বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক বিমানবন্দর
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
একজন ভ্রমণকারী এবং তার গন্তব্যের মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়ায় বাহুল্য বর্জিত প্রতিনিধি, অতিরিক্ত মূল্যের খাবার এবং বিলম্ব। মূলত বিশ্বের সব বিমান বন্দরে এসব থাকে না। যেগুলোতে থাকে সেই সব বিমানবন্দর খারাপ হিসেবেই পরিচিতি পায়। তবে বিমানবন্দরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ রানওয়ে। যাত্রীদের মৃত্যুর জন্য একটি বিপজ্জনক রানওয়েই যথেষ্ট। সেই সব রানওয়ের কথা জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি।

১. মৃত্যু হাতে থাকে যে রানওয়েতে

নেপালের তেনজিং হিলারি এয়ারপোর্ট নির্মাণ করা হয়েছে ভ্রমন উৎসাহীদের জন্য। হিমালয় শহর লুকলায় অবস্থিত এটি। বিমানবন্দরের ৪৬০ মিটার রানওয়ে আছে যার মধ্যে ১২ শতাংশ খাড়া। এখানে কেবল হেলিকপ্টার এবং ছোট পাখাওয়ালা প্লেন ওঠানামা করতে পারে। রানওয়ের উত্তর দিকে আছে পর্বত এবং দক্ষিণে খাড়া যা ৬০০ মিটার নীচে। এখানে পাইলটের ভুল করার কোন সুযোগ নেই। ভয়ঙ্কর এই অংশটি বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্ট পর্বতের চূড়ায় আরোহণের জন্য প্রবেশ পথ। পৃথিবীর বিপজ্জনক বিমানবন্দরের মধ্যে এটি অন্যতম। সম্ভবত এটা সঠিকও। এভারেস্টের চূড়ায় প্রথম আরোহনকারী স্যার এ্যাডমুন্ড হিলারি এবং শেরপা তেনজিংয়ের নামে বিমানবন্দরটির নামকরণ করা হয়েছে।

২.পানির নীচে রানওয়ে

পৃথিবীতে একটি রানওয়ে হয়তো পাওয়া যাবে সেটি হলো স্কটল্যান্ডের বাররা বিমানবন্দর। এই বিমানবন্দরটি সমুদ্র সৈকতকে রানওয়ে হিসেবে ব্যবহার করে। জানিয়েছেন কুওরা ব্যবহারকারী অমিত খুশবা। বিমানের ফ্লাইট নির্ধারিত হয় জোয়ার-ভাটা অনুযায়ী। বিমানবন্দরটি বাররা দ্বীপের ত্রেইঘ মর সৈকতে অবস্থিত। ত্রিভুজাকৃতির এই রানওয়েতে বিমানের নির্দেশনার জন্য ব্যবহার করতে কাঠ পুঁতে রাখা হয়।

৩.সমুদ্রের দুই মিটার উচ্চতায়

মালদ্বীপের মেইল ইন্টারন্যাশনাল বিমানবন্দরের রানওয়ে অবস্থিত সমুদ্র থেকে মাত্র দুই মিটার উপরে। রানওয়ে শুরুটা হয়েছে পানি দিয়ে এবং শেষ হয়েছে পানি দিয়ে। পরিদর্শকরা তাদের চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছাতে স্পিডবোড ব্যবহার করেন।

৪.সুন্দর এবং বিপজ্জনক

ক্যারিবিয়ানের সাবা দ্বীপে জুয়ানচাও ই ইরাসকুইন বিমানবন্দরের রানওয়ে বিশ্বের বাণিজ্যিক রানওয়ের মধ্যে সবচেয়ে ছোট। এর আয়তন হবে প্রায় ৩৯৬ মিটার। (সাধারণত রানওয়ে ১৮শ’ থেকে ২৪শ’ মিটার হয়)। ছোট্ট বিমান এখানে ওঠানামা করতে পারে। কারণ এগুলো দ্রুতই গতি কমাতে পারে। এটা দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি বিপজ্জনক। এর তিনদিকেই পানি।

৫.অসম্ভব সুন্দর!Anchor

উত্তর আমেরিকার কলোরাডোর তেলুরাইড রিজিওনাল এয়ারপোর্ট যা এই মহাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক বিমানবন্দর হিসেবে পরিচিত। সমুদ্র থেকে ২ হাজার ৭৬৭ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। দেখতে অসম্ভব সুন্দর। রানওয়ে দেখলেই অনেকের হৃদকম্পন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এর ৩শ মিটার নীচে একটি নদী।

৬.‘কাজ তাক হার্ট অ্যাটাক’

হংকংয়ের বন্ধ বিমানবন্দর কাজ তাকের নাম দেয়া হয়েছে, ‘কাজ তাক হার্ট অ্যাটাক’। ১৯২৫ সাল থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত চালু ছিল। এটি ছিল ফ্লাইং ওয়ার্ল্ডের অন্যতম আকর্ষণ। রাস্তায় এটি ওঠানামা করতো। এর দুই দিকেই সুউচ্চ ভবন। বিমান থেকে নীচের দিকে তাকালে মনে হতো, মানুষের বসবাসের একটি স্থান।

 


 

০৯ জুন, ২০১৫ ০৯:১৩:১২