বাংলাদেশে শিশুদের মধ্যে ডায়াবেটিসের প্রকোপ বাড়ছে
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
দুই সপ্তাহ আগে ধরা পড়েছে রাইসা টাইপ-১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। রাইসার দেহের ভেতরে থাকা প্যাঙ্ক্রিয়াস প্রয়োজনীয় ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না। তাই বাকী জীবন তাকে বেঁচে থাকার জন্য ইনজেকশানের মাধ্যমে ইনসুলিন গ্রহণ করতে হবে।
আপনার বাড়ির শিশুটিকে কি নির্বিচারে ফাস্টফুড খেতে দিচ্ছেন? সে কি দিনকে দিন মুটিয়ে যাচ্ছে? কম্পিউটার এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইসই কি তার খেলাধুলার একমাত্র মাধ্যম?

তাহলে সে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হবার মারাত্মক ঝুঁকিতে আছে।

তার এই ডায়াবেটিস আসতে পারে প্রাপ্তবয়স্ক হবার অনেক আগেই।

বাংলাদেশের গবেষকরা বলছেন, দেশটিতে এ ধরণের ডায়াবেটিস আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।

গত ছয় বছরে বেড়েছে সাত গুন।

এরকম পরিস্থিতিতে সোমবার বিশ্বজুড়ে আজ পালিত হচ্ছে ডায়াবেটিক দিবস।

এই দিনটিতেই ছোট্ট রাইসাকে স্কুল থেকেই সরাসরি হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন তার বাবা-মা।

ছয় বছরের রাইসা ক্লাস ওয়ানে পড়ে।

"সে স্কুলে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ত। ঘন ঘন প্রস্রাব করত। হাঁটতে চাইত না। খালি কোলে চড়তে চাইত। সারাক্ষণ ক্লান্ত থাকত"।

এরকম পরিস্থিতিতে মাত্র দুই সপ্তাহ আগে হাসপাতালে গিয়ে রাইসার বাবা কবির হোসেন ও মা সালমা আক্তার জানতে পারেন, তাদের আদরের কন্যাটি টাইপ-১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত।

তাকে বাকি জীবন বেঁচে থাকার জন্য ইনসুলিন ইনজেকশন গ্রহণ করতে হবে।

মি. হোসেন ও মিসেস আক্তার তাদের মেয়েকে নিয়ে গেছেন, বারডেম পরিচালিত শিশু বিষয়ক 'চেঞ্জিং ডায়াবেটিস ইন চিলড্রেন' বা সিডিআইসি কর্মসূচীতে।

এখানে এরকম ডায়াবেটিস আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা সেবা দেয়ার পাশাপাশি আত্মোন্নয়নের নানারকম প্রশিক্ষণও দেয়া হচ্ছে।

এজন্য সেখানে একটি আলাদা কামরাও রয়েছে।

সেই কামরায় গিয়ে দেখা গেলো বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া জনা কয়েক ছেলেমেয়ে বসে আড্ডা দিচ্ছেন।

এরা সবাই বহু বছর ধরে টাইপ-১ ডায়াবেটিসে ভুগছেন।

দশ বছর ধরে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত বেসরকারি ইস্ট-ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পর্যায়ের ছাত্রী লতা।বাংলাদেশে শিশুদের মধ্যে ডায়াবেটিসের প্রকোপ বাড়ছে
এরা সবাই শৈশব থেকে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। এখন তারা বন্ধু। অনিরাময়যোগ্য এক অসুখের সাথে লড়াই করতে করতে কখন যেন তারা হয়ে গেছেন এক পরিবার

"যখন ধরা পড়ল তখন খারাপ একটা স্টেজে ছিলাম। থারটি ছিল। আমি আন-কনশাস ছিলাম। বারডেমে ভর্তি ছিলাম। ডায়ালিসিস করতে হয়েছে আমাকে"।

"ডায়াবেটিস নিয়েও যে সুস্থ স্বাভাবিক জীবন যাপন করা যায়, এখানে না এলে আমরা বুঝতাম না"।

সিডিআইসি কর্মসূচীর সঙ্গে যুক্ত ড. বেদৌরা জামান, বলছেন এই টাইপ-১ ডায়াবেটিসের পাশাপাশি আজকাল বহু শিশুকে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হতে দেখছেন, যেটি মূলত হয় অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও পরিশ্রম করতে অনীহার কারণে।

"শিশুকে লিফটে উঠতে না দিয়ে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে বলুন। নানা রকম খেলাধুলা করান। ঘরের মধ্যে তাকে রাখুন সক্রিয়। তাকে ফাস্ট ফুড বা জাঙ্ক ফুড খেতে দেবেন না। কম্পিউটার বা ট্যাব নিয়ে বসে না থেকে টুকটাক কাজ করতে উৎসাহ দিন। পানি ঢেলে খাওয়া বা ঘরে নিজের ছোটখাটো কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করুন। তাহলে তার টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে যাবে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হবার সময়কালও বিলম্বিত হবে", বলছিলেন ড. জামান।

তিনি বলছেন, তিনি গত ছয় বছর ধরে একটি গবেষণা পরিচালনা করছেন, সেখানে তিনি দেখতে পেয়েছেন, ২০১০ সালে ডায়াবেটিস আক্রান্ত হয়ে যেসব শিশু সিডিআইসির শরণাপন্ন হত, তাদের ২% থাকত টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত।

আর এই ২০১৬ সালে এসে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪%।

ছয় বছরে শিশুদের মধ্যে টাইপ-টু ডায়াবেটিস হবার প্রকোপ বেড়েছে ৭ গুন।

ড. জামান আরো বলছেন, যেহেতু সারা দেশের ডায়াবেটিক আক্রান্ত শিশুদের অধিকাংশই বারডেমে চিকিৎসা নিতে আসে, ফলে এই গবেষণা ফলাফল পুরো বাংলাদেশেরই প্রতিনিধিত্ব করছে বলে তিনি মনে করেন।সূত্র: বিবিসি

 

১৫ নভেম্বর, ২০১৬ ১২:৩৯:৩৪