স্তণ্যপায়ীদের অর্ধেকেরও বেশি বিলুপ্তির মুখে!
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
মানুষের বাইরে কোনো স্তন্যপায়ী প্রাণির অস্তিত্বহীন পৃথিবীর ভবিষ্যত কল্পনা করাও সম্ভব নয়। কিন্তু বনমানুষ, বানর, টার্সিয়ার, লেমুর এবং লরিস জনসংখ্যার ওপর বিস্তৃত পরিসরের পর্যবেক্ষণ থেকে দেখা গেছে, সব স্তন্যপায়ীদের প্রায় ৬০ শতাংশই এখন বিলুপ্তির মুখে রয়েছে।

আর ৭৫ শতাংশই সংখ্যায় কমে আসছে। 

সায়েন্স অ্যাডভান্সেস নামের জার্নালে এ সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে দেখা যায়, আমাদের মানুষদের সবচেয়ে কাছের জৈবিক আত্মীয়দের ভবিষ্যত ফিকে হয়ে আসছে। একমাত্র বিশ্বব্যাপী বিশেষভাবে সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেই তাদেরকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। 

কনজারভেশন ইন্টারন্যাশনাল এর সভাপতি রাসেল মিটারমেইয়ার বলেন, “এমনকি আমাদের জীবদ্দশাতেই হয়তো কিছু কিছু স্তন্যপায়ী প্রাণি বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। যদিনা আমরা সেসবকে রক্ষায় নাটকীয়ভাবে আমাদের প্রচেষ্টা বাড়াই। ”

উল্লেখ্য, মাদাগাস্কার, ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া এবং গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো এই চারটি দেশেই বিশ্বের দুই তৃতীয়াংশ স্তন্যপায়ী প্রজাতির প্রাণিদের বাস। স্তন্যপায়ী প্রাণিদের বেশিরভাগই মূলত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘণবর্ষণ বনাঞ্চলের বাসিন্দা। আর এই দেশগুলোতেই এই ধরনের আবাসস্থল বেশি আছে। কিন্তু বিশ্বব্যাপী এই ধরনের আবাসস্থলের পরিমাণ কমে আসছে। 

বানরের একটি প্রজাতি ইতিমধ্যেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এটির নাম মিস ওয়ালড্রোন’স রেড কলোবাস মাঙ্কি। সর্বশেষ ১৯৭৮ সালে এ প্রজাতির বানরদের দেখা গেছে। 

নতুন এই গবেষণার প্রধান গবেষক আলেজান্দ্রো এস্ত্রাদার সহকারি গবেষক পল গার্বার বলেন, লেমুর, বানর ও বন মানুষের কয়েকটি প্রজাতি- গোল লেজের লেমুর, উডজুঙ্গা রেড কলোবাস মাঙ্কি, ইউনান স্নাব-নোজড মাঙ্কি, সাদা মাথার লেঙ্গুর এবং গ্রৌয়ারস গরিলাদের মাত্র কয়েকহাজার সদস্য বেঁচে আছে। 

চীনের বনমানুষদের একটি প্রজাতি হাইনান গিবনের মাত্র ৩০টি সদস্য বেঁচে আছে। 

বিপরীতে স্তন্যপায়ী প্রাণিদের মধ্যে একমাত্র মানুষদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি- প্রায় ৭৪০ কোটি। আর আমাদের মানুষদের কর্মকাণ্ডই অন্য স্তন্যপায়ী প্রাণিদের বিলুপ্তির প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে। 

বন উজাড় করে কৃষি জমি তৈরি, বন থেকে কাঠ সংগ্রহ এবং গবাদি পশুর চাষ এবং শিকার ও ফাঁদে ফেলে আটকই এই স্তন্যপায়ী প্রাণিদের  বিলুপ্তির প্রধান কারণ। 

এছাড়া সড়ক ও রেলপথ নির্মাণ, তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান এবং খনি খনন, বায়ু দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উপযুক্ত আবাস স্থল হারানোর কারণেও স্তন্যপায়ী প্রাণিরা বিলুপ্তির হুমকিতে রয়েছে। 

এই হুমকি মোকাবেলায় স্থানীয় দারিদ্র দূরীকরন এবং জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলোও বিবেচনা করে দেখতে হবে। 

এছাড়া এমন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে যাতে বনাঞ্চল এবং স্তন্যপায়ী প্রাণিদের আবাসস্থল সংরক্ষণ করা যায়। আর নারীদের জন্য শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে হবে। 

কিন্তু এসব সমাধান বাস্তবায়ন করতে যতদিন সময় লাগবে ততদিনে হয়তো স্তন্যপায়ী প্রাণিরা সব বিলুপ্ত হয়ে যাবে। কারণ সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। 

মাদাগাস্কারে স্তন্যপায়ী প্রাণিদের ১১১টি প্রজাতি ও উপপ্রজাতির বাস রয়েছে। যার ৯৪ শতাংশই বিলুপ্তির হুমকিতে রয়েছে। দেশটি ৯ কোটি বছর আগে পৃথিবীর বাকি ভূখণ্ডগুলো থেকে আলাদা হয়ে যায়। ফলে সেখানে নানা পরিবেশগত প্রয়োজনীয়তার নিরিখে বিবর্তনের মাধ্যমে স্তন্যপায়ী প্রাণিদের বিকাশ ঘটে। 

সূত্র: লাইভ সায়েন্স

২৪ জানুয়ারি, ২০১৭ ১৫:৩৩:৪৭