বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী 'নওয়াব প্যালেস'
লিয়াকত হোসেন খোকন
অ+ অ-প্রিন্ট
বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী নওয়াব বাড়ির ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব থাকায় সরকার প্রাচীণ এই স্থাপনা সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ জন্য শুধু বগুড়াবাসী নয়, সারাদেশের মানুষই আনন্দিত। প্রায় ২০ কি ২৫ বছর আগে থেকেই এই বাড়িতে গড়ে উঠেছিল নওয়াব প্যালেস মিউজিয়াম এন্ড পার্ক। একবার ১৫ কি ১৬ বছর আগে বগুড়ার নওয়াব প্যালেস দেখতে গেলে তখন নওয়াব মোহাম্মদ আলী চৌধুরীর পুত্র হামদে আলী চৌধুরীর সঙ্গে আমার দেখা ও কথা হয় এবং তার সঙ্গে প্রায় ১৫ মিনিট ধরে কথা হয়েছিল। তিনিই জানিয়েছিলেন, নওয়াব প্যালেস মিউজিয়াম হিসেবেই সংরক্ষণ করতে চাই। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালী কতিপয় এটি বিক্রি করে দেওয়ার জন্য আমাকে বার বার চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছে। ওদের হাবভাবে মনে হয়, আমি যেনো এ জায়গা ছেড়ে প্রবাসেই বসবাস করি। দেখুন, অনেক চাপের মুখে পড়েও পৈত্রিক এই ঐতিহ্যবাহী বাড়িটি ধরে রেখেছি। উঁনি আমাকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখিয়েছিলেন- নিচ তলার রুমের মিউজিয়ামটি, এখানে দেখেছিলাম- নওয়াব পরিবারের সদস্যদের ছবি, তাদের ব্যবহৃত নানান সামগ্রী যেমন- পানের বাটা, অলংকার, বিছানা, রূপার হার, রূপার ডালা, আসবাবপত্র, মূর্তি, তলোয়ার, ড্রেসিং টেবিল, ঢাল, বন্দুক, নওয়াবদের পরিবারের প্রতিকৃতি ও ছবি। সৈয়দ হামদে আলী চৌধুরী এ-ও জানিয়ে ছিলেন, তাঁর বাবা নওয়াব মোহাম্মদ আলী চৌধুরী ১৯৫৩ সালে তৎকালীন পাকিস্তানের প্রধান মন্ত্রী হয়েছিলেন । একদা এই প্যালেসে ছিলো- হাতি, ঘোড়া, বাঘ, কুমির, ময়ূর ও নানান প্রজাতির পাখি। সমগ্র বগুড়ার নয় আনা অংশই ছিলো নওয়াবদেরই। তাঁর বাবা নওয়াব মোহাম্মদ আলী চৌধুরীর সমাধি সৌধও আমাকে দেখিয়েছিলেন তিনি। তখন তাঁর চোখ ছলছল করছিল- কি যেন স্মৃতি খুঁজছিলেন তিনি। তাঁর কথা বার্তায় এ-ও বুঝেছিলাম, এই নওয়াব প্যালেসটি আজীবন যেন মিউজিয়াম হয়ে থাকুক- সবাই জানবে, এটি নওয়াব মোহাম্মদ আলীর চৌধুরীর নওয়াব প্যালেস।
কিন্তু সম্প্রতি পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ, নওয়াব মোহাম্মদ আলী চৌধুরীর প্রথম ঘরের দুই ছেলে সৈয়দ হাম্মাদ আলী চৌধুরী ও সৈয়দ হামদে আলী চৌধুরী গোপনে এই নওয়াব প্যালেসটি বিক্রি করে দিয়েছিলেন আমার তো মনে হয়, সৈয়দ হামদে আলী চৌধুরী ইচ্ছাকৃত ভাবে নয়, প্রভাবশালীদের চাপে পড়েই হয়তো বিক্রির এ কাজটি তিনি করেছেন। অবশেষে বলতে হয়, পুরাকীর্তি হিসেবে সংরক্ষণযোগ্য বিবেচিত হওয়ায় সরকার নওয়াব প্যালেসটি সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। এ জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জানাই ধন্যবাদ।
০৭ মে, ২০১৬ ১৯:০৮:৫৩