এসো গাছ লাগাই পরিবেশ বাঁচাই
ডা. ফারহানা মোবিন
অ+ অ-প্রিন্ট


ছোট্ট বন্ধুরা, প্রকৃতিতে এসে গেছে বর্ষার মৌসুম। এই সময় যখন তখন ঝরতে থাকে বৃষ্টি বিন্দু। মেঘ হয়ে যায় নীল আকাশের বন্ধু। এই সময়টা হলো গাছ লাগানোর উপযুক্ত সময়। তোমরা সবাই জানো যে, গাছ আমাদের ভীষণ উপকারী বন্ধু। আমাদের বেঁচে থাকার জন্য ভীষণ জরুরী হলো অক্সিজেন। নাক দিয়ে আমদের দেহের ভেতরে প্রবেশ করাই, আর নিঃশ্বাসে ছেড়ে দেবার সময় কার্বন-ডাই-অক্সাইড নামক গ্যাস আমরা নাক দিয়ে দেহের বাহিরে বের করে দিই। এই জরুরী অক্সিজেন গ্রাস আমরা পাই গাছ থেকে। গাছ প্রতিনিয়ত আমাদের জন্য অক্সিজেন গ্যাস সরবরাহ করে। এই অক্সিজেন গ্যাসে বেঁচে থাকার জন্য আমাদের ভীষণ দরকারী। আর গাছের জন্য কার্বন-ডাই-অক্সাইড হলো ভীষণ জরুরী উপাদান। কিন্তু আমাদের জন্য কার্বন-ডাই-অক্সাইড হলো ভীষণ ক্ষতিকর গ্যাস। তাই যতো বেশী গছ লাগানো যাবে, ততো বেশী পরিমাণে কার্বন-ডাই-অক্সাইড পরিবেশে (আমাদের চারিপাশে) কমতে থাকবে। বন্ধুরা, তোমরা জানো পরিবেশ দূষণ, কল-কারখাানার আবর্জনা, আমাদের চারিপাশকে কলুষিত করে দিচ্ছে। রোগ-জীবাণু বাসা বাঁধছে অকালেই আমাদের দেহে। পরিবেশকে দূষিত করার জন্য অনেকগুলো ক্ষতিকর গ্যাস দায়ী। তার মধ্যে কার্বন-ডাই-অক্সাইড হলো অন্যতম। এই গ্যাস গাছের বেঁচে থাকার জন্য যথেষ্ট জরুরী। তাই যতো বেশী গাছ লাগানো যাবে পরিবেশে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ ততোই কমতে থাকবে। আর গাছ ততোবেশী পরিমাণে অক্সিজেন সরবরাহ করবে। যা বেঁচে থাকার জন্য আমদের ভীষণ দরকার। এতে মানুষ সুস্থ-সবলভাবে বাঁচবে। আর পরিবেশ দূষণের হার কিছুটা হলেও কমবে। ছোট্ট বন্ধুরা পরিবেশ বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে জেনেছেন যে, পরিবেশ দুষণ, ভূমিকম্প রোধ করার জন্য প্রচুর পরিমাণে গাছ লাগাতে হবে। শুধু বড়রা কেন তোমরাও এগিয়ে আসো। খেলা করার জন্য তোমরা মাটিতে গর্ত করো। এরকম গর্তের মধ্যে বুনে দাও স্বপ্নের চার। আর সেই স্বপ্নের চারা বটবৃক্ষের মতো আলো, বাতাস দিয়ে মুগ্ধ করে দিক সবাইকে। গাছ লাগানোর জন্য ফুলের বাগান ছাড়া হবেনা, এমনটি নয়, যেখানে সুযোগ ও মাটি পাবা, সেখানেই গাছ লাগাও। সম্ভব হলে তোমার বাসার ফুলের টবেই লাগাও নানান রকমের গাছ। যে কোন গাছই পরিবেশে অক্সিজেন দেয়। এই অক্সিজেন ছাড়া মানব জীবন অচল। আমাদের দেশে জনবসতি বেড়ে যাবার জন্য হারিয়ে যাচ্ছে পুকুর, নদীনালা, গাছপালা। মানুষ বেড়ে যাওয়ায় বাড়ছে প্রকৃতিতে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ। কারণ আমরা নাক দিয়ে বাতাস ছেড়ে দেওয়ার সময় কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে বাইরে বের করে দিই। তাই জনসংখ্যা কমানোর সাথে সাথে গাছ লাগাতে হবে। তোমরা যদি ছোট থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত গাছ লাগাও তাহলে চিন্তা করে দেখো কতগুলো গাছ হবে। প্রকৃতিতে বেড়ে যাবে কতগুলো গাছ। তোমাদের খেলনা, স্টীকার, বেলুন, গেম প্লেয়ার তোমরা যেমন যতেœ রাখো, তেমনি শুধু বাসার ভেতরে না, পুরো প্রকৃতিকে সুন্দর করার চিন্তা তোমাদের করতে হবে। প্রকৃতি সুন্দর হলে উপকৃত হবে পুরো দেশ, জাতি। তাই তোমরা প্রচুর পরিমানে গাছ লাগাও। আর এই মৌসুমটা হলো গাছ লাগানোর শ্রেষ্ঠ সময়। বন্ধুরা, ছোট্ট বেলা থেকে তোমরা হও প্রকৃতি প্রেমী। তোমার আর আমাদের সবার উদ্যোগে প্রকৃতি হয়ে উঠুক সবুজময়। সবুজের মাঝে হারিয়ে যাক ভূমিকম্প, খরা, মঙ্গা, সিডর নামের খারাপ শব্দগুলি। শুধু আমাদের দেশ নয়, পুরো পৃথিবী হোক সবুজময়, ভরে যাক গাছের মেলা প্রকৃতি ভরে উঠুক পরিপূর্ণ অক্সিজেনে। এসো বন্ধুরা, “আমরা গাছ লাগাই, পরিবেশ বাঁচাই। প্রকৃতিকে করে তুলি সুস্থ সবুজ। সেই সুস্থ সবুজে আমাদের জীবন হবে নির্মল সুন্দর।” ডা. ফারহানা মোবিন এমবিবিএস, পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন (পাবলিক হেল্থ), রেসিডেন্ট মেডিকেল অফিসার (গাইনী এন্ড অবস্), স্কয়ার হাসপাতাল। ডায়াবেটোলোজি, বারডেম হসপিটাল। সি-কার্ড (ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন এন্ড রিসার্চ ইন্সটিটিউ, ঢাকা, বাংলাদেশ)


০৩ জুলাই, ২০১৭ ১০:৩১:৩১