'আমি আর কটা দিন বাঁচতে চাই'
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
অসংখ্য কালজয়ী গানের শিল্পী আব্দুল জব্বার
অসংখ্য কালজয়ী গানের শিল্পী আব্দুল জব্বার শরীরে জটিল রোগ নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নেফ্রোলজি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার চোখে-মুখে শুধুই হতাশার ছাপ। চিকিত্সকরা জানিয়েছেন, তার কিডনির অবস্থা একদমই ভালো না। হার্টের ভাল্ব নষ্ট হয়ে গেছে। কোমরে ভীষণ যন্ত্রণা অনুভব করছেন। তিনি বর্তমানে নেফ্রোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ডা. শহীদুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আবদুল জব্বার বলেন, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে গান দিয়ে মানুষকে উজ্জীবিত করেছি। মনে সাহস জুগিয়েছি। এখন আমি নিজেই অসহায়। রোগে ভুগছি। অর্থ সাহায্যটাই এখন জরুরি। আমি সবার সহযোগিতা চাই।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে  তিনি বলেন, যখন লাইফ সাপোর্টে থাকব তখন অনেকে দেখতে আসবেন! মারা গেলে শহীদ মিনারে রাখা লাশে ফুল দেবেন! কিন্তু আমার এসব কিছুর দরকার নেই। আমি আরো কিছুদিন বাঁচতে চাই। আর এজন্য আমার কিছু টাকা দরকার। কিছু টাকা দিয়ে আমায় সহযোগিতা করুন।

জানা যায়, আবদুল জব্বারের চিকিৎসা করাতে ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। আবদুল জব্বার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার চিকিৎসাবাবদ ২০ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন। বেশ কয়েকজন বিত্তশালীও এগিয়ে এসেছেন। এখনও বাকি মোটা অঙ্কের টাকা। কীভাবে জোগাড় হবে জানি না।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, শেষ জীবনে এসে আমার মত শিল্পীরা অসহায় হয়ে পড়ে। চিকিৎসা করাতে পারে না অর্থাভাবে। বিত্তশালীদের উচিত আমাদের সাহায্যে এগিয়ে আসা।

বিদেশে চিকিৎসা করাবেন কিনা জানতে চাইলে শিল্পী আবদুল জব্বার জানান, তাঁর চিকিৎসার বিষয়ে শিগগিরিই একটি মেডিকেল বোর্ড বসবে। সেখান থেকে ডাক্তারদের মতামত জানার পরে তিনি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে এক্ষেত্রে অর্থের বিষয়টিও অনেক বড় বিষয়। তিনি বলেন, যে যা টাকা দিচ্ছে, এখানে চিকিৎসা করাতেই খরচ হয়ে যাচ্ছে। তাই বলা কঠিন কত টাকা হলে আমার চিকিৎসা শেষ হবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ভিসি অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান শিল্পীর অবস্থা সম্পর্কে জানান, ‘শিল্পী আবদুল জব্বার ক্রনিক কিডনিজ ডিজিস (সিকেডি) স্পেস ফোরে ভুগছেন। এছাড়া তার লিভারে সমস্যা রয়েছে। তিনি বর্তমানে নেফ্রোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ডা. শহীদুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এখনও তাকে মুখে ওষুধ দেয়া হচ্ছে। আপাতত তার ডায়ালাইসিসের প্রয়োজন হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কামরুল হাসান।

উল্লেখ্য, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আব্দুল জব্বার হারমোনিয়াম গলায় ঝুলিয়ে কলকাতার বিভিন্ন ক্যাম্পে গিয়ে গান গেয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্ধুদ্ধ করেছেন। সেই দুঃসময়ে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে গেয়েছেন অসংখ্য গান। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে এই শিল্পীর গাওয়া বিভিন্ন গান মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণা ও মনোবল বাড়িয়েছে।

গলায় হারমোনিয়াম ঝুলিয়ে ভারতের বিভিন্ন স্থানে গণসংগীত গেয়েছেন তিনি। গান গেয়ে প্রাপ্ত ১২ লাখ টাকা স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের ত্রাণ তহবিলে দান করেছিলেন। তিনি স্বাধীনতা পদক, একুশে পদকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পদক অর্জন করেছেন।

১৯৭১ সালে তিনি মুম্বাইয়ে ভারতের প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য জনমত তৈরিতে নিরলসভাবে কাজ করে যান।  ‘ও..রে নীল দরিয়া’, ‘তুমি কি দেখেছ কভু জীবনের পরাজয়’, ‘সালাম সালাম হাজার সালাম’, ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’ ও ‘পিচ ঢালা এই পথটাকে ভালোবেসেছি’সহ অসংখ্য কালজয়ী গান গেয়েছেন শিল্পী আব্দুল জব্বার।

 

০২ জুন, ২০১৭ ১২:০৮:৩৩