কুসুমের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি মামলার প্রতিবেদন ১৮ ফেব্রুয়ারি
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম
অ+ অ-প্রিন্ট
অভিনেত্রী কুসুম শিকদার
অভিনেত্রী কুসুম শিকদারসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মিউজিক ভিডিওর নামে পর্নোগ্রাফির অভিযোগে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। রোববার মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। এদিন রমনা থানা পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করতে ব্যর্থ হওয়ায় ঢাকা মহানগর হাকিম নুরুন্নাহার ইয়াসমিন প্রতিবেদন দাখিলে ১৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, গত ৩ আগস্ট 'বঙ্গ' নামের প্রতিষ্ঠানের ইউটিউব চ্যানেল 'বঙ্গবিডি' থেকে অভিনেত্রী কুসুম শিকদারের 'নেশা' শিরোনামে একটি মিউজিক ভিডিও মুক্তি পায়। মুক্তির সঙ্গে সঙ্গেই ভিডিওতে কুসুম শিকদারের আবেদনময়ী উপস্থিতি নিয়ে গণমাধ্যমে ও সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়।

পরে ১৩ আগস্ট গানটির বৈধ-অবৈধ সব ভিডিও ও টিজার ইউটিউব থেকে সরানোর জন্য বাদীর পক্ষে আইনজীবী আফতাব উদ্দিন ছিদ্দিকী রাগিব আইনি নোটিশ দেন। তারপরও গানটি না সরানোয় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২-এর ৮ ধারা অনুযায়ী মামলা করা হয়।

গেলো ১৭ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খন্দকার নাজমুল আহসান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে রমনা থানাকে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেন।

এই মামলায় গানটির গায়িকা ও মডেল কুসুম শিকদার ছাড়াও সহ-মডেল খালেদ হোসাইন সুজন, ভিডিওটির পরিচালক শুভ্র খান ও শ্রাবণী এবং ভিডিও প্রকাশক প্রতিষ্ঠান ‘বঙ্গ’ (স্টেলার ডিজিটাল লি.) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, নেশা ভিডিওটি শুরুই হয় চোখে আমার তোমার নেশা। শ্বাসে আমার তোমার নেশা।  সারা দেহে তোমার নেশা। রগে রগে তোমার নেশা। তোমায় পান করে....জ্ঞান হারাই, হই মাতাল- এমন উত্তেজক কথার আবৃত্তি দিয়েই।

মূল গানটি বিচ্ছেদ ধাঁচের। তাতে প্রিয়জন হারানোর বেদনা প্রকাশ পেয়েছে। অথচ দৃশ্যায়নে অহেতুক ও অপ্রাসিঙ্গকভাবে জুড়ে দেয়া হয়েছে একের পর এক আপত্তিকর, যৌন উত্তেজক ও অশ্লীল দৃশ্য।

অভিযোগে আরো বলা হয়, ভিডিওটিতে ৫টি শাওয়ারের দৃশ্য, ৭টি সুইমিং পুলের দৃশ্য, ১টি শয্যাদৃশ্য ও ৩টি চুম্বন দৃশ্যসহ অনেক শিল্পগুণবর্জিত যৌন উত্তেজনা সৃষ্টিকারী অশ্লীল অভিনয়, অঙ্গভঙ্গি, নগ্ন বা অর্ধনগ্ন দৃশ্য রয়েছে। যার সঙ্গে গানের থিম বা বক্তব্যের কোনো মিল বা সংযোগ নেই। নেই কোনো শিল্পগুণের সঙ্গে সম্পর্ক।

দ্রুত জনপ্রিয় করার সস্তা রাস্তা হিসেবে কাটপিসের মতো ওইসব দৃশ্য সংযোজন করা হয়েছে। এমনকি ভিডিওটির কভার ছবিও অত্যন্ত অশ্লীল এবং অরুচিকর। এ ধরনের যৌন উত্তেজক, কাটপিস স্টাইল মিউজিক ভিডিও কেবল মিউজিক  ইন্ডাস্ট্রি নয়; গোটা সমাজ, পরিবার ও রাষ্ট্রের জন্য অশনি সংকেত।

 

 

 

 

০৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১১:৩৯:২৩