খুলনা মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা শুক্রবার
মাওলা বকস, খুলনা
অ+ অ-প্রিন্ট
শুক্রবার সারাদেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা। খুলনা কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী তিন হাজার একান্ন জন  চার হাজার ৬৮টি আসনের বিপরীতে ৬৫ হাজার ৯১৯ জন পরীক্ষার্থী। অর্থাৎ ১৬ জনকে টপকিয়েই ভর্তির সুযোগ পেতে হবে একজনকে। এরপরও রয়েছে মেধার ক্রমানুসারে কলেজ প্রাপ্তির সুযোগের বিষয়টিও। এভাবে ব্যাপক প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক অংশগ্রহণের মধ্যদিয়েই আগামীকাল শুক্রবার সারাদেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা। দেশের ৩৫টি মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য ১৯টি কেন্দ্রে একযোগে পরীক্ষা শুরু হবে আগামীকাল সকাল ১০টায়। চলবে বেলা ১১টা পর্যন্ত। পরীক্ষার পরপরই উত্তরপত্রগুলো সীলগালা করে পুলিশী প্রহরায় ম্যাজিষ্ট্রেটের উপস্থিতিতে নিয়ে যাওয়া হবে ঢাকার মহাখালীস্থ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে। সেখানে ওএমআর ও আইসিআর’র মাধ্যমে উত্তরপত্র মূল্যায়নের পরই ফল প্রকাশ করা হবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে। পরীক্ষার্থী টেলিটক মোবাইলের মাধ্যমে এসএমএস দিয়েও জানতে পারবে ফলাফল।

এদিকে, খুলনা মেডিকেল কলেজ কেন্দ্রে কালকের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের কথা রয়েছে তিন হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থীর। এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষাকে সামনে রেখে খুলনা মেডিকেল কলেজে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সভাও হয়েছে। কালকের পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে নেয়া হয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচী। সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হলেও কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে সকাল সাড়ে নয়টার মধ্যেই। সাড়ে নয়টার পর থেকে গেট বন্ধ হয়ে যাবে।

প্রশ্নপত্র ফাঁসরোধেও নেয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্ততি। পরীক্ষার আধাঘন্টা আগে ট্রেজারি থেকে সীলকরা প্রশ্নপত্র গ্রহণের সময় টিমের সাথে থাকা একটিমাত্র স্মার্টফোনের মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে ছবি তুলে জানাতে হবে ইন্টারনেটের মাধ্যমে। এরপর থেকে প্রশ্নপত্র নিয়ে হলে প্রবেশ ও বিলি পর্যন্ত প্রতিটি কার্যক্রমই শুধুমাত্র অনলাইনের মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানিয়েই সম্পন্ন করতে হবে। তাছাড়া প্রশ্নপত্রের সাথে একটি ডিভাইস দেয়া থাকবে আগে থেকেই। যার মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রণ করবে সেটি কোথায় কখন যাচ্ছে সেটিও। পরীক্ষার হলেও কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাথে যোগাযোগের জন্য একটি কেন্দ্রে দুই অথবা চারটি এনালগ মোবাইল ব্যবহার করা যাবে। সেগুলোও সরবরাহ করা হবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে। পরীক্ষা শেষে ওই মোবাইলগুলোও নিয়ে যাওয়া হবে এবং পর্যবেক্ষন করা হবে তা দিয়ে অন্য কোথাও কেউ যোগাযোগ করেছেন কি না।

এভাবে বিগত কয়েক বছরের চেয়ে এবার আরও অনেক কঠোরতার মধ্যদিয়েই অনুষ্ঠিত হচ্ছে মেডিকেলের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা। খুলনা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও খুলনা কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক অধ্যাপক ডা: মো: আব্দুল আহাদ বলেন, ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী মিলিয়ে সর্বমোট ৩১৭জন জনবল পরীক্ষা সংক্রান্ত কাজে জড়িত থাকবে। তবে তাদের কেউই মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না।

প্রশ্নপত্র রোধে বিগত একমাস আগে থেকেই খুলনার সব মেডিকেল ভর্তি সংক্রান্ত কোচিং সেন্টারগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অফিসিয়াল কার্যক্রম চালু থাকলেও বিগত পাঁচদিন আগে থেকে তাও বন্ধ হয়ে গেছে। এখন কোন কোচিং সেন্টারের অফিসও খোলা রাখতে পারছেন না কর্তৃপক্ষ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক, চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন অধ্যাপক ডা: মো: আব্দুর রশিদ বলেন, এবার ৩৫টি মেডিকেল কলেজে চার হাজার ৬৮টি আসনের বিপরীতে মোট ৬৫ হাজার ৯১৯ জন পরীক্ষার্থী আবেদন করেছে। চার হাজার ৬৮টি আসনের মধ্যে সাধারণ আসনে তিন হাজার ৯৬৬ জন ভর্তির সুযোগ পাবে। বাকী আসনগুলোর মধ্যে ৮২টি রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা কোটা ও ২০টি উপজাতীয় কোটার আওতায়। খুলনা মেডিকেল কলেজে ১৬০টি আসনের মধ্যে ৩টি মুক্তিযোদ্ধা এবং একটি উপজাতী কোটা রয়েছে বলেও অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে প্রচার করা হয়।

 

০৪ অক্টোবর, ২০১৮ ২২:৫৬:০৮