অভিনেতাদের অনেক অত্যাচার সহ্য করতে হয় : ঈশান খট্টর
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
প্রথম সিনেমাতেই বাজিমাত করেছেন ঈশান খট্টর। সামনে মুক্তি পাচ্ছে তার প্রথম সিনেমা ‘ধড়ক’। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ক্যারিয়ারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছিন তিনি। সাক্ষাৎকারটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো :

প্রশ্ন : ক্যারিয়ারের প্রথম সিনেমাতেই সেরা অভিনেতার অ্যাওয়ার্ড। আপনার উপর ইন্ডাস্ট্রির প্রত্যাশার চাপ কতটা?

উত্তর : চাপের থেকেও দায়িত্বটা বেশি। তারকা হব কি না, সেটা আমার হাতে নেই। কিন্তু আমি ভাল অভিনয় করে নিজের দায়িত্ব পালন করব। ‘বিয়ন্ড দ্য ক্লাউডস’-এর জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার পাওয়ার পরে ভীষণ খুশি হয়েছিলাম। কারণ সে দিন মা (নীলিমা আজ়িম) আমার সঙ্গে ছিলেন। মা খুব খুশি হয়েছিলেন।

প্রশ্ন : আপনি তো বরাবর অভিনয়টাই করতে চেয়েছিলেন?

উত্তর : হ্যাঁ, বরাবরই অভিনয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলাম। অভিনয় আর নাচ— এই দুটোই প্যাশন আমার। তবে এ রকম কোনও টার্নিং পয়েন্ট ছিল না, যখন আমার মনে হয়েছিল যে অভিনয়টাই করতে হবে আমাকে। অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর হিসেবে ‘উড়তা পঞ্জাব’-এ কাজ শুরু করেছিলাম। সেই সময়ে কাস্টিং ডিরেক্টর হানি ত্রেহানের সংস্পর্শে আসি। উনিই পরবর্তী কালে মাজিদ মাজিদির সিনেমার জন্য আমাকে ডেকেছিলেন। সেই একই সময়ে আমি কর্ণ জোহরের সঙ্গেও কেরিয়ার নিয়ে কথা বলেছিলাম। কর্ণই আমাকে বলেন, মাজিদ মাজিদির সঙ্গে অবশ্যই কাজ করা উচিত।

প্রশ্ন : শাহিদ কপূরের ভাই হওয়ার সুবাদে কী সুবিধা আপনি পেয়েছেন?

উত্তর : কাজের দিক থেকে পাইনি। তবে ব্যক্তিগত ভাবে প্রচুর সাহায্য পেয়েছি। ভাইয়ের চেয়ে আমি ১৫ বছরের ছোট। ভাই আমার কাছে বাবার মতো। আমাদের দু’জনের প্যাশনও এক— নাচ। আমাদের বন্ডিং ওখান থেকেই। ভাই আমাকে জীবনে অনেক কিছু শিখিয়েছে। ওর জন্য আমাকে সকলে চেনেন। যাঁরা এখনও আমার কাজ দেখেননি, তাঁরাও। এর জন্য ওর কাছে কৃতজ্ঞ থাকব।

প্রশ্ন : ‘ধড়ক’-এর জন্য কী প্রস্তুতি নিয়েছিলেন?

উত্তর : মেরবাড়ি ভাষা শিখতে হয়েছিল। পরিচালক শশাঙ্ক খৈতান রাজস্থানের লোক, উনিই শিখিয়েছিলেন। কান ফুটোও করতে হয়েছিল (হাসি)! আমার আর জাহ্নবীর আলাদা করে ওয়র্কশপ হয়েছিল। শুটিং শুরু হওয়ার আগে শশাঙ্ক অনেক রিহার্সালও করিয়েছিলেন। তাই সেটে গিয়ে কাজটা সহজ হয়েছিল। ‘ধড়ক’-এর শুটিংয়ের অনেক আগে আমি ‘সাইরাট’ দেখে নিয়েছিলাম। কিন্তু তার পর শশাঙ্ক বারণ করেছিলেন বলে আর এক বারও দেখিনি। শুটিংয়ের পরে আমি আর জাহ্নবী মনমরা হয়ে পড়েছিলাম। অথচ শুটিং চলাকালীন সকলেই বেশ পজ়িটিভ ছিলাম। আসলে অভিনেতাদের অনেক আবেগের অত্যাচার সহ্য করতে হয়।

প্রশ্ন : জাহ্নবীর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?

উত্তর : জাহ্নবী কাজের বিষয়ে খুব মনোযোগী। এমনিতে ও বেশ সহজ প্রকৃতির।

প্রশ্ন : আপনি শাহিদের মেয়ে মিশার খুব ভক্ত। তাই না?

উত্তর : ওকে ভীষণ ভালোবাসি। মিশা আসার পর আমার সঙ্গে মীরার সম্পর্কও গভীর হয়ে উঠেছে। ‘ধড়ক’-এর ট্রেলার দেখে মীরার ভীষণ ভালো লেগেছে। অপেক্ষায় আছে কবে সিনেমাটা মুক্তি পাবে। আর ভাই অপেক্ষায় আছে, আমি কেমন অভিনয় করেছি সেটা দেখার জন্য।

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

 

১১ জুলাই, ২০১৮ ১১:৪০:২৬