শেষযাত্রার তক্তপোষ নিজেই বাড়িতে আনিয়ে রেখেছিলেন মহানায়িকা
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
শেষবয়সের মহানায়িকাকে কেমন দেখতে হয়েছিল তা তাঁর ঘনিষ্ঠরা ছাড়া কেউ দেখেননি। কেউ যাতে না দেখতে পায় তাই তাঁর শববাহক গাড়ি ছিল কালো কাপড়ে ঢাকা। এমনই ছিলেন মহানায়িকা। একবার যা মনে করবেন তা তিনি করেই ছাড়তেন। কিন্তু মৃত্যুর পর তিনি যেতে চেয়েছিলেন একদম সাধারণ একটি তক্তপোষে শায়িত হয়ে।

‘প্রনয় পাশা’ ফ্লপ করতেই তিনি টের পেয়েছিলেন তাঁর খারাপ সময়ের। আর কোনও ছবিতে যেমন কাজ করেননি। কোনোদিন আর জনসমক্ষেও আসেননি। চলে গিয়েছিলেন চির অন্তরালে। অনেকে অনেক চেষ্টা করেও তাঁর কোনও ছবি তুলতে পারেনি। লুকিয়ে চুরিয়ে কয়েকটি ছবি অবশ্য পাওয়া যায়। তবে এসবই ছিল তাঁর লক্ষ ভক্তকুলের চাহিদা। ইচ্ছা মহানায়িকাকে একবার দেখার। কিন্তু মহানায়িকা কি চেয়েছিলেন? তা জানতেন তাঁর কাছের মানুষরা।

যেমনটি ছিলেন প্রিয় বন্ধু গোপাল কৃষ্ণ রায়। মিসেস সেনের অবসর জীবনের বহু গল্প জমা হয়েছে তাঁর মনের মধ্যে। কিছু তিনি তাঁর লেখনিতে প্রকাশ করেছেন কখনওবা বলেছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলে। তাঁর মৃত্যু পরবর্তীকালে ইচ্ছা ছিল খুব সাধারণভাবে চলে যাওয়ার। হতে পারেন তিনি মহানায়িকা, তবু তিনি তো মানুষ। জীবন শেষে অসাধারণ হতে তিনি চাননি।

সেই গোপালকৃষ্ণ রায়কেই বলেছিলেন তাঁর শেষ ইচ্ছা। ঘটনা খানিক এরকম, মহানায়িকার বাড়িতে গিয়েছেন বন্ধু গোপালকৃষ্ণ। মহানায়িকার ঘরে রাখা একটি সাধারণ তক্তপোষ দেখে তাঁর কৌতূহল হয়। সুপারস্টারের বাড়িতে অতি সাধারণ এক তক্তপোষের কি স্থান হবে? একটু এদিক ওদিক করে বন্ধুকে জিজ্ঞাসা করেই ফেললেন যে এত বিলাসবহুল আসবাব, তার মাঝে এই বেমানান সাধারণ তক্তপোষ কেন? মহানায়িকার উত্তর” ওটা আমার শেষ যাত্রার জন্য রেখেছি। জন্মেছি শক্ত মাটিতে। মরার পরে স্প্রিংয়ের খাটে শুয়ে শ্মশানে যাওয়ার ইচ্ছে নেই তাই ওটা আনিয়ে রেখেছি।” গোপালকৃষ্ণ অবাক।

ব্রিটিশ ভারতের বাংলা প্রেসিডেন্সির পাবনা জেলার সদর পাবনায় সুচিত্রা সেন জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর বাবা করুণাময় দাশগুপ্ত ছিলেন এক স্থানীয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও মা ইন্দিরা দেবী ছিলেন গৃহবধূ। তিনি ছিলেন পরিবারের পঞ্চম সন্তান ও তৃতীয় কন্যা। পাবনা শহরেই তিনি পড়াশোনা করেছিলেন। এক কথায় খুব সাধারণ এক পরিবারের মেয়ে ছিলেন। সেই সাধারণ ভাবেই চলে যেতে চেয়েছিলেন মহানায়িকা। অবশ্য তার মৃত্যুর পর সেই তক্তপোষটি কি তার শবের সঙ্গ হয়েছিল? তা জানা যায়নি।

 

 

১৮ জানুয়ারি, ২০১৯ ১০:৪৩:২০