নাটোরের অথৈ জলরাশির হালতি বিল
এম, এম আরিফুল ইসলাম, নাটোর
অ+ অ-প্রিন্ট
দুলছে হৃদয় দুলছে মন হালতি বিলের জল ছুই ছুই সারাক্ষন। ভ্রমণপিয়াসী মানুষ অবসরে নির্মল আনন্দ খুঁজে বেড়ায়। আর এ টানেই শত শত মানুষের ঢল নামছে নাটোরের বিশাল অথৈ জলরাশির হালতি বিলে। দুপুরের পর থেকে এখানে দলে দলে মানুষ আসতে থাকে। সব বয়সী মানুষ আসে দ্বিতীয় আশুলিয়া খ্যাত এই রিভারভিউ দেখার জন্য। হালতি বিলের অথৈ জলরাশির মধ্য দিয়ে নির্মিত হয়েছে কংক্রিটের একটি নতুন রাস্তা। পানির মধ্যে কংক্রিটের ওই রাস্তায় হাঁটলে সমুদ্র সৈকতের আমেজ পাওয়া যায়। দুই পাশে পানি আর পানি। মাঝে রাস্তায় ছোট-বড় ঢেউ আছড়ে পড়ে। পা ভিজে যায়। তাই অনেকে বিলকে মিনি কক্সবাজার বলে ডেকে থাকে। বর্ষাকালের হালতি বিল অথৈ সমুদ্রের মতো। রেল লাইনের ধারে ছোট ছোট গ্রামগুলো ডুবডুব প্রায়। বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ে পাড়ে। আগে ঝড়ের সময় কত যে নৌকাডুবি হয়েছে এখানে। এই রাস্তা নিমার্ণের ফরে এখন যেন পুরোপুরি বদলে গেছে দৃশ্যপট। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ২০০৪ সালে রাস্তাটি পাকা করার কাজ শুরু করে। পাটুলহাট থেকে খাজুরাহাট পর্যন্ত সাত কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তা নির্মানের বরাদ্দ করা হয়। প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যায়ে রান্তাটি নিমার্ণ করা হলেও অভিযোগ রয়েছে নিম্নমানের কাজের। এবার বৃষ্টি খুবই কম। বৃষ্টিহীন ভাদ্রের অপরাহেৃ তাই হাজার হাজার মানুষ আসে রাস্তা আর বিল দেখতে। পানির ওপর ভাসমান রাস্তায় যেন হাঁটছে মানুষ। কেউ কেউ দল বেঁধে বা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নৌকায় চেপে ঘুরে বেড়াচ্ছে বিলের মধ্যে। আনন্দ ভ্রমণের এমন সুযোগ এর আগে আর মেলেনি এ অঞ্চলের মানুষের। মানুষ আসে দূর-দূরান্ত থেকেও।  ঢাকা থেকে আসা হায়দার আলী রাসেল ও তার স্ত্রী মৌসুমী বেগম বলেন, শহরের জীবন রুটিন বাঁধা। এক ঘেঁয়েমিতে ক্লান্তি আসে। হালতি বিলে এসে মনটা অনেকখানি প্রফুল হয়েছে। রাজশাহী শহরের রেটিনা কোচিং এর ছাত্র নাজমুন শাকিব রবিন নিয়ে হালতি বিলে বেড়াতে এসেছেন তার বড় বোন রুমানা শারমিন। বললেন দারুন ভালো লাগছে তাদের। 

তাদের মন্তব্য, ঢাকার আশুলিয়ায় অধিকাংশ ধনী পরিবারের সদস্যরা গাড়ি নিয়ে আসে। আর এখানে প্রায় সবাই সাধারণ মানুষ। স্থানীয় অটোরিকশা চালক মিন্টু মোল্লা খুব খুশি। কারণ তার আয় বেড়ে গেছে কয়েক গুন। আগে দিনে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা আয় হতো। এখন হচ্ছে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। সে এখন প্রতিদিন কয়েকবার করে শহর থেকে হালতিবিলে যাত্রী নিয়ে যায়। নৌকার মাঝি কাদির হোসেন এখন প্রতিদিন আয় করছে ৫ শতাধিক টাকা। এত বাইরের মানুষ সে এর আগে এ এলাকায় আসতে দেখেনি। কথা হয় রাজশাহী থেকে ঘুরতে আসা আলী আশরাফ ও তার স্ত্রী নীহার বেগম সাথে, আমাদের মেয়ে আশা ও উষাসহ পরিবারেরসবাকে প্রতি বছর এখানে বেড়াতে আসি খুব ভালো লাগে তবে এখানে একটা ভালো রেস্টুরেন্ট দরকার। শত শত মানুষের ঢল নামায় এখানে হকারের ভিড়ও বেড়েছে। মুড়ি, বাদাম, চানাচুর, ফল, বিস্কুট, লজেন্স, চকলেট, পান-সিগারেট, চা এমনকি চুড়ি-মালা-কসমেটিক্সের পসরা সাজিয়ে বসেছে অনেকে। বিক্রি হচ্ছে বেশ। নাটোর শহর থেকে হালতি বিলের দূরত্ব ৮ কিলোমিটার। অটো ও রিক্সা ভাড়া ২০ থেকে ৩০ টাকা। সহস্র মানুষের আগমনে হালতি বিল এখন মুখরিত। এত কিছুর পরও এখানে ভালো রেস্টুরেন্ট নেই এতাদিন ছিল না টয়লেটের ব্যবস্থা। বসারও তেমন কোন ব্যবস্থা করা হয়নি। নবগঠিত নলডাঙ্গা উপজেলার নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার জাহান বলেছেন, হালতি বিলে আগত সহস্র মানুষের ভ্রমণ সুন্দর করতে ইতোমধ্যেই এখানে পুরুষদের জন্য দুটি ও মহিলাদের জন্য দুটি টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভালো রেস্টুরেন্ট ও আগতদের বসার ব্যবস্থা করারও উদ্দোগ নেয়া হচ্ছে।

০৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ০৯:৫৬:৩৩