পৃথিবীর ভয়ঙ্কর কবর
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
কেউ বলেন ভূত আছে, কেউবা অতিপ্রাকৃতিক কোনো কিছুর অস্তিত্বকেই স্বীকার করতে চান না। তবে যারা ভূতে বিশ্বাস করেন তারা একমত যে সমাধিস্থানই ভূতদের বসবাসের অন্যতম স্থান। সঙ্গত কারণে কবরস্থানের কথা শুনলেই মনে জাগে ভয়। প্রেতাত্মাদের ভয়ে অনেকেই এ স্থানটি এড়িয়ে চলেন। একান্তই যদি কবরের পাশ দিয়ে হেঁটে যেতে হয় তখন বুক কাঁপে দুরু দুরু। কি জানি কি হয় এমন আতঙ্ক পেয়ে বসে তাদের। মৃত্যুর পর মানুষের এ শেষ ঠিকানা ঘিরে কালে কালে তৈরি হয়েছে বহু সাহিত্য, রূপকথা। 

সেইন্ট লুইস সিমিট্রি: 

কবরস্থানে মানুষ কেন আস্তে ভাবছেন, এ আবার কেমন প্রশ্ন? সমাধিস্থানে তো মানুষ আসে মৃতদের সমাধি দিতেই। হ্যাঁ! কথাটা ঠিক। কিন্তু সেইন্ট লুইস সিমিট্রির ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ঠিক অতটা সত্যি নয়। প্রতি বছর বেশকিছু পর্যটক এখানে আসেন এবং কেবল এ কবরস্থানটি পরিদর্শন করতে। নিউ অরলিন্সে অবস্থিত এই সিমিট্রি বা কবরস্থানে রয়েছে বিখ্যাত ভুডু বা জাদু-টোনার রানী মেরি লিভ্যুও-এর সমাধি। মৃত্যুর পরেও এই জাদুকর নিজের ক্ষমতা প্রদর্শন করে চলেছেন বছরের পর বছর ধরে এমনটাই বিশ্বাস স্থানীয়দের। সে বিশ্বাস থেকেই এখনো অনেকে কোনোরকম সমস্যায় পড়লে সোজা চলে যায় সেইন্ট লুইস সমাধিস্থানে। সেখানে যাওয়ার পর মেরি লিভ্যুর সমাধির গায়ে টোকা দিয়ে জানান দেয় তাদের আগমনের। কেননা কথিত আছে, টোকা মারলেই নাকি যে কোনো সমস্যার সমাধান দিতে কবর থেকে বাইরে চলে আসেন জাদুকর!

চামুলা সিমিট্রি:

মেক্সিকোর দক্ষিণ চিয়াপিস রাজ্যের সান জুয়ান চামুলার অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান হচ্ছে এই চামুলা সিমিট্রি। ভাবছেন, কবর তো কবরই! তাতে আবার আকর্ষণের কি আছে? কথাটা ঠিক যে কবরস্থানের মৃতদেহ ছাড়া আকর্ষণের তেমন কিছুই নেই। তবে বাকি সব কবরস্থান থেকে আলাদা চামুলা সিমিট্রির আকর্ষণের জায়গাটা হচ্ছে এর ইতিহাস। ১৯৬০ সালে এইখানে ক্যাথোলিক চার্চ নির্মাণের কথা ছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠার কিছুদিনের ভেতরেই চার্চের যাজক চলে যান। সেই থেকে একেবারেই নীরব পড়ে রয়েছে। মাঝে মধ্যে অবশ্য অন্য গ্রাম থেকে কিছু যাজক এসে মৃতদের সৎকারের কাজ করে দিয়ে যান তবে সেটাও খুবই বিরল। সচরাচর স্থানীয় জনগণদের ভেতরে কেউ কেউ মৃত মানুষকে কবর দেন চার্চের সামনে। যদিও কখনো কোনো আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি এই চার্চ থেকে, তবুও দিনকে দিন কবরের সংখ্যা এখানে বৃদ্ধি পেয়েছে। সে সঙ্গে বেড়ে গেছে চার্চের চারপাশে ছড়ানো মৃত মুরগির রক্তাক্ত দেহ। আরকিছু না হলেও এই মৃতদেহ দেখেই ভয় পান হঠাৎ চামুলা চার্চে পা রাখা মানুষরা।

ডাইনির কবরস্থান: 

