সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর সাতটি শখ
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
অনেকেই শখ করে বাগান বা খেলাধুলা করেন কিংবা গান গেয়ে থাকেন৷ এ রকমই কিছু হবি বা শখ সম্পর্কে জেনে নিন, যেগুলো শুধু আনন্দই দেয় না, নানা রোগ সারাতে ওষুধের মতো কাজ করে৷ 

বাগান করা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়

দিনে মাত্র ৩০ মিনিট বাগানে কাজ করলে ইমিউন সিস্টেম সক্রিয় হয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়৷ পাশাপাশি স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের মাত্রা যেমন কমায়, তেমনি হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও কমায় শতকরা ৩০ ভাগ৷ এই তথ্য জানা যায়, স্টকহোমের ক্যারোলিন্সকা ইন্সটিটিউটের করা এক সমীক্ষার ফলাফল থেকে৷

নাচুন, আনন্দে থাকুন

সালসা, ট্যাঙ্গো কিংবা ফ্রি স্টাইল নাচ – যে নাচই হোক না কেন, সপ্তাহে তিন দিন মাত্র ২০ মিনিটের নাচ মনকে যেমন ভালো রাখে, তেমনি শরীরের ভারসাম্যকেও ঠিক রাখে৷ তাছাড়া নাচের নতুন নতুন মুদ্রা শেখার মধ্য দিয়ে মস্তিষ্কের নার্ভে বিশেষ কোষ তৈরি হয়, যা মস্তিষ্ককে সচল রাখে৷ আরো আছে৷ নিয়মিত নাচ ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমায় শতকরা ৭৬ ভাগ৷

ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে ‘উল’ বুনুন

উল বোনা এমন এক বিশেষ থেরাপি, যা কিনা যে কোনো দুশ্চিন্তা বা ব্যথাকে ভুলে থাকতে সাহায্য করে৷ যাঁদের নিয়মিত ব্যথা হয়, তাঁরা নিয়মিত উল বুনলে তা ব্যথাকে ধীরে ধীরে কমে যেতে সাহায্য করবে৷ শুধু তাই নয়, উল বোনায় ডিপ্রেশনও কমে শতকরা ৫৪ ভাগ৷ একটি ব্রিটিশ গবেষণার ফলাফল থেকে এই তথ্য জানা গেছে৷

খেলাধুলা ও ব্যায়াম

খেলাধুলা বা ব্যায়াম একজন মানুষকে তরুণ রাখে, এ আর নতুন কী! তবে নিয়মিত খেলাধুলা ও ব্যয়াম শরীরকে সচল রাখা ছাড়াও মেনোপজ বা হট ফ্লাশের সমস্যাকেও দূরে রাখে৷ তাছাড়া ঘুমের সমস্যা, মাথা ব্যথা, মেজাজ ওঠা-নামা এমনকি হাড়ের ঘনত্ব বেড়ে যাওয়াকেও দমন করে নিয়মিত শরীরচর্চা৷

প্রাণী পোষা

বাড়িতে কুকুর, বেড়াল, মাছ, কচ্ছপ বা পাখির মতো ছোট প্রাণী পুষলে বা দেখাশোনা করলে মানুষের আয়ু দশ বছর পর্যন্ত বাড়তে পারে – এমন তথ্য অনেক আগেই এসেছে গবেষণা থেকে৷ বাড়িতে পোষা প্রাণীকে আদর করার মধ্য দিয়ে ‘সুখ হরমোন’ বেড়ে যায় এবং উচ্চ রক্তচাপ কমে৷

‘গান’ ভয় ও ডিপ্রেশন দূরে রাখে

সবাইকে যে গায়ক-গায়িকা হতে হবে এমন তো কোনো কথা নেই৷ ঘর গোছানো, বাসন ধোয়া কিংবা কাপড় ইস্ত্রি করার সময়ও মনের সুখে গান গাইতে পারেন যে কেউ৷ আর বাথরুম সিঙ্গার তো অনেকে আছেনই৷ গান গাওয়ার সময় শরীরের ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী হয়৷ এবং শরীরের প্রোটিন অণুগুলো তখন সক্রিয় হয়ে ওঠে৷ যার ফলে ভয় ও ডিপ্রেশন দূরে সরে যায়৷ কার্ডিফের টেনোভাস ক্যানসার কেয়ারের করা এক সমীক্ষা থেকে জানা গেছে এই তথ্যটি৷

ডায়েরি লিখতে পারেন

আপনার কি ডায়েরি লেখার অভ্যাস আছে? সারাদিনের দুঃখ, কষ্ট, আনন্দ সবকিছু যদি ডায়েরিতে লিখে রাখেন এবং পরে সে লেখা পড়েন, তাহলে কেটে যাওয়া ক্ষত বা অপারেশনের ক্ষতও তাড়াতাড়ি সেরে যেতে পারে৷ এবং ডায়েরি লেখা স্ট্রেসের মাত্রা কমিয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সহযোগিতা করে৷ ডায়েরি লেখার উপকারিতা নিয়ে এই গবেষণাটি করেছিল নিউজিল্যান্ডের নটিংহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়৷ -ডয়চেভেলে

২৩ জুন, ২০১৮ ১৩:৪৯:০৮