'প্রেমিক' লাদেনের নথি উদ্ধার
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
ওসামা বিন লাদেন


এক সময় তাঁর নামে গোটা দুনিয়া ভয়ে কাঁপতো। তিনি ওসামা বিন লাদেন। কিন্তু কেমন ছিলেন গ্রানাইট কঠিন নির্মমতার আড়ালের মানুষটা? সদ্যই অ্যাবোটাবাদে লাদেনের ডেরা থেকে উদ্ধার হওয়া একশোটি নথি প্রকাশ করেছে মার্কিন প্রশাসন। যার মধ্যে রয়েছে ভিডিও, বই আর লাদেনের লেখা চিঠিও। আর সেসব নথিতেই ধরা পড়েছে ভয়ঙ্কর এই সন্ত্রাসবাদীর ব্যক্তিগত জীবনের টুকরো টুকরো ছবি। যা নিয়ে সরগরম পৃথিবী।

তাঁর নির্দেশেই ভেঙে পড়েছিল নিউ ইয়র্কের গর্ব টুইন টাওয়ার। এক লহমায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ৩ হাজার মানুষ। তাঁর অঙ্গুলিহেলনেই ভারত থেকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে হামলা চালাত আল কায়দা জঙ্গিরা। নিষ্ঠুরতার প্রতীক সেই ওসামা বিন লাদেনেরই ছিল এক প্রেমিক মন। অ্যাবোটাবাদে পাওয়া মার্কিন সরকারের প্রকাশিত নথির মধ্যে রয়েছে একটি চিঠি।  

যেখানে তিন স্ত্রীর একজনকে লাদেন লিখছেন, "তুমি আমার নয়নের মণি। আমার হৃদয় ভরিয়ে রাখ তুমি। তোমার বিরহে জল আসে আমার দুচোখে। মৃত্যুর পরেও আমি তোমাকেই স্ত্রী হিসাবে চাই।''  

পৃথিবী জুড়ে জিহাদের প্রশ্নে যিনি ছিলেন আপোসহীনভাবে কঠোর, সেই লাদেনরই কিন্তু ছেলে হামজার প্রতি ছিল অপরিসীম অপত্য স্নেহ। আল কায়দায় নিজের উত্তরাধিকারী হিসেবে তৈরি করেছিলেন তাঁকে। দিয়েছিলেন বোমা তৈরি এবং অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণ।

মার্কিন সরকারের প্রকাশ করা নথিতে ধরা পড়েছে লাদেনের চরিত্রের অন্য এক দিকও। দুনিয়া জুড়ে সন্ত্রাসের জাল বুনতে যিনি ছিলেন অদ্বিতীয়, সেই বিন লাদেনই সারাক্ষণ কুঁকড়ে থাকতেন মৃত্যু আর ষড়যন্ত্রের ভয়ে। সব সময়েই তাঁর মনে হত কোনও না কোনওভাবে কোথায় লুকিয়ে আছেন জেনে আমেরিকা মেরে ফেলবে তাঁকে। নিজের এক স্ত্রীকে লাদেন লিখেছেন, "আমার কাছে যখন আসবে, তখন তোমার সঙ্গে কিছুই আনবে না। বই, জামাকাপড়, কিছুই না। সিরিঞ্জের মাধ্যমেও শরীরে মাইক্রোচিপ ঢুকিয়ে দেওয়া যায়।''

ষড়যন্ত্রের ভয়ে আল কায়দার শীর্ষ নেতাদের ইন্টারনেট ব্যবহার করতেও নিষেধ করেছিলেন লাদেন। নিরীহ মানুষের জীবন নিতে যিনি একটুও ভাবতেন না, সেই আল কায়দা প্রধান নিজেই সর্বদা ভয়ে এমন কাঁটা হয়ে থাকতেন জেনে বিস্ময় জাগে বৈকি।



 

 


২৩ মে, ২০১৫ ২০:১১:৩৭