জেএসসি পরীক্ষা কেন বেআইনি নয়: হাইকোর্ট
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম
অ+ অ-প্রিন্ট
জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা  কেন ‘আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত’ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল এ রুল জারি করেন।

শিক্ষা সচিব, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব, ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব এবং ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজকে চার সপ্তাহের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে ২০০৯ সালে পঞ্চম শ্রেণীতে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার প্রচলন হয়। পরের বছর মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হয় ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষা। আর ২০১০ সালের ১৫ জুন জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদাভাবে আয়োজন করা হয় জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা। ওই প্রজ্ঞাপনকে চ্যালেঞ্জ করে ভিকারুননিসা নূন স্কুলের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ চলতি বছরের ৩১ আগস্ট রিট আবেদনটি করেন।

রিটের পক্ষে মো. ইউনুছ আলী আকন্দ নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মোখলেসুর রহমান।

রিট আবেদনে বলা হয়, ১৯৬১ সালের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধ্যাদেশে এ ধরনের কোনো পরীক্ষার কথা বলা না থাকলেও প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরকার জেএসসি পরীক্ষা চালু করেছে। এতে শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ বাড়ছে। পাশাপাশি বিস্তার ঘটছে কোচিং বাণিজ্যের।

এদিকে প্রাথমিক স্তর অষ্টম শ্রেণীতে উন্নীত হওয়ায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এ বছর থেকেই পঞ্চম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষা উঠিয়ে অষ্টম শ্রেণীতে সমাপনী পরীক্ষা নেয়ার প্রস্তাব করে। তবে মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্তে ২৭ জুন অসম্মতি জানায় মন্ত্রিসভা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম ওইদিন সাংবাদিকদের বলেন, ক্লাস ফাইভে যে সমাপনী পরীক্ষাটা হয়, এটা বাতিল করে অষ্টম শ্রেণীতে প্রাইমারি সমাপনী পরীক্ষা নেয়ার একটা প্রস্তাব ছিল। মন্ত্রিসভা এটা বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ফের উপস্থাপনের জন্য বলেছে। মন্ত্রিসভায় প্রস্তাবটি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত আগের মতো প্রাথমিক সমাপনী এবং জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা চলতে থাকবে। মন্ত্রণালয় যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল মন্ত্রিসভা তা মানেনি, এবারো পরীক্ষা হবে।

এর আগে গত ১৮ মে জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত উন্নীত করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের আগে পঞ্চম শ্রেণীতে আলাদা করে বৃত্তি পরীক্ষা নেয়া হলেও প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী চালুর পর ওই পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকেই বৃত্তি দেয়া শুরু হয়।

০৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০৭:০৪:১১