যে ২৫টি বিলুপ্ত প্রাণি ফিরিয়ে আনতে চাইছেন বিজ্ঞানীরা
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
গত কয়েক হাজার বছরে পৃথিবী থেকে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণি নানা কারণে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। অনেক সময় জলবায়ুর নাটকীয় পরিবর্তনের ফলে এমনটা ঘটেছে। আবার অনেক সময় মানুষের হস্তক্ষেপে নানা প্রাণি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। 

বিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে, বিশেষ করে জৈবপ্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির ফলে বিলুপ্ত হওয়া প্রাণিদের বেশ কয়েকটিকে পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব। যেমন হাতির মাধ্যমে লোমবহুর ম্যামথ ফিরি আনা যাবে। আ

এ ক্ষেত্রে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া একটি প্রাণির সমজাতীয় প্রজাতির প্রাণি বেঁচে থাকলে সেটিকে ফিরে আনা সহজ হবে। এ ক্ষেত্রে অবশ্য প্রাণিটি কতটা আকাঙ্খনীয় বা এর পরিবেশগত উপযোগীতা আছে কিনা এবং মানুষেরা প্রাণিটিকে ভালোবাসে কিনা তাও বিবেচনায় রাখা হবে। আর প্রাণিটির জন্য উপযোগী আবাসস্থল আছে কিনা তাও বিবেচনায় রাখা হবে। আর এই ক্ষেত্রে ডাইনোসরের মতো প্রাণিকে পুনরুজ্জীবিত করার সম্ভবানাই সবচেয়ে কম। কারণ ডাইনোসর এই সবগুলো বিবেচনায়ই পিছিয়ে রয়েছে। যে ২৫টি প্রাণিকে ফিরিয়ে আনার চিন্তা করছেন বিজ্ঞানীরা:যে ২৫টি বিলুপ্ত প্রাণি ফিরিয়ে আনতে চাইছেন বিজ্ঞানীরা

১. কাস্পিয়ান টাইগার

এক সময় এই প্রাণিটির বিচরণ ছিল মধ্য এশিয়া, ইরান, ইরাক এবং পশ্চিম চীনজুড়ে। কিন্তু ১৯৬০ সালে এই প্রাণিটি বিলুপ্ত হয়ে যায়। এর প্রায় সমজাতীয় প্রাণি সাইবেরিয়ান টাইগারকে এর পুরোনো আবাসস্থলে পুনঃপ্রবর্তন করা হবে।

২. অরোক

এই প্রাণিটি গৃহপালিত গবাদি পশুর পুর্ব-পুরুষ। ইউরোপ, এশিয়া এবং উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ছিল এর বাস। বিজ্ঞানীরা এই প্রাণিগুলো ফিরিয়ে আনতে চাইছেন এমন কিছু নির্দিষ্ট গবাদি পশুর গণ প্রজননের মাধ্যমে যারা অরোক এর ডিএনএ বহন করছে। ২০০৯ সাল থেকেই ইউরোপের বিজ্ঞানীরা এই জাতীয় প্রণিদের প্রজনন শুরু করেছে। যে ২৫টি বিলুপ্ত প্রাণি ফিরিয়ে আনতে চাইছেন বিজ্ঞানীরা

৩. ক্যারোলিনা টিয়া

উজ্জ্বল হলুদ মাথা এবং কমলা রঙের চেহারাধারী ছোট সবুজ টিয়া এটি। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলের স্থানীয় বাসিন্দা ছিল। ১৯০৪ সালে এরা বিলুপ্ত হয়ে যায়। তবে এদের জিন বহনকারী পাখি রয়েছে মেক্সিকো এবং ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে।

৪. কিউবান কাকাতুয়া

মানুষের আগ্রাসনে ১৮৮৫ সালে বিলুপ্ত হয়। 

৫. ডোডো পাখি

বিলুপ্ত হওয়া প্রাণিদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়। মরিশাসের বাসিন্দা ছিল এই প্রাণি। যে ২৫টি বিলুপ্ত প্রাণি ফিরিয়ে আনতে চাইছেন বিজ্ঞানীরা

৬.লোমবহুল ম্যামথ

৪ হাজার বছর আগে আর্কটিক মহাসাগরের র‌্যাঙ্গেল দ্বীপে সর্বশেষ এই প্রাণিটি দেখা যায়।যে ২৫টি বিলুপ্ত প্রাণি ফিরিয়ে আনতে চাইছেন বিজ্ঞানীরা

৭. ল্যাব্রাডোর হাঁস

১৮৫০ থেকে ১৮৭০ সালের মধ্যে এই প্রাণিটি বিলুপ্ত হয়। মানুষের খেয়ে খেয়ে শেষ করে ফেলে প্রাণিটিকে।যে ২৫টি বিলুপ্ত প্রাণি ফিরিয়ে আনতে চাইছেন বিজ্ঞানীরা

৮. পশমী রাইনোসেরোস

ইউরোপ এবং এশিয়াজুড়ে এদের বিচরণ ছিল। বরফযুগে এরা দাপিয়ে বেড়াত। মানুষের আগ্রাসনে এরা বিলুপ্ত হয়।

৯. হিথ হেন

উত্তর আমেরিকার উপকূলজুড়ে ১৯৩২ সাল পর্যন্ত পাওয়া যেত এই মুরগী। মানুষেরা খেয়ে শেষ করেছে। 

১০. হাতির-দাঁত কাঠঠোকরা

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বের “ভার্জিন ফরেস্টে” বাস করত। কিন্তু ১৯৪০ সালের পর আর এই পাখির দেখা মেলেনি। 

১১. রাজকীয় কাঠঠোকরা

প্রাণিটি হয়তো বেঁচে আছে কিন্তু গত ৫০ বছর ধরেই এদের দেখা যায় না। সম্ভাব্য বিলুপ্ত প্রাণি। 

১২. মোয়া

নিউজিল্যান্ডের বিশালদেহী এবং উড়তে অক্ষম এই পাখি লম্বায় ১২ ফুট এবং ওজনে ৫০০ পাউন্ড হয়। ১৪০০ সালের মধ্যে মাউরিদের অতি শিকারের ফলে এটি বিলুপ্ত হয়। তবে দক্ষিণ আমেরিকায় তাদের কাছাকাছি প্রজাতির একটি পাখি পাওয়া যায়। 

১৩. এলিফেন্ট বার্ড

এই দানবীয় এবং উড়তে অক্ষম পাখিটি শুধু মাদাগাস্কারে পাওয়া যেত। ১৭ শতকের মধ্যেই মানুষের আগ্রাসনে বিলুপ্ত হয়ে যায়। একটি পাখি ১০ ফুট লম্বা এবং ৮৮০ পাউন্ড ওজনের হতো। 

১৪. পিরেনিয়ান ছাগ

দক্ষিণ ফ্রান্স এবং উত্তর পিরেনিজে বসবাস করত। ২০০০ সালের জানুয়ারিতে বিলুপ্ত হয়ে যায়। 

১৫. সমভূমি জেব্রা, কোয়াগ্যা

দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাস করত। ১৮৭০ থেকে ১৮৮৩ সালে বিলুপ্ত হয়। ১৯৮৭ সাল থেকে তাদের ফিরিয়ে আনার প্রকল্প শুরু হয়। 

১৬. মিষ্টি পানির ডলফিন

বাইজি নামে পরিচিত এই প্রাণির বাস ছিল চীনের ইয়াংটজে নদীতে। এক দশক আগে একে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। 

১৭. থাইল্যাসিন বা তাসমানিয়ান বাঘ

অস্ট্রেলিয়া, তাসমানিয়া এবং নিউ গিনিতে বাস করত। ১৯৬০ সালে পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়। 

১৮. আইরিশ হরিণ

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় হরিণ ছিল এটি। সাইবেরিয়ায় প্রাপ্ত এর সর্বশেষ ফসিলটি ৭,৭০০ বছর আগের। লাল হরিণে এর জিন আছে। 

১৯. ক্যারিবিয়ান সন্ন্যাসী সীল

১৯৫২ সালে বিলুপ্ত হয়ে যায়। হাওয়াইয়ান সন্ন্যাসী সীলের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে বাস করত। 

২০. হুইয়া

নিউজিল্যান্ডের বড় কুক্কুট বিশেষ। ২০ শতকে বিলুপ্ত হয়ে যায়। 

২১. মোহো

হাওয়েইয়ের বিলুপ্ত পাখির বংশধর। ১৯৩৪ সালের মধ্যে বিলুপ্ত হয়ে যায়। 

২৩. সেটলার সামুদ্রিক গাভী

সামুদ্রিক গাভীর দুটি প্রধান প্রজাতি মানতী এবং ডুগংয়ের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। একসময় উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ব্যাপক পরিমাণে পাওয়া যেত। কিন্তু মাত্র ২৭ বছরের মধ্যে বিলুপ্ত হয়ে যায়। 

২৪. যাত্রী পায়রা

২০ শতকে বিলুপ্ত হয়। মানুষেরা খেয়ে শেষ করে। ১৯১৪ সালে সর্বশেষ পায়রাটিও খেয়ে ফেলে মানুষেরা। 

২১. গ্যাস্ট্রিক-ব্রুডিং ব্যাঙ

নিজের ডিম নিজেই গিলে ফেলে এবং বাচ্চা ফোটানোর জন্য মুখে রেখে তা দেয়। ১৯৮৩ সালে বিলুপ্ত হয়। 

২২. গ্রেট অক

১৯ শতকের মাঝামাঝি সময়ে বিলুপ্ত হয়। উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরীয় অঞ্চলে বাস করত। উত্তর স্পেন থেকে শুরু করে কানাডা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল এদের বসতি স্থল। ছোট বরফ যুগে বিলুপ্ত হয়ে যায় এরা। 

সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার

২১ জানুয়ারি, ২০১৭ ১৮:৩৭:৪৭