় হালকা ব্যথা হয়ে থাকে, এমনকি ছোট ছোট পাথরগুলো বের হয়েও আসতে পারে৷ তবে বড় পাথর মূত্রের রাস্তায় আটকে গিয়ে ‘রেনাল কলিক’ হতে পারে৷ এতে পেটে অসম্ভব ব্যথা হয়৷ সাথে বমি, ঘেমে যাওয়া, জ্বর ইত্যাদি হতে পারে৷ এমন হলে অবশ্যই ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে৷

পানি পান ও শরীরচর্চা

রোগী যদি বুঝতে পারেন যে তাঁর প্রস্রাবের সময় ব্যথা বা খোঁচা লাগছে, তাহলে ইউরোলজিস্ট-এর কাছে যেতে হবে৷ তিনি রক্ত, প্রস্রাব পরীক্ষা এবং আলট্রাসাউন্ড করার পর আপনাকে জানাবেন, কোন ধরনের পাথর হয়েছে এবং কী চিকিৎসা হওয়া প্রয়োজন৷ তবে চার মিলিমিটারের চেয়ে ছোট আকারের পাথর হলে, তা নিজে থেকে চলে যেতে পারে৷ অবশ্য এর জন্য রোগীকে নিয়মিত যথেষ্ট পরিমাণে পানি পান ও শরীরচর্চা করতে হবে৷

বড় পাথর

কিডনির পাথরে সাইজ যদি সাত মিলিমিটারের বেশি হয়, তাহলে সেটা নিজে থেকে বের হতে পারে না৷ সেক্ষেত্রে লেজার, এন্ডোসকোপি বা বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে পাথর গুড়ো বা ভেঙে ফেলা সম্ভব৷ এছাড়া খাবার-দাবারে পরিবর্তন এবং নানা রকম ওষুধের সাহায্যেও পাথর গলানো যায়, তবে সেটা সময়সাপেক্ষ৷ বলা বাহুল্য সব পাথর একই পদার্থের হয় না৷ তাই পাথরভেদে ওষুধ বা চিকিৎসার আশ্রয় নিতে হয়৷

সচেতনতা

কিডনিতে যাতে পাথর না হয় এবং যাঁদের পাথর বের করে ফেলা হয়েছে তাঁদের আবার যেন নতুন করে তেমনটা না হয়, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে৷ শুধু তাই নয়, তাঁদের জীবনযাত্রার মানেও পরিবর্তন আনতে হবে৷ সমীক্ষায় দেখা গেছে, শহরবাসীদের কিডনিতে পাথর বেশি হয়ে থাকে, বিশেষ করে যাঁরা সারাদিন বসে কাজ করেন৷ তাই হাঁটাচলা খুবই জরুরি৷

পরামর্শ

ইউরোলজিস্ট-এর পারামর্শ, অতিরিক্ত লবণ, লাল মাংস এবং চর্বিজাতীয় খাবার কম খেয়ে শাক-সবজি, ফলমূল ও আঁশযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া দরকার৷ পাশাপাশি প্রয়োজন হাঁটাচলা এবং শরীরচর্চা৷ তাছাড়া কিডনিতে কোনো সমস্যা মানেই প্রচুর পানি পান করতে হবে৷ একমাত্র তবেই কিডনিতে পাথর হওয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না৷


 

২৮ জুন, ২০১৫ ০৯:৫১:১০