শিল্পী বারী সিদ্দিকী আর নেই
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
এক সপ্তাহ লাইফ সাপোর্টে থাকার পর মারা গেলেন প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী, গীতিকার, বাঁশিবাদক বারী সিদ্দিকী। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাত আড়াইটার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর। গত কয়েকদিন ধরে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন ছিলেন বারী সিদ্দিকী। গত দুই বছর ধরে কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন। গত বছর থেকে সপ্তাহে তিনদিন কিডনির ডায়ালাইসিস করে আসছিলেন। ডায়াবেটিস্‌ও ছিল তার। শুক্রবার (১৭ নভেম্বর) রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়লে দ্রুত তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১৮ নভেম্বর শনিবার ভোররাতে বারী সিদ্দিকীকে লাইফ সাপোর্টে নেন চিকিৎসকরা।

বহু বছর ধরে সঙ্গীতের সঙ্গে জড়িত এই গুণী শিল্পী। তবে জনপ্রিয়তার চূড়ায় উঠেন ১৯৯৯ সালে। কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ ছবিতে ছয়টি গান করেন তিনি যার প্রতিটিই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। গানগুলোর মধ্যে রয়েছে- ‘সুয়াচান পাখি আমি ডাকিতাছি তুমি ঘুমাইছ নাকি’, ‘পূবালি বাতাসে’, ‘আমার গায়ে যত দুঃখ সয়’, ‘ওলো ভাবিজান নাউ বাওয়া’ এবং ‘মানুষ ধরো মানুষ ভজো’।

এছাড়া তিনি কয়েকটি সিনেমায় প্লে-ব্যাক করেছেন। তার গাওয়া গান নিয়ে বের হয়েছে অডিও অ্যালবাম। নিয়মিত গান করেছেন টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে ও গানের আসরে। এসব আসর ছিল ব্যাপক দর্শক-শ্রোতা নন্দিত ।

বারী সিদ্দিকী ১৯৫৪ সালের ১৫ নভেম্বর নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে পরিবারের কাছে গান শেখায় হাতেখড়ি তার। মাত্র ১২ বছর বয়সেই নেত্রকোনার শিল্পী ওস্তাদ গোপাল দত্তের অধীনে তার আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ শুরু হয়। তিনি ওস্তাদ আমিনুর রহমান, দবির খান, পান্নালাল ঘোষসহ অসংখ্য গুণীশিল্পীর সরাসরি সান্নিধ্য লাভ করেন।

ওস্তাদ আমিনুর রহমান একটি কনসার্টের সময় বারী সিদ্দিকীকে অবলোকন করেন এবং তাকে প্রশিক্ষণের প্রস্তাব দেন। পরবর্তী ছয় বছর ধরে তিনি ওস্তাদ আমিনুর রহমানের অধীনে প্রশিক্ষণ নেন। সত্তরের দশকে জেলা শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গে যুক্ত হন তিনি।

 

২৪ নভেম্বর, ২০১৭ ০৯:২৭:১৯