জিএফআইয়ের তথ্য : ১০ বছরে পাচার ৩ লাখ কোটি টাকা
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
গত ১০ বছরে বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়ে গেছে তিন লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা (চার হাজার ৪৬১ কোটি ৫৩ হাজার মার্কিন ডলার)। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি (জিএফআই) গত সোমবার অর্থ পাচারের এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

জিএফআই আট বছর ধরে উন্নয়নশীল দেশ থেকে কী পরিমাণ অর্থ অবৈধভাবে পাচার হয়, তা নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে। এবার ‘উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বড় এবং স্থায়ী অবৈধ আর্থিক প্রবাহ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া ওই অর্থ বাংলাদেশের ২০১৫-১৬ অর্থবছরের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন, পল্লী উন্নয়ন, শিল্প ও ভৌত অবকাঠামো খাতের মোট উন্নয়ন বাজেটের সমান। জিএফআইয়ের গবেষণা প্রতিবেদনে ২০০৫ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত অর্থ পাচারের হিসাব দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ পাচার হয়েছে ২০১২ ও ২০১৩ সালে। যেমন ২০১২ সালে অর্থ পাচারের পরিমাণ ৭২২ কোটি ৫০ লাখ ডলার, ২০১৩ সালে ৯৬৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার ও ২০১৪ সালে ৭০০ কোটি ৬৯ লাখ ডলার। এ ছাড়া ২০০৫ সালে ৪২৬ কোটি ২০ লাখ ডলার, ২০০৬ সালে ৩৩৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার, ২০০৭ সালে ৪০৯ কোটি ৮০ লাখ ডলার, ২০০৮ সালে ৬৪৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার, ২০০৯ সালে ৬১২ কোটি ৭০ লাখ ডলার, ২০১০ সালে ৫৪০ কোটি ৯০ লাখ ডলার এবং ২০১১ সালে পাচার হয় ৫৯২ কোটি ১০ লাখ ডলার। সব মিলিয়ে ১০ বছরে বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচারের পরিমাণ ৪ হাজার ৪৬১ কোটি ৫৩ লাখ ডলার বা ৩ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা। এই অর্থ দিয়ে অন্তত এক বছরের বাজেট তৈরি করতে পারত বাংলাদেশ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গড়ে প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে ৫৫৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার। জিএফআইয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ ডেভ কার ও অর্থনীতিবিদ জোসেফ স্পানজারস বরাবরের মতো এই গবেষণা প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন। ডেভ কার এর আগে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) অর্থনীতিবিদ ছিলেন। তারা বিভিন্ন দেশের লেনদেনের ভারসাম্য ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করেছেন। আর এসব পরিসংখ্যানের উৎস হচ্ছে আইএমএফ। এবারের প্রতিবেদনে ২০০৩ সালের তথ্য দেয়া ছাড়াও আগের বছরগুলোর পরিসংখ্যান হালনাগাদ করা হয়েছে। এই গবেষণায় আর্থিক সহায়তা দিয়েছে ফিনল্যান্ড সরকার।

সূত্র মতে, ২০০৯ সালে অর্থ পাচার হয়েছে ৫ হাজার ১৯২ কোটি টাকা। ওই বছর অর্থ পাচারের মামলা হয়েছে ২টি। যার সঙ্গে অর্থ সম্পৃক্তের পরিমাণ মাত্র ৬৫২ কোটি টাকা। বাকি ৪ হাজার ৫৪০ কোটি টাকার কোনো রেকর্ড নেই। ২০১০ সালে ৪৩ হাজার কোটি টাকা পাচার হলে বিপরীতে মামলা হয়েছে ১৯টি। এসব মামলার সঙ্গে প্রায় ৭২ কোটি টাকা জড়িত। একইভাবে দেখা গেছে, ২০১১ সালে অর্থ পাচার হয় ৪৭ হাজার কোটি টাকা। একই বছরে ১৫৭ কোটি টাকা পাচারের ৩৫টি মামলা হয়। বাকি টাকার রেকর্ড নেই। ২০১২ সালে ৫৭ হাজার কোটি টাকা পাচার হলে মামলা হয়েছে প্রায় ৯০ কোটি টাকার। মামলার সংখ্যা হচ্ছে ১৩২। পরবর্তী বছর ২০১৩ সালে অর্থ পাচার বেড়ে ৭৭ হাজার কোটি টাকা দাঁড়ায়। একই বছরে কিছু মামলার সংখ্যাও বেড়েছে। ওই বছর মামলা হয়েছে ৯০২০ কোটি টাকা পাচারের। মামলা সংখ্যা বছরে ৬৬টি। তবে ২০১৪ ও ২০১৫ সালের অর্থ পাচার নিয়ে জিএফআই এখনো কোনো রিপোর্ট প্রকাশ করেনি। তবে এপিজির রিপোর্ট অনুযায়ী এ দুই বছরে বাংলাদেশে অর্থ পাচারের মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৪ সালে ৭৩৮ কোটি টাকা পাচারের বিরুদ্ধে ২০টি এবং ২০১৫ সালে ১১টি ঘটনার মাধ্যমে ৭৩ কোটি টাকা পাচারের মামলা হয়।

 

০৩ মে, ২০১৭ ১১:৫২:৪৯