খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আসবে ১৭ সরকারি কলেজ
মাওলা বকস, খুলনা প্রতিনিধি
অ+ অ-প্রিন্ট
শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সেশনজট নিরসনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সরকারি কলেজগুলো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দেয়া হচ্ছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আসবে এ অঞ্চলের ১৭টি সরকারি কলেজ। গত ১৬ ফেব্রয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়েছে রাজধানীর ৭টি সরকারি কলেজ। পর্যায়ক্রমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ২৮১টি সরকারি কলেজকে বিভাগীয় পর্যায়ে পুরনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত করা হবে।

ইউজিসি’র নির্ধারিত ক্যাচমেন্ট এরিয়া অনুযায়ী, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ১৭টি, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ১৯টি, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ৫টি কলেজ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সম্প্রতি সরকার আরো কয়েকটি কলেজ সরকারি করেছে। আরও কলেজ জাতীয়করণের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অধীনে কলেজের সংখ্যা আরও বাড়বে।

সূত্র জানায়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দেয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা কলেজগুলোর মধ্যে রয়েছে সরকারি বিএল কলেজ, আযমখান সরকারি কমার্স কলেজ, খুলনা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি মজিদ মেমোরিয়াল সিটি কলেজ, সরকারি সুন্দরবন আদর্শ মহাবিদ্যালয়, সরকারি পাইওনিয়ার মহিলা কলেজ, সরকারি হাজী মুহম্মদ মহসিন কলেজ, সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজ, সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজ, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ, সাতক্ষীরা সিটি কলেজ, বাগেরহাট পিসি কলেজ, নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ ও নড়াইল সরকারি মহিলা কলেজসহ মোট ১৭টি সরকারি কলেজ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সরকারি কলেজ বিকেন্দ্রীকরণ করা হলে প্রায় ১২ লাখ শিক্ষার্থী অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে চলে যাবে। ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া বাকি ১৭ বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শন বিভাগ পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবল নেই। নেই ভৌত অবকাঠামো। শুধু জনবল নিয়োগ দিলেই চলবে না। তাদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। নির্মাণ করতে হবে অবকাঠামো। এজন্য কি পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন হবে তা জানতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদা জানতে চিঠি দেয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান বলেন, “গত বছর এ সম্পর্কিত সভায় আমি বলেছিলাম সরকারি কলেজগুলো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করতে দু’টি জিনিসের প্রয়োজন হবে। অবকাঠামো ও জনবল। এমনিতেই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে জনবল সংকট রয়েছে। ঢাবিতে সরকারি কলেজ অধিভুক্ত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আসবে এ অঞ্চলের সরকারি কলেজগুলো। অবশ্যই তার আগেই সরকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও জনবলের বিষয়টি বিবেচনা করবেন বলে বিশ্বাস করি।”

এ ব্যাপারে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান জানান, এটি প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন। সরকারি কলেজগুলো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে গেলে কলেজের শিক্ষার মান বাড়বে, সেশনজট কমবে। এজন্য সব কার্যক্রম দ্রুত শেষ করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর ইউজিসি থেকে শিক্ষা সচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসারে সরকারি কলেজগুলোর অধীনে নিতে এসব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন করে কলেজ পরিদর্শকের কার্যালয় খুলতে হবে। প্রথম পর্যায়ে ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন করে অন্তত ৮৩০ জন জনবল নিয়োগ দিতে হবে। শুধু জনবল নিয়োগ দিলেই হবে না, তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। এতে বেতন-ভাতা বাবদ প্রতিবছর আরও ৩০ কোটি টাকা বেশি ব্যয় হবে।

শিক্ষাবিদদের মতে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অধীনে ছিল সরকারি কলেজ। দীর্ঘ সেশনজটের কারণে ১৯৯২ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন সরকারি ও বেসরকারি অনার্স-মাস্টার্স পাঠদানের কলেজগুলো পরিচালনার ভার দেয়া হয়। নতুন করে সরকারি কলেজ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তের কারণে সরকারি কলেজগুলো দুই যুগ পর ফের আগের জায়গায় ফিরে যাবে।

২০১৪ সালের ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে গিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ২৮১টি সরকারি কলেজকে বিভাগীয় পর্যায়ে পুরনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত করার নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য ইউজিসি কমিশনের সাবেক সদস্য অধ্যাপক মোঃ মোহাব্বত খানের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর ওই কমিটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করে। ইউজিসির দ্বিতীয় কমিটি দেশের ১৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাচমেন্ট (নিকটবর্তী) এরিয়া নির্ধারণ করে ২৭৬টি কলেজ ভাগ করে দেয়।

 

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৭:৫২:২৮