‘প্রসেনজিতকে ছেড়ে আমি এখন দিল্লি থাকি’
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
প্রসেনজিত চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী অর্পিতা চট্টোপাধ্যায়


টালিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রির ‘ফার্স্টলেডি’ বললে খুব একটা অত্যুক্তি বোধহয় হবে না। কিন্তু তবু অভিনয়, সংসার ছেড়ে গত চার-পাঁচ বছর তিনি দিল্লিবাসী। সেখানেই নিজের মতো করে ব্যবসা করছেন প্রসেনজিত চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী অর্পিতা চট্টোপাধ্যায়। অভিনেত্রী সত্তার পরও বিজনেস উইম্যান হিসেবে এ এক অন্য আইডেন্টিটি। চলতি মাসের শেষে মুক্তি পাবে তার হিন্দি ছবি ‘শব্’। তারই প্রচারে কলকাতায় এসে আনন্দবাজার পত্রিকার মুখোমুখি হন এ অভিনেত্রী।

কলকাতা ছেড়ে ব্যবসা করতে হঠাৎ দিল্লি গেলেন কেন?

কলকাতায় আমি যে বছর শুরু করি, সে বছর সারদা হিট করে। ফলে বুঝতেই পারছেন, এখানে তখন আর কিছুই সম্ভব ছিল না। আর আমার বিজনেস পার্টনার বরুণ দিল্লিতে থাকে। ফলে আমার কাছে কলকাতা অথবা দিল্লি কোথাও একটা কাজ করতে হতো।

কলকাতায় থাকলে ইন্ডাস্ট্রিতে প্রসেনজিতের প্রত্য বা পরো প্রভাব কোথাও সমস্যার কারণ হয়েছিল?

বিজনেসের জায়গায় আমার মনে হয় না বুম্বাদার নাম কোথাও আসে। আমার কাছে ইটস নাথিং বাট আ বিজনেস। কলকাতা তো আমার কমফোর্ট জোন। আমার কানেকশন সব এখানে। সেটআপ এখানে। আমি কেন কলকাতা ছেড়ে ভারতের সবচেয়ে খারাপ জায়গা দিল্লিতে যাব? আমরা তো চেষ্টা করেছিলাম। সামহাউ ওয়ার্ক করল না। খুবই আনফরচুনেট।

এখন তা হলে বিজনেসের কাজে দিল্লিতেই থাকবেন?

অবশ্যই। আরও চার-পাঁচ বছর তো বটেই। যদি না তারপর আমি দেশ ছেড়ে চলে যাই।

তাহলে দেশ ছেড়ে যাওয়ারও পরিকল্পনা আছে!

অবশ্যই আছে। সেটা আমার ছেলের জন্য। এমনিতেই আমার একটা পরিকল্পনা রয়েছে বিদেশে ওকে হায়ার স্টাডিজ করানোর। কারণ ওর স্কুল থেকে ৯০ শতাংশ ছেলেমেয়েই বিদেশে যায়। তা ছাড়া ও ফুটবলার হতে চায়। বিদেশে আরও ভালোভাবে সেটা করা যাবে।

‘শব্’-এর স্ক্রিপ্ট এত পছন্দ হলো কীভাবে?

প্রথম কারণ ওনির (এই ছবির পরিচালক)। ও এ ছবিটায় আমার হ্যাঁ বলার অন্যতম কারণ। আমি যখন চিত্রনাট্য পড়েছিলাম, তখন কোনো চরিত্র করছি না ভেবেই পড়েছিলাম। গল্পটা খুব ভালো লেগেছিল। আর ওনিরের ছবির একটা সিগনেচার মার্ক তো থাকেই।

ছবিতে আপনার চরিত্রটা কেমন?

আমার চরিত্র মানে, রায়না দিল্লির মেয়ে। ক্যাফেটেরিয়ায় কাজ করে। সেলফ ডিপেন্ডেন্ট। কনফিডেন্ট একটা ক্যারেক্টার। তবে রহস্য আছে ওর মধ্যে। রায়নার একটা ব্যাক স্টোরি রয়েছে। সেটা কী এখনই আমি বলব না। ওর কিন্তু দিল্লিতে জন্ম, বড় হওয়া নয়। জীবন ওকে দিল্লিতে নিয়ে এসে ফেলেছে।

এখনকার বাংলা ছবি দেখেন?

দিল্লিতে খুব একটা দেখা হয় না। অনেকের কাছেই ডিভিডি চাই আমি। পাইও অনেক সময়। তবে রিলিজের অনেকটা পর হয়তো দেখতে পাই।

তাহলে কলকাতায় এলে বাংলা ছবি দেখেন?

কলকাতায় এলে ছেলের সঙ্গে ছবি দেখি। কিন্তু মিশুক বাংলাটা বুঝতে পারে না। ফলে বাংলা ছবি ফলো করতে পারে না। ও ছোট থেকে বাইরে থাকার জন্য বাংলা লিখতে বা পড়তে পারে না। বলতে পারে, তবে সেটাও বেসিক। ছেলেকে নিয়ে এত কথা হলো, ওর সঙ্গে আপনার একটা ছবি দেবেন প্লিজ? না, প্লিজ। ওকে আমি মিডিয়া থেকে দূরে রাখতে চাই। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা







 


১২ জুন, ২০১৭ ২০:৩৮:১৪