দেশে দরিদ্র প্রায় তিন কোটি: অর্থমন্ত্রী
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম
অ+ অ-প্রিন্ট
 

দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশ অগ্রগতি অর্জন করলেও এখনও প্রায় তিন কোটি মানুষ দরিদ্র রয়েছে বলে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানিয়েছেন। তবে দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশের অগ্রগতির যে হার তাতে আর বেশি দিন দরিদ্র মানুষ থাকবে না বলে মনে করছেন তিনি। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে রোববার উন্নয়ন মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমাদের উন্নয়নের একমাত্র লক্ষ্যমাত্রা বলতে পারেন দারিদ্র্য দূরীকরণ। আমরা যখন স্বাধীন হই তখন আমাদের ৭০ ভাগ মানুষ দরিদ্র ছিল। আজকে খুশির সঙ্গে বলতে হয় সেই সংখ্যা আমরা কমিয়ে ২২ দশিমক ৫ শতাংশে নিয়ে এসেছি।

“সেটা কৃতিত্বের বিষয়, কিন্তু তাতেও সন্তুষ্ট হওয়া উচিত নয়। কারণ এখনও প্রায় তিন কোটি মানুষ দরিদ্র রয়েছে।”

তবে এই দারিদ্র আর খুব বেশি দিন থাকবে না বলে মনে করেন মুহিত।

“এদেশ থেকে কোন দিন দারিদ্র্য শেষ হবে তা এখন বলে দেওয়া যায়। আমি বলে দিতে পারি, আগামী ২০২৪ সালের পর বাংলাদেশে আর দারিদ্র্য থাকবে না।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার ‘সম্পূর্ণভাবে জনসেবায় নিয়োজিত’ বলে দাবি করে মুহিত বলেন, “যতক্ষণ এই সরকার জনসেবায় নিবেদিত থাকবে ততক্ষণ বাংলাদেশ ও মানুষের উন্নয়ন হতে থাকবে। মানুষের দুঃখ-দুর্দশার অবসান হবে।

“আমরা একটি সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতে পাই। এ স্বপ্নটা আর খুব বেশি দূরে বলে আমার মনে হয় না।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, “এদেশের উন্নয়নে গৃহীত রূপকল্প একমাত্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাথা থেকেই এসেছে।

“এক সময় আমরা সবাই শুনেছি ‘মানি ইজ নো প্রবলেম’, কিন্তু ওয়ান থেকে টেন পর্যন্ত বই দেয় নাই। এটা দিয়েছেন জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনা।”

বক্তব্যের এক পর্যায়ে জঙ্গিবাদ প্রসঙ্গে মতিয়া চৌধুরী বলেন, ঢাকার মিরপুরের রূপনগরে অভিযানের সময় জঙ্গিরা নিজেরা সামনে না এসে ‘শাকিরা’ নামের একটা মেয়েকে ভেস্ট দিয়ে আত্মঘাতী আক্রমণের জন্য পাঠায়।

“সেই জঙ্গিরা বলে, অমুক মারা গেলে তার বউয়ের অমুকের সাথে বিয়ে হবে, আবার অমুক মারা গেলে তমুকের সাথে বিয়ে হবে। মেয়েরা কি হাত বদলের জিনিস?”

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে পিকেএসএফ সভাপতি খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, এখন পিকেএসএফ দরিদ্র মানুষকে প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি, বাজার তথ্য, বাজারজাত এবং উপযুক্ত ঋণ-এ পাঁচটি কাজের মাধ্যমেই দারিদ্র্য দূরীকরণে কাজ করছে।

সমাজের বিশেষ অবদানের জন্য মুক্তিযোদ্ধা ও কেকেএসের চেয়ারম্যান ফকির আব্দুল জব্বার এবং রিক-এর চেয়ারম্যান আবুল হাসিব খানকে অনুষ্ঠানে সম্মাননা দেওয়া হয়।

৩১ অক্টোবর, ২০১৭ ১৩:৪৩:০৩