পুরুষদের তুলনায় নারীরাই বেশি দরিদ্র-ক্ষুধার্ত: জাতিসংঘ
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
বিশ্বে পুরুষদের তুলনায় নারীরা বেশি দরিদ্র, ক্ষুধার্ত এবং তারাই বেশি বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। জাতিসংঘের এক নতুন রিপোর্টে এই তথ্য উঠে এসেছে। অর্থনীতির প্রধান প্রধান শাখায় নারী কতটা সুফল পাচ্ছেন তা তুলে ধরতেই এই রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে।

‘টার্নিং প্রমিস ইনটু অ্যাকসন: জেন্ডার ইক্যুয়ালিটি ইন দ্য ২০৩০ এজেন্ডা ফর সাসটেইনঅ্যাবল ডেভলপমেন্ট’ শিরোনামে প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিশ্বে ২৫-৩৪ বছর বয়সী নারীদের ১২২ ভাগ নারী চূড়ান্ত দরিদ্রসীমায় বাস করছে। পুরুষদের এই সংখ্যা মাত্র ১শ ভাগ। এছাড়া দরিদ্র নারীদের সংখ্যা যখন ১২.৮ ভাগ তখন পুরুষদের এই সংখ্যা মাত্র ১২.৩ ভাগ।

দরিদ্রতার ঘেরটোপ থেকে নারীদের বেরিয়ে আসাও কষ্টকর। কেননা তাদের চাকুরি এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক সুবিধাগুলো কাজে লাগানোর সুযোগ পুরুষের তুলনায় অনেক কম। অনেক দেশে আইন করেই নারীদের অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে রাখা হয়েছে। সেইসব জায়গায়  স্বাস্থ্য সুবিধা, নিজস্ব জমি এবং অর্থ আয়-ব্যয়ের কোনোই সুযোগ পায় না নারীরা। তাছাড়া কাজ মিললেও পুরুষের তুলনায় অনেক কম মজুরি পেয়ে থাকেন নারীরা। চাকরির জন্য খুব বেশি সময়ও দিতে পারে না মেয়েরা। কেননা তাদের গৃহস্থালী কাজকর্ম, রান্নাবান্না এবং সন্তানদের দেখভালোর কাজগুলোও একাই করতে হয়। 

কেবল দারিদ্রতা নয়, অন্ন সংস্থানের ক্ষেত্রেও পুরুষদের তুলনায় অনেক পিছিয়ে নারীরা। বিশ্বের সব দেশেই খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে নারীরা। কোনো দেশে খাদ্য সংকট দেখা দিলে সেখানে পুরুষদের তুলনায় নারীরাই বেশি অনাহারে থাকে। গোটা বিশ্ব জুড়ে কম বেশিএকই চিত্র দেখা গেলেও আফ্রিকার সাব সাহারা অঞ্চলগুলোতে ক্ষুধার্ত নারীদের সংখ্যা বেশি। অর্থনীতিতে নারীদের পিছিয়ে পড়ার আর একটি প্রধান সমস্যা হচ্ছে মাতৃকালীন উচ্চমৃত্যুর হার। 

২০১৫ সালে সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে বিশ্ব জুড়ে  মারা গিয়েছিল ৩ লাখ ৩০ হাজার নারী। এই প্রসূতি মৃত্যুর দুই তৃতীয়াংশই হয়েছে আফ্রিকা অঞ্চলে। সাধারণত: স্বল্প আয়ের নারীরাই এই মাতৃকালীন মৃত্যুর শিকার হচ্ছেন। এই প্রসূতি মৃত্যুর হার কমিয়ে আনা জাতিসংঘের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

জাতিসংঘের রিপোর্টে বিশ্ব জুড়ে নারীদের যৌন নিপীড়নের কথাও উঠে এসেছে। গত ১২ মাসের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বিশ্বে ১৫-৪৯ বছর বয়সী নারীদের প্রতি পাঁচজনের একজন যৌন সহিংসতার শিকার হয়ে থাকে। নারীদের ওপর এইসব র্নিাতন চালিয়ে থাকে পরিবারের সদস্যরাই।  

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১০:৫৯:৪৮