কীভাবে নাসিরের জীবন বাঁচিয়েছিলেন ওম পুরী?‌
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
নাসিরুদ্দিন শাহ
সমান্তরাল সিনেমা বলতেই ভেসে ওঠে দুটি নাম। ওম পুরী ও নাসিরুদ্দিন শাহ। একে অন্যের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামা ও পুনের ফিল্ম ইনস্টিটিউটে দুজন একসঙ্গে পড়াশোনা করেছেন। কিন্তু এই ওম পুরীই এক সময় নাসিরুদ্দিনের জীবন বাঁচিয়েছিলেন, এটা কজন জানতেন?‌ ওম পুরীর মৃত্যুর পর নাসিরুদ্দিন শাহ-র আত্মজীবনীতে উঠে আসল চল্লিশ বছর আগের সেই পুরানো ঘটনা।  

আত্মজীবনীতে নাসির লিখেছেন, ‘‌একদিন একটি রেস্তোরাঁয় আমি আর ওম নৈশভোজ সারছি। হঠাৎ সেখানে ঢুকল যশপাল, আমার পুরানো এক বন্ধু। সে এসে ওমকে শুভেচ্ছা জানিয়ে অন্য একটি টেবিলে চলে গেল। আমরা দুজনেই ব্যাপারটায় বিশেষ গুরুত্ব দিলাম না। ’‌ 

যশপালের সঙ্গে আগে কোনও একটি বিষয় নিয়ে বিবাদ হয়েছিল নাসিরুদ্দিন শাহ-র। কিন্তু এভাবে তার বদলা নিতে উদ্যত হবেন, ভাবতেও পারেননি নাসির। হঠাৎ পেছন থেকে ছুরি দিয়ে আক্রমণ। নাসিরের পিঠে ছুরি বসিয়ে দিলেন যশপাল। মুহূর্তের মধ্যে ঘটে গেল ঘটনাটি। একবার কোপ বসানোর পর দ্বিতীয়বার কোপ বসাতে গেল যশপাল। তখনই ওম যশপালের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন। দ্বিতীয়বার আর ছুরির কোপ বসাতে পারলেন না যশপাল।  চল্লিশ বছরের পুরানো সেই তিক্ত দিনটার কথা ভোলেননি নাসির। তাঁর বর্ণনায়, ‘‌রক্তে তখন আমার জামা ভিজে গিয়েছে। রক্ত গড়িয়ে পড়ছে, প্যান্টও ভিজে যাচ্ছে সেই রক্তে। ’‌ 

এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভিড় জমে যায়। এদিকে নাসিরকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে না। রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের দাবি, আগে পুলিশ আসবে, তার আগে কোথাও যাওয়া যাবে না। হাসপাতালে নিয়ে যেতেও অনেক ঝক্কি সামলাতে হয়েছিল। পুলিশের অনুমতি ছাড়াই তিনি নাসিরকে পুলিশের গাড়িতে তুলেছিলেন। সেই গাড়িতেই নিয়ে যাওয়া হয়েছিল জুহুর একটি হাসপাতালে। সেই কৃতজ্ঞতার ঋণ এখনও ভোলেননি নাসির।  সূত্র: আজকাল

০৮ জানুয়ারি, ২০১৭ ২৩:১০:০৮