রোবট যখন ‘মানুষ' হয়ে উঠছে
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
রোবট নিয়ে মানুষের আগ্রহের শেষ নেই৷ সেই মধ্যযুগ থেকেই মানুষ রোবট বানিয়ে চলেছে৷ প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে মানুষ ও যন্ত্রের মধ্যে ফারাক কমে চলেছে৷ প্রশ্ন হলো, এর পরিণাম কী হবে? তারা কথা বলতে পারে, মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে পারে৷ মানুষের চেহারা নকল করতে পারে৷ আর কিছু রোবট তো অবিকল মানুষের মতোই দেখতে৷ লন্ডনের বিজ্ঞান মিউজিয়ামে দর্শকরা যান্ত্রিক মানুষের এইসব গুণাগুণ পরখ করে দেখতে পারেন৷ এই অভিজ্ঞতা সত্যি অসাধারণ৷ সেখানে ‘রোবোথেসপিয়ান' নামের অভিনেতা রোবট সবাইকে বলে, ‘‘যান্ত্রিক মানুষের মুখোমুখি হতে চিরকালই একটু ভয় করে৷ কয়েক শতক ধরে প্রত্যেক প্রজন্মের নিজস্ব অভিজ্ঞতা হয়েছে৷ প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে নতুন ধরনের রোবট তৈরি হয়েছে৷ রোবটদের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা না থাকার একটা অস্বস্তি আমাদের, মানে আপনাদের মধ্যে কাজ করে৷''

স্বয়ংক্রিয় অভিনেতা রোবোথেসপিয়ান প্রদর্শনীর প্রধান আকর্ষণগুলির অন্যতম৷ সে মানুষের মতো দেখতে ‘হিউম্যানয়েড' রোবট৷ লন্ডনের বিজ্ঞান মিউজিয়ামে শুধু ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স' বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ‘রোবট' নামের একটা আস্ত প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে৷ একশ'রও বেশি রোবট সেখানে উপস্থিত৷ প্রদর্শনীর কিউরেটর অ্যানা ড্যারন বলেন, ‘‘বিশেষ করে বিনোদনের জন্য হিউম্যানয়েড রোবট কাজে লাগানোর তাগিদ দেখা যায়৷ যান্ত্রিক মানুষ তৈরি করার একটা আলাদা আনন্দও বোধহয় আছে৷ প্রযুক্তির উন্নতি তুলে ধরার এটাও একটা উপায়৷ মানুষের শরীর অত্যন্ত জটিল৷ তাই প্রযুক্তির সাহায্যে তার নকল করা চিরকাল মানুষের সামনে চ্যালেঞ্জ ছিল৷''

‘রোবটস' মানুষের মতো দেখতে রোবট-দের সবচেয়ে বড় প্রদর্শনী৷ এমনকি মধ্যযুগের শেষের দিকের কিছু প্রাথমিক মডেলও সেখানে শোভা পাচ্ছে৷ যেমন ষোড়শ শতাব্দীর প্রার্থনারত সন্নাসী৷ অ্যানা ড্যারন জানালেন, ‘‘মূলত ঘড়ির যান্ত্রিক কাঠামোর ভিত্তিতেই সেগুলি নড়াচড়া করতো৷ অর্থাৎ, প্রত্যাশা অনুযায়ী একভাবেই চলতো৷ বাস্তব জগতের মতো প্রতিক্রিয়া ছিল না৷ কিন্তু তার ভিত্তিতেই আধুনিক যুগের অনেক রোবট তৈরি হয়েছে৷''

বর্তমানেও রোবট প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের প্রতীক৷ বাস্তবের সঙ্গে আশ্চর্য মিলের কারণে জাপানের রোবট-মেয়ে ‘কোডোমোরয়েড' বিশেষভাবে নজর কাড়ে৷ প্রথমবার সেটি দেশের বাইরে দেখানো হচ্ছে৷ শিল্প থেকে গবেষণা – বিভিন্ন ক্ষেত্রে আধুনিক রোবট কাজে লাগানো হয়৷ কখনো খেলনা হিসেবে, এমনকি মঞ্চের তারকার রূপেও৷ দেখতে অত্যন্ত সহজ মনে হলেও তাদের কাজ রোবট ইঞ্জিনিয়ারদের বহু বছরের পরিশ্রমের ফসল৷ রোবট ইঞ্জিনিয়ার উইল জ্যাকসন বলেন, ‘‘এই রোবটে ১২,০০০ যন্ত্রাংশ রয়েছে৷ আমাদের প্রত্যেকটি তৈরি করতে হয়৷ একটি বিকল হলে কিছুই চলে না৷ তাই বিষয়টি অত্যন্ত জটিল৷''

শিল্পীরাও চিরকাল মানুষ ও যন্ত্রের সম্পর্ক নিয়ে আগ্রহী৷ কল্পবিজ্ঞান ছায়াছবিতে মানুষের স্বপ্ন ও ভয়ের প্রতিফলন দেখা যায়৷ যতই চমকপ্রদ, সুন্দর অথবা ভয়ঙ্কর দেখত হোক না কেন, গবেষণার ক্ষেত্রে একটি দায়িত্ব কাজ করে৷ ভবিষ্যতের রোবট কী করতে পারবে, তা নির্ণয় করতে হয়৷ প্রদর্শনীর কিউরেটর অ্যানা ড্যারন বলেন, ‘‘এই প্রযুক্তি সমাজের উপকার করবে, এছাড়া তার পরিণতি নিয়েও ভাবতে হয়৷ রোবট নিয়ে কেমন ভবিষ্যৎ আমরা চাই, সেটা জানা জরুরি৷ শুধু হিউম্যানয়েড রোবট নয়, সব রোবট প্রযুক্তি নিয়েই সেটা করতে হবে৷''

আমাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা, ভয় ও স্বপ্নের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে রোবট যন্ত্রই থেকে যাবে৷ তবে মানুষ ও রোবটের মধ্যে সীমা কমেই চলেছে৷

 

১১ এপ্রিল, ২০১৭ ০৮:২৬:৪৯