কবরস্থান বা সমাধিক্ষেত্র এমনিতেই ভয়ের। তার ওপর সেটা যদি হয় ডাইনির কবরস্থান তাহলে কেমন হবে ব্যাপারটা? ভাবছেন বানিয়ে বলছি? একদম না। আর সেটা যদি পরীক্ষা করতে চান তাহলে আপনাকে যেতে হবে অনেক অনেক দূরে টেনেসেতে। বাস্তবেই টেনেসের ব্রাদারটন পাহাড়ের রোড থেকে বেশ খানিকটা দূরে নির্জন প্রকৃতির ভেতরে রয়েছে ডাইনির কবরস্থান বা উইচেস গ্রেভইয়ার্ড। কাগজে-কলমে এর নাম স্ট্যাম্পস সিমিট্রি হলেও লোকেদের কাছে ডাইনির কবরস্থান হিসেবেই পরিচিত বেশি। এর কারণ হচ্ছে এখানকার কবর বা সমাধিগুলোর উপরে থাকা অদ্ভূত অদ্ভূত সব জিনিসপত্র। কখনো সেটা তারকাখচিত চিহ্ন, কখনো তাঁবু বা ভিন্ন ভাষায় কাটাকুটি লেখা। শুধু তাই নয়, ডাইনির কবরস্থানের ভেতরে রয়েছে অনেক অনেক পশু বলি দেয়ার প্রমাণ। ফলে ভুতুড়ে কবর আর বলি দেয়া পশুর হাড় একসঙ্গে মিলে ভুতুড়ে কবরটির চারপাশে তৈরি হয়েছে এক ভয়ঙ্কর আবহ।

স্টুল সিমিট্রি: 

কানসাসের ডগলাস কাউন্ট্রিতে অবস্থিত এই সিমিট্রিতে আরো অনেক সমাধিস্থলের মতোই রয়েছে প্রেতাত্মা থাকার গুজব। কিংবা কে জানে, হয়তো সত্যিই ভূত রয়েছে এখানে! কথিত আছে এই সমাধিস্থলের ভেতরে বিশেষ করে চার্চের পাশে খারাপ শক্তিদের উপস্থিতি বোঝা যায় প্রকাশ্যেই। শুধু তাই নয়, ক্ষতিকারক আত্মার পাশাপাশি স্টুল সিমিট্রিতে রয়েছে নরকে যাওয়ার রাস্তাও। এই সমাধিস্থল থেকে সোজা নরকে চলে যাওয়া যায় বলে কথিত রয়েছে। হন্টেড আমেরিকা ট্যুরসের এ স্থানটিতে শয়তান তার হারিয়ে যাওয়া পূজারিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করত বলেও উল্লেখ করা হয়।

ওল্ড জিউস সিমিট্রি: 

একটা কবরে ঠিক কতগুলো মানুষ আঁটতে পারে? আপনি হয়তো এর উত্তরে বলবেন, এক কবরে তো একজনকেই কবর দেয়া হবে কেবল। কিন্তু না। আর সব সমাধিক্ষেত্রে এমনটা উত্তর হলেও সেটা এই ওল্ড জিউইশ সিমিট্রির জন্য নয়। চেক রিপাবলিকের প্রাগের ভেতরে জোসেফভ নামক একটি স্থানে অবস্থিত এই সমাধিক্ষেত্রটির ভেতরে যে ঠিক কতটি কবর রয়েছে এবং প্রতিটি কবরে যে ঠিক কতগুলো পরত দিয়ে একের পর এক মানুষ নামিয়ে দেয়া হয়েছে তার কোনো হিসেব নেই। মনে করা হয় এখানকার ১২ হাজার পাথর সংবলিত মোট এক লাখ কবর রয়েছে। যেগুলোকে ঘিরে প্রতিনিয়তই জন্মেছে নানারকম গা শিউরে ওঠা গল্প। ১৫ শতাব্দীর আগে তৈরি হওয়া এই সমাধিক্ষেত্রটির পরিচিতি রয়েছে ভূত আর অতিপ্রাকৃত ঘটনার আধার হিসেবেও।

কাপুচিন কাটাকম্বস: 

ভাবুন তো এমন এক সমাধিক্ষেত্রের কথা যেখানে মৃত মানুষগুলো কবরের ভেতরে নয়, রয়েছে বাইরে! শুনতে অদ্ভূত হলেও সিসিলির পোলিরমো শহরের কাপুচিন কাটাকম্বসে রয়েছে উš§ুক্ত স্থানে পরে রয়েছেন মৃত মানুষের মমি। এই মমিগুলোর গায়ে পরিপাটি কাপড়ও পড়ানো। তাদের বসবার স্টাইলটাও একদম জীবিতদের মতো, যাদের শুধু জীবনটাই নেই। ১৬ শতাব্দীতে তৈরি হওয়া এই সমাধিস্থলে বর্তমানে প্রায় ৮ লাখ মৃত মানুষের মমি রয়েছে। সূত্র: মানবকন্ঠ

৩১ ডিসেম্বর, ২০১৫ ১২:৩৯:৩২