ভর্তি পরিক্ষা শিক্ষকদের উপার্জনের মাধ্যম : ড. জাফর ইকবাল
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম
অ+ অ-প্রিন্ট
'এসএমএস পদ্ধতিতে ভর্তি আবেদন শুরু হওয়ার পর খরচ অনেকাংশে কমে গেছে। তারপরেও প্রতি ইউনিটে ভর্তি ফি হিসেবে এক হাজার থেকে বারো শ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে যা কোনভাবেই আমি মানতে পারছিনা। আসলে এটা ভর্তি কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত শিক্ষকদের উপার্জনের একটা মাধ্যম।' সোমবার দুপুর দেড়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইসিটি ভবনে চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের আলাপকালে এসব কথা বলেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক ও দেশবরেণ্য কথা সাহিত্যিক অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল। 

এসময় তিনি আরো বলেন, ১৯৯৪ সালে আমি যখন প্রথম এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আসি তখন ভর্তি কমিটির সদস্য ছিল ৫ জন। কিন্তু বর্তমানে ভর্তি কমিটি ২৯ সদস্যবিশিষ্ট! এতে অনেকগুলো উপ কমিটি করা হয় যাদের কাজের চাইতে টাকা অনেক বেশি দিতে হয়। পুরো প্রক্রিয়াটা শিক্ষকদের অর্থ উপার্জনের ব্যবস্থা ছাড়া কিছুই না।

চলমান ‘ভর্তি ফরমের মূল্যবৃদ্ধি বিরোধী শিক্ষার্থী মঞ্চ’র আন্দোলনের সাথে সহমর্মিতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই আন্দোলনকে আমি যৌক্তিক মনে করি। আন্দোলন সফল হবে কিনা আমি জানিনা। তবে অভিনন্দন জানাতে চাই আমাদের ছাত্রছাত্রীদের যারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের কষ্ট বুঝে আন্দোলনে নেমেছে।

এসময় ড. জাফর ইকবাল সম্মিলিত ভর্তি পরীক্ষার দাবি জানিয়ে বলেন, সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি সম্মিলিত ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া যেত তাহলে শিক্ষার্থীদের খরচ ও ভোগান্তি অনেকাংশে কমে যেত। কিন্তু চলমান নিয়মে শিক্ষকদের উপার্জনের ব্যবস্থা থাকায় সম্মিলিত পদ্ধতিও চালু করা সম্ভব হচ্ছেনা। অচিরেই শুধু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে না, সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার নিয়মটা পরিবর্তন করা হোক।

এদিকে ভর্তি পরিক্ষার আবেদন ফি ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধির প্রতিবাদে ও বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিন আন্দোলনে মুখর ছিল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। সোমবার গণস্বাক্ষর, মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

অপরদিকে ভর্তি ফরমের মূল্য হ্রাস করে অচিরেই বিশ্ববিদ্যালয়ে এ্যাডমিশন অফিস স্থাপনের দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ। দপ্তর সম্পাদক মুশতাক আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

১৭ অক্টোবর, ২০১৬ ১৯:১৯:৫৫