নীরব ঘাতক সিজোফ্রেনিয়া
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস
অ+ অ-প্রিন্ট


সিজোফ্রেনিয়া একটি ভয়ানক মানসিক রোগের নাম। আমাদের দেশে মানসিক রোগকে সাধারণত কেউ পাত্তা দিতে চান না, যার কারণে একেবারে শেষ মুহূর্তে চিকিৎসা শুরু হয় মানসিক রোগের। কিন্তু মানসিক রোগটিকে অবহেলা করার কারণ বেশ মারাত্মক হতে পারে। বর্তমানে পুরো বিশ্বে শুধুমাত্র সিজোফ্রেনিয়াতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২ কোটির বেশি যার বেশীরভাগই মূলত অবহেলার শিকার। সাধারণ মানুষের গড় আয়ুর তুলনায় সিজোফ্রেনিয়াতে আক্রান্ত রোগীর আয়ু প্রায় ১৫-২০ বছর কম থাকে। অর্থাৎ সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হলে রোগীর মৃত্যু সাধারণ মানুষের তুলনায় বেশ আগে হয়। ২০-৪৫ বছর বয়েসি কিশোর-কিশোরী, নারী-পুরুষ যে কেউ এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। তাই প্রাথমিক লক্ষণ দেখার সাথে সাথেই শরণাপন্ন হওয়া উচিত মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের কাছে। সামান্য অবহেলা মৃত্যু ডেকে আনে, সুতরাং অবহেলা নয় মোটেই। জেনে নিন সিজোফ্রেনিয়া রোগের প্রধান লক্ষণগুলো।

সিজোফ্রেনিয়া রোগের লক্ষণগুলো মূলত ৩ ভাবে প্রকাশ পায়-

চিন্তার মধ্যে অসংলগ্নতা

১) মনে অযথা সন্দেহ আসা

সন্দেহ মানুষ মানুষকে করতেই পারে, কিন্তু এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়া মানুষকেও সন্দেহ করতে থাকেন। তারা ভাবতে থাকেন সবাই তাকে নিয়ে মজা করছে, সমালোচনা করছে কিংবা বিশেষ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন।

২)ভুল জিনিসে দৃঢ় বিশ্বাস করা

সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তি অহেতুক এবং অবাস্তব জিনিসকে সত্য ভাবতে থাকেন, যেমন:

- সবাই তার ক্ষতি করছে

- খাবারে বিষ মেশানো রয়েছে

- তিনি না বললেও কেউ তার মনের গোপন কথা জেনে যায় ভাবেন

- তাকে অন্য কেউ নিয়ন্ত্রণ করছে ভাবতে থাকা

- স্বপ্নের মধ্য দিয়ে বিশেষ ক্ষমতা লাভ করছেন ভাবা ইত্যাদি

আচরনগত সমস্যা

১) হুট করেই তুমুল হাসি আবার কোনো কারণ ছাড়াই কান্না করা

২) খুব বেশি রেগে বা উত্তেজিত হয়ে মারতে যাওয়া

৩) মানুষের সাথে একেবারেই মিশতে না চাওয়া

৪) আত্মহত্যার চেষ্টা করা কোনো কারণ ছাড়াই

৫) এক স্থানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাড়িয়ে থাকা

৬) আগে একেবারেই যা করতেন না সে ধরনের আচরণ করতে থাকা

৭) পাবলিক স্থানে গায়ের কাপড় খুলে ফেলার চেষ্টা করা

অনুভূতি বিষয়ক সমস্যা

১) কথা-বার্তা শুনতে পাওয়া যদিও কেউ তার সাথে কথা বলছেন না। সিজফ্রেনিয়ার রোগীরা মানুষের কথা শোনেন তার সাথে কেউ কথা না বললেও এমনকি পশুপাখির আওয়াজ শুনতে থাকেন। একারণে মাঝে মাঝে কানে তুলো বা আঙুল দিয়ে বসে থাকেন।

২) গায়ে পোকামাকড়ের হাঁটার অনুভূতি পান, তারা মনে করেন চামড়ার নিচে কি যেনো হেঁটে চলেছে।

৩) বিশেষ কোনো কিছুর গন্ধ পেতে থাকা যদিও অন্যেরা কেউই পাচ্ছেন না।

উপরের লক্ষণগুলো যদি কারো মধ্যে ৬ মাসের বেশি দেখতে পাওয়া যায় তাহলে তিনি সিজোফ্রেনিয়াতে আক্রান্ত। তবে ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ এবং আপনজনের মায়া-মমতাতে রোগী অনেক ক্ষেত্রেই সুস্থ হয়ে যান। সুতরাং অবহেলা নয় একেবারেই।

 


০১ জুন, ২০১৫ ১২:৫০:২৮