পঙ্গুদের গ্রাম
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
যুদ্ধের পর পড়ে থাকা স্থলমাইনের আঘাতে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ হারিয়েছেন ইরাকের জুরফ আল-মিল গ্রামের শতশত বাসিন্দা৷ ফলে গ্রামটি এখন পঙ্গুদের গ্রাম নামে পরিচিত৷

পরিচিতি

ইরাকের বসরা শহরের পূর্বের একটি গ্রাম জুরফ আল-মিল৷ তবে সেখানে অঙ্গপ্রত্যঙ্গহীন মানুষের সংখ্যা এত বেশি যে, স্থানীয়ভাবে সেটি ‘আল বিট্রান’ নামে পরিচিত পেয়েছে৷ আল বিট্রান মানে হচ্ছে পঙ্গু৷

কারণ স্থলমাইন

যুদ্ধের সময় ইরানিরা বিমান থেকে ঐ গ্রামে বোমাবর্ষণ করলে অনেকে পালিয়ে অন্য জায়গায় চলে গিয়েছিলেন৷ পরে ফিরে আসেন৷ তবে তাঁরা জানতেন না যে, তাঁদের গ্রামের আশেপাশে স্থলমাইন পোঁতা আছে৷ ফলে অনেক গ্রামবাসী মেষ চড়াতে গিয়ে এসব মাইনের বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন৷ ছবিতে এক পঙ্গু দম্পতিকে দেখা যাচ্ছে৷

সামরিক সরঞ্জামের অংশবিশেষ

যুদ্ধের পর গ্রামবাসীরা তাঁদের এলাকায় বেশ কিছু সামরিক কামান, বন্দুক ইত্যাদি পড়ে থাকতে দেখেন৷ ১৯৯১ সালে কুয়েত দখল করার কারণে ইরাকের উপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা নেমে এলে দারিদ্র্য দেখা দেয়৷ তখন গ্রামবাসীরা পড়ে থাকা ঐ সামরিক সরঞ্জামাদির অংশবিশেষ সংগ্রহ করে সেগুলো বিক্রি করে জীবন চালাতেন৷ কিন্তু তা করতে গিয়েও অনেকে হাত-পা হারান৷

আন্তর্জাতিক সহায়তা

দক্ষিণ ইরাকে পঙ্গুদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক রেডক্রসের সহায়তায় ১৯৯৫ সালে সেখানে কৃত্রিম হাত-পা তৈরির একটি ওয়ার্কশপ চালু হয়৷ সেখানে আল বিট্রান গ্রামের পঙ্গু ছাড়াও অন্যান্য কারণে পঙ্গু হওয়াদের জন্যও কৃত্রিম অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বানানো হয়৷

মাইন সরানো শুরু হয়েছে

অবশেষে শিয়া একটি আধা সামরিক বাহিনী বুলডোজার ও অন্যান্য বিশেষ যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে আল বিট্রানের আশেপাশের এলাকা মাইনমুক্ত করার কাজ শুরু করেছে৷

যুদ্ধের পরিণতি

১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত যুদ্ধে লিপ্ত ছিল ইরাক আর ইরান৷ সেই সময় হতাহতের ঘটনা তো ঘটেছেই৷ তবে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে৷ হারাতে হয়েছে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ৷ -ডয়েচেভেলে

০৩ মে, ২০১৮ ১০:৩১:৫৮