রাগ সব আমার উপরেই ঝাড়লেন : আসিফ
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট


বাংলা গানের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম শাহনাজ রহমতউল্লাহ। দীর্ঘ ৫০ বছর সংগীত ক্যারিয়ারে তিনি উপহার দিয়েছেন ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’, ‘আমার দেশের মাটির গন্ধে’, ‘একবার যেতে দে না আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়’, ‘এক নদী রক্ত পেরিয়ে’, ‘একতারা তুই দেশের কথা বল রে আমায় বল’, ‘যে ছিল দৃষ্টির সীমানায়’, ‘ফুলের কানে ভ্রমর এসে’, ‘ওই ঝিনুক ফোঁটা সাগর বেলায়’, ‘পারি না ভুলে যেতে’, ‘আমার ছোট্ট ভাইটি মায়ায় ভরা মুখটি’ মতো অসংখ্য কালজয়ী গান।

শনিবার রাতে সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন শাহনাজ রহমতউল্লাহ। গুণী এই মানুষটি চলে যাওয়ায় সংগীতাঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। কিংবদন্তি এই শিল্পীকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর।

শাহনাজ রহমতউল্লাহকে নিয়ে আসিফ তার ফেসবুকে লিখেছেন- টরন্টো থেকে প্যানসিলভ্যানিয়া, নিউ জার্সি থেকে নিউইয়র্ক। দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে হোটেলে আমার রুমে ঢুকেই দেখলাম, আপা কোনের একটা সোফায় বসে আছেন। হতচকিত হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, আপা আপনি আমার রুমে। তিনি অসন্তুষ্ট আয়োজকদের উপর। রাগ সব আমার উপরেই ঝাড়লেন। আমি থাকতে আপা, আরেকজনের সঙ্গে রুম শেয়ারিং কেন? তাড়াতাড়ি আপার জন্য আলাদা রুমের ব্যবস্থা করা হলো।

শাহনাজ রহমতউল্লাহ ও তার স্বামী মেজর (অব.) আবুল বাশার রহমতউল্লাহ’র ৫০তম বিবাহ বার্ষিকীকে অতিথি হয়েছিলেন আসিফ। সে সময়ের কথা স্মরণ করে আসিফ লিখেছেন- আপার ৫০তম বিয়ে বার্ষিকীতে সর্বকনিষ্ঠ দাওয়াতি আমি। হাদী ভাই, রবিন ঘোষ স্যার থেকে শুরু করে দেশের মহারথীদের মিলন মেলা। আপা ঘুরে ফিরে আমাকেই সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছিলেন। আমাদের বিশেষ কিছু শো একসাথে ছিল। আপা আমাকে আসিফ নামেই ডাকতেন, তবে উচ্চারণটা ছিলো আলাদা।

সবশেষে আসিফ লিখেছেন- আপা অনেক কিছু লিখতে ইচ্ছে হচ্ছে, তবে এই লিখার শেষ নেই আপা। আগের প্রজন্মের শেষ বংশধর হিসেবে আপনার কাজ এবং সৃষ্টির প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করি। ‘একবার যেতে দেনা আমার ছোট্ট সোনারগাঁয়’, নামাজ পড়ার সময় এই মহান মৃত্যুকে স্বাগতম আপা। যান আপা ওখানে অনেক শান্তি অপেক্ষায়... বিদায় শাহনাজ রহমতউল্লাহ। আপনিই বাংলাদেশ আপা, মহান আল্লাহ আপনার আত্মাকে শান্তি দিন (আমীন)।













 


২৪ মার্চ, ২০১৯ ১৯:৪৫:১৩