'বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে কি যোগ্য নেতৃত্বের অভাব চলছে?
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
সাবিনা ইয়াসমিন (ছদ্মনাম) একটি বেসরকারি ব্যাংকে ৫ বছর ধরে কাজ করছিলেন। এ বছরের জানুয়ারি মাসে তাকে ডেকে আকস্মিক ভাবে পদত্যাগ করতে বলা হয়। "আমি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেছি, আমার কোন কাজের কারণে কি আমাকে রিজাইন করতে বললেন? তারা বললো - তোমার কোন ভুল থাকলে সেটা অন্যভাবে সমাধান করার ব্যবস্থা ছিল কিন্তু যেহেতু ম্যানেজমেন্ট চাচ্ছে না সেহেতু তুমি এখনি রিজাইন করো" - বলছিলেন তিনি।

সাবিনা ইয়াসমিন বলছিলেন, তিনি মনে করেন যে তার পদত্যাগের বিষয়টা ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কারণে হয়েছে, যেখানে তার কোন ত্রুটি ছিল না । ব্যাংকিং খাত নিয়ে এক গবেষণায় বলা হচ্ছে, ২০১৭ সালে দেশে বিভিন্ন ব্যাংকে ৫ হাজার ৭শ' জনকে বাধ্যতামূলক চাকরি ছাড়ার কথা বলা হয়েছে। আর নয় হাজার ২০ জন চাকরি হারিয়েছেন। বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের করা ঐ গবেষণায় বলা হয়েছে এতে করে ব্যাংকে যোগ্য নেতৃত্বের অভাব দেখা দিয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা বিভাগের পরিচালক ড.প্রশান্ত কুমার ব্যানার্জি বলছিলেন, কারণ ছাড়া বাধ্যতামূলক চাকরিচ্যুতির ঘটনায় ব্যাংকগুলোতে বিভিন্ন পদে যোগ্য লোকের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। তিনি বলছিলেন, "কিছু কিছু আছে যেটা সাংঘর্ষিক কারণে ফোর্সড লিভে যায় - যেটা কারো কাছে কাম্য নয়। যে ব্যক্তি প্রিন্সিপাল অফিসার তাকে যদি এজিএম করা হয় তাহলে সে তো সে কাজটা করতে পারবে না। এখন যোগ্য লোক না থাকার কারণে এটা হচ্ছে। বাংলাদেশে ব্যাংকিং খাতে যোগ্য নেতৃত্বের অভাব"।

বাংলাদেশে এখন সরকারি ব্যাংক রয়েছে ৬টি। আর বিশেষায়িত ব্যাংক রয়েছে দু'টি। এছাড়া বেসরকারি ব্যাংক রয়েছে অন্তত ৫৭টি। গবেষণায় বলা হয়েছে, দেশে ব্যাংকের সংখ্যা বাড়ছে - আর সেই সাথে বাড়ছে এর ব্রাঞ্চের সংখ্যা। কিন্তু সেই অনুযায়ী কর্মীর সংখ্যা বাড়েনি। এদিকে বেসরকারি ব্যাংক ইস্টার্ন ব্যাঙ্কের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলী রেজা ইফতেখার বলছিলেন, মূলত কয়েকটি কারণে এই চাকরি হারানো ঘটনা হয়েছে। তবে ঢালাওভাবে সব ব্যাংকেই যে এই অবস্থা বিদ্যমান সেটা সঠিক নয়। মি. ইফতেখার বলছিলেন, কিছু রিটায়ারমেন্ট লোক চলে গেছে,কিছু নন-পারফর্মিং লোককে চাকরী ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়েছে। আর প্রযুক্তির ব্যবহারের সাথে সাথে গত ৫ বছরে ব্যাংকিং খাত অনেক দুর এগিয়ে গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

'হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট অব ব্যাংকস' নামে ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে এক তৃতীয়াংশ ব্যাংকই হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বা কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে কোন অর্থ ব্যয় করেনি। যেখানে বিশ্বব্যাপী ২ থেকে ৩ শতাংশ অর্থ ব্যয় করা হয় কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে।

তবে ব্যাংক পরিচালনাকারীরা এই বিষয়টির সাথে একমত হতে পারছেন না। বিআইবিএম বলছে ২০১৬ সালে দেশে ব্যাংকারের সংখ্যা ছিল ৯০২৬৫জন। কিন্তু ২০১৭তে কমে সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮১২৪৫ জনে। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রচলিত ধারার ব্যাংকিং সিস্টেম ছাড়াও বিকাশ, রকেট নামে প্রযুক্তিভিত্তিক সাধারণ ব্যাংকিং চালু হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে এসব পদ্ধতির বিষয়ে কোন উল্লেখ নেই বরং ৬১ শতাংশ ব্যাংকার মতামত দিয়েছেন, অসৎ কর্মীদের কারণে সনাতন ব্যাংক খাতে অনিয়ম দেখা যাচ্ছে।

 

 

২৬ মে, ২০১৮ ০০:৪৮:৪৬