শঙ্কায় আছেন বাঁধন, অপহরণ হতে পারে তার মেয়ে!
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
টেলিভিশন পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরি হক বাঁধন ৪ অক্টোবর বুধবার সকালে এক লিখিত বক্তব্য পাঠান সবকটি গণমাধ্যমে। তিনি সেখানে লিখেছেন, ‘গত কয়েকদিনে অনলাইন, পত্রিকাসহ কিছু গণমাধ্যমে আমাকে নিয়ে ও (সাবেক স্বামী) মাশরুর সিদ্দিকী সনেটের নানান কুৎসামূলক মন্তব্যকে উপজীব্য করে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সম্প্রতি সেগুলো আমার দৃষ্টিগোচর হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে আমি কিছু কথা বলা প্রয়োজন মনে করছি। তিনি সেখানে লিখেছেন,  বেশ কিছু দিন ধরে আমার জীবনে বয়ে যাচ্ছে অনাকাঙ্ক্ষিত এক ঝড়। একমাত্র মেয়ে সায়রাকে হারানোর দুশ্চিন্তা আমাকে গ্রাস করে নিচ্ছে।

কারণ, তার প্রাক্তন স্বামী মাশরুর সিদ্দিকী সনেট নতুন বিয়ে করে সংসার করছে এবং সায়রাকে তাদের কাছে নিয়ে যেতে চাচ্ছেন। নানা রকম ফন্দিও আঁটছেন বলে শোনা যায়। কিন্তু দমে যাওয়ার পাত্রী নন বাঁধন। মেয়েকে আগলে রাখার জন্য তিনি সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন। নিয়েছেন আইনের আশ্রয়।

উল্লেখ্য, মাত্র এক মাসের পরিচয়ে চার মাসের মাথায় মাশরুর সিদ্দিকী সনেট নামের এক ব্যবসায়ীকে ২০১০ সালের ৮ সেপ্টেম্বর বিয়ে করেছিলেন অভিনেত্রী বাঁধন হক। তারপর অভিনয় থেকে নিজেকে কিছুটা গুটিয়ে নিয়ে সংসারী হয়েছিলেন তিনি। সংসারী হবেন বলেই অল্প কিছুদিনের মধ্যে সন্তানও ধারণ করেছিলেন। কিন্তু কিছু দিনের মধ্যেই ভালোবাসা রূপ নেয় বিষাদে। সংসারী হতে গিয়েও আর হতে পারেননি। ৫ আগস্ট ২০১৪ সালে ডিভোর্সের নোটিশ দেন অভিনেত্রী বাঁধনের সাবেক স্বামী। ডিভোর্স পেপারে বলা হয়, বাঁধন মানসিক নির্যাতনকারী, পরকীয়ায় লিপ্ত, অসামজিক, ধর্মবিরোধীসহ আরও অনেক কিছু। হয়ে যায় ডিভোর্স। যদিও বিষয়টি পাঠকের সামনে আসে গত ২৯ সেপ্টেম্বর। বাঁধন নিজ মুখে সব কিছুই স্বীকার করে নেন। এর পর থেকেই বিষয়টি জানাজানি হয় গণমাধ্যমে। এরপরই বাঁধনের সাবেক স্বামী সনেট নানা ধরনের মিথ্যা মন্তব্য করেছেন গণমাধ্যমে বলে অভিযোগ করলেন বাঁধন।

ছোট্ট সায়রা দেশের আইন অনুযায়ী অন্তত ১৮ বছর পর্যন্ত মা বাঁধনের কাছেই থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সনেটের বিভিন্ন হুমকি বাঁধনকে শঙ্কিত করছে। 

বাধন জানান, সনেট ও তার বর্তমান স্ত্রী দু’জনের কাছ থেকে আমার মেয়েকে আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার হুমকি পাওয়ার পর থেকে, যে কোনো সময়ই আমার মেয়েকে অপহরণ করা হতে পারে, এমন আতঙ্ক আমাকে গ্রাস করছে।  তাছাড়া তারা আমার সঙ্গে এবং গণমাধ্যমে আমাকে নিয়ে যে কথাবার্তা বলেছেন, তাতে আমার মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে আমার মধ্যে তীব্র শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।

একজন সংস্কৃতিকর্মী বা গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যক্তি হিসেবে নয়, একজন সাধারণ মানুষ বা একজন বিপন্ন নারী হিসেবেই এ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণে আপনাদের কাছ থেকে আমি সাহায্য চাই। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রের কাছ থেকে আমি অন্তত নৈতিক সমর্থনটুকু পাবো। 

০৫ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:৩৭:০৮