বাংলাদেশকে ৫০ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে দুটি প্রকল্পে ৫০ কোটি ৭০ লাখ ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। স্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বহুমাত্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বাণিজ্য অবকাঠামো উন্নয়নে এ অর্থ ব্যয় করা হবে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল এ তথ্য জানানো হয়।

বিশ্বব্যাংকের বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে অবকাঠামো খাতে পাঁচ-সাত বছর মেয়াদি ঋণ প্রদান করে থাকে। কিন্তু অবকাঠামো উন্নয়নে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। সক্ষমতা না থাকায় স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এক্ষেত্রে পর্যাপ্ত অর্থায়নের চাহিদা মেটাতে পারছে না। পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে কিছু প্রতিবন্ধকতাও রয়েছে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ‘ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল ফ্যাসিলিটি’ (আইপিএফএফ-২) শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগে দীর্ঘমেয়াদি ঋণদান সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করা হবে। আর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি পরিশোধন, বিদ্যুত্সাশ্রয়ী যন্ত্র উত্পাদন, কনটেইনার টার্মিনাল, স্থলবন্দর ও সেতুসহ বিভিন্ন বাণিজ্য-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়নেও সংস্থাটি অর্থায়ন করবে। বিশ্বব্যাংকের সহায়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) এ অর্থায়ন করবে।

এ বিষয়ে এক বিবৃতিতে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর চিমিয়াও ফান বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হতে চায়। এ লক্ষ্য অর্জনে দেশটিকে দ্রুত টেকসই উন্নয়নের পথে হাঁটতে হবে। এজন্য প্রয়োজন উন্নত অবকাঠামো। আর এ অবকাঠামো উন্নয়নে বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ জরুরি। বিশেষত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বাণিজ্যিক অবকাঠামো উন্নয়ন এক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরি। গৃহীত এ দুই প্রকল্প এক্ষেত্রে সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

সংস্থাটির বিবৃতিতে জানানো হয়, আইপিএফএফ প্রকল্পের অধীনে এর আগে দেশের ১১টি ছোট বিদ্যুেকন্দ্রে অর্থায়ন করা হয়েছে। এসব বিদ্যুেকন্দ্রের সম্মিলিত বিদ্যুত্ উত্পাদন সক্ষমতা ৫৫০ মেগাওয়াট। এসব প্রকল্প সফল হওয়ায় আইপিএফএফের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু করতে যাচ্ছে বিশ্বