একাদশে ভর্তির প্রথম তালিকা প্রকাশ
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম
অ+ অ-প্রিন্ট
গতকাল (৪ জুন) রাত ১২টায় প্রকাশিত হয়েছে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রথম মেধা তালিকা। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি সহায়তায় আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির এ তালিকা প্রকাশের কথা। সেটি হলে পত্রিকা হাতে পাওয়ার আগেই হয়তো ফলাফল জানার সুযোগ হয়েছে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের। কারণ, এরই মধ্যে আবেদনে প্রদত্ত মোবাইল নম্বরে ফলাফল সংক্রান্ত এসএমএস পৌঁছে গেছে নিশ্চয়ই। ভর্তি সংক্রান্ত (ষষষ.সধডফট্র্রটঢবধ্র্রধমভ.থমশ.ঠঢ) ওয়েবসাইট এবং আজ সকাল থেকে সংশ্লিষ্ট কলেজগুলির নোটিশ বোর্ডেও এ ফল পাওয়া যাবে। গত ৯ মে থেকে ওয়েবসাইট ও মুঠোফোনের এসএমএস’র মাধ্যমে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইনে এ আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়। শেষ হয় ২৬ মে। অবশ্য, পুনঃনিরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর আরো দুই দিন (৩০ ও ৩১ মে) আবেদনের সুযোগ পায় ভর্তিচ্ছুরা। এ সময়ে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের অধীন ২৪৮টি কলেজে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ আবেদন জমা পড়েছে বলে শিক্ষাবোর্ডের কলেজ শাখা সূত্রে জানা গেছে। মোট ১ লাখ ৮ হাজার ৬৮০ জন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী অনলাইন ও মোবাইল এসএমএস-এর মাধ্যমে এসব আবেদন করেছে।

এদিকে, ১ম মেধা (আজ প্রকাশিত) তালিকায় মনোনীতদের ৬ থেকে ৮ জুনের মধ্যে তাদের ভর্তি নিশ্চায়ন করতে হবে। টেলিটক বা মোবাইল ব্যাংকিং রকেট ও শিওর ক্যাশের মাধ্যমে বোর্ডের রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ ১৮৫ টাকা প্রদানের মাধ্যমে এ নিশ্চায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে মনোনীত শিক্ষার্থীদের। নির্দিষ্ট সময়ের (৮ জুন) মধ্যে বোর্ডের এ ফি প্রদান করে ভর্তি নিশ্চায়ন করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর মনোনয়ন ও আবেদন বাতিল হয়ে যাবে। তাই মনোনীত হওয়ার পর ভর্তি নিশ্চায়নের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করে শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক সুমন বড়ুয়া বলেন, একজন শিক্ষার্থী একটি কলেজে ভর্তির জন্য মনোনীত হওয়ার পরও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে (প্রথম মেধা তালিকার জন্য ৮ জুন) বোর্ডের ফি বাবদ ১৮৫ টাকা প্রদান করে ভর্তি নিশ্চায়ন করতে ব্যর্থ হলে তার মনোনয়ন বাতিল বলে গণ্য হবে। পাশাপাশি তার আবেদনটিও বাতিল হয়ে যাবে। তাই মনোনীত হওয়ার পর ভর্তি নিশ্চায়নের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নেয়ার জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষা বোর্ডের এই কর্মকর্তা।

অন্যদিকে, ১ম দফায় মনোনীতদের নিশ্চায়নের পর ২য় পর্যায়ে মাইগ্রেশনের আবেদন ও নতুন আবেদন করতে পারবে সুযোগ না পাওয়া শিক্ষার্থীরা। ৯ ও ১০ জুন তারা এ সুযোগ পাবে। ১৩ জুন প্রকাশ করা হবে ২য় মেধা তালিকা। ১৪ ও ১৫ জুনের মধ্যে ২য় মেধা তালিকায় মনোনীতদের নিশ্চায়ন সম্পন্ন করতে হবে। ২য় তালিকায় মনোনীতদের নিশ্চায়নের পর ৩য় পর্যায়ে আবেদনের সুযোগ থাকছে ১৬ ও ১৭ জুন। ১৮ জুন সর্বশেষ বা ৩য় মেধা তালিকা প্রকাশ করা হবে। ৩য় তালিকায় মনোনীতদের নিশ্চায়ন সম্পন্ন করতে হবে ১৯ জুনের মধ্যে। আর ২০ থেকে ২২ জুন প্রথম দফায় এবং ২৮ থেকে ২৯ জুন দ্বিতীয় দফায় ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করবে কলেজগুলো। ভর্তি কার্যক্রম শেষে ক্লাস শুরু হবে ১ জুলাই।

শিক্ষাবোর্ডের কলেজ শাখার তথ্য মতে- বোর্ড অনুমোদিত মোট ২৪৮টি কলেজে (সরকারি-বেসরকারি) এবার শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি কলেজের সংখ্যা ২১টি। আর বাকি ২২৭টি বেসরকারি (এমপিওভুক্ত, সিটিকর্পোরেশন অধিভুক্ত ও এমপিও বহির্ভুক্ত)। সব মিলিয়ে এসব কলেজে মোট আসন সংখ্যা ১ লাখ ৩১ হাজার ৫৭৫টি। এর মধ্যে বিজ্ঞানে ২৮ হাজার ১৪০, মানবিকে ৪৮ হাজার ২৩৫ এবং ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার ২০০টি আসন রয়েছে। আর গত ৪ মে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়- এবারের এসএসসি পরীক্ষায় মোট পাশ করেছে ৯৯ হাজার ২২ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে বিজ্ঞান থেকে ২৬ হাজার ৫২১ জন অংশ নিয়ে পাশ করেছে ২৪ হাজার ৪১৯ জন। ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে মোট ৫৭ হাজার ৮৮২ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করে ৫০ হাজার ৩৩ শিক্ষার্থী। আর মানবিকের ৩৩ হাজার ৪৯৪ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাশ করেছে ২৪ হাজার ৫৭০ জন। এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা এবং কলেজের মোট আসন সংখ্যা বিবেচনায় একাদশে ভর্তিতে এবার আসন সংকট থাকছেনা বলে জানান শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক সুমন বড়ুয়া। তবে বরাবরের মতোই নগরীর প্রথম সারির কলেজগুলিতে প্রচুর চাপ থাকছে জানিয়ে সুমন বড়ুয়া বলেন, এসব কলেজে আসনের তুলনায় প্রতিবারই ১০ থেকে ১২ গুণ বেশি আবেদন জমা পড়ে। এবারও পড়েছে। কিন্তু আসনের সমান সংখ্যক শিক্ষার্থী এসব কলেজে ভর্তির সুযোগ পাবে। অবশিষ্টদের উল্লেখযোগ্য একটি সংখ্যা তাদের কাঙ্খিত কলেজে ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে। তাদেরকে বেসরকারি বা নগরীর বাইরে সরকারি কোন কলেজে ভর্তি হতে হবে।

এবার সর্বোচ্চ দশটি কলেজে আবেদনের সুযোগ ছিল ভর্তিচ্ছুদের। গতবার একজন শিক্ষার্থীকে যোগ্যতা থাকা সাপেক্ষে আবেদন করা প্রতিটি কলেজেই ভর্তির জন্য মনোনীত করা হয়। তবে এবার এ সুযোগ নেই। আবেদনকৃত কলেজগুলির মধ্য থেকে যোগ্যতা ও পছন্দক্রম সাপেক্ষে একটি মাত্র কলেজে এবার ভর্তির জন্য মনোনীত করা হবে একজন শিক্ষার্থীকে। আর মনোনীত ওই কলেজেই ভর্তি হতে হবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে।

ভর্তি ফি : কলেজ ভর্তিতে এলাকা ভিত্তিক ফি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে নীতিমালায়। নীতিমালা অনুযায়ী চট্টগ্রাম মহানগরের কলেজগুলো ভর্তির ক্ষেত্রে সেশন চার্জসহ তিন হাজার টাকার বেশি আদায় করতে পারবে না। আর এই তিন হাজার টাকার বাইরে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত কোন টাকাও নেয়া যাবে না। এমনকি উন্নয়ন ফি’র নামেও কোন টাকা আদায় করা যাবে না।

নীতিমালার ৫.০ অনুচ্ছেদের উপ-অনুচ্ছেদ ৫.৫.১ অনুযায়ী- কলেজ ভর্তিতে সেশনচার্জসহ ভর্তি ফি বাবদ সর্বসাকুল্যে মফস্বল বা পৌর (উপজেলা) এলাকায় ১ হাজার টাকা, পৌর /জেলা সদর এলাকায় ২ হাজার টাকা ও ঢাকা ব্যতীত অন্যান্য মেট্রোপলিটন এলাকায় ৩ হাজার টাকার বেশি নেয়া যাবে না। একই অনুচ্ছেদের উপ-অনুচ্ছেদ-৫.৫.২ অনুযায়ী- ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় অবস্থিত এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে ৫ হাজার টাকার অতিরিক্ত আদায় করতে পারবেনা। ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় অবস্থিত আংশিক এমপিওভুক্ত বা এমপিও বহির্ভূত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং এমপিও বহির্ভূত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা প্রদানের জন্য শিক্ষার্থী ভর্তির সময় ভর্তি ফি, সেশন চার্জ ও উন্নয়ন ফিসহ বাংলা মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৯ হাজার টাকা এবং ইংরেজি ভার্সনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা গ্রহণ করতে পারবে। উন্নয়ন খাতে কোন প্রতিষ্ঠান ৩ হাজার টাকার বেশি আদায় করতে পারবেনা। অবশ্য, এ অনুচ্ছেদটি শুধুই ঢাকা মহানগরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রযোজ্য।

 

০৫ জুন, ২০১৭ ০৯:১৬:৪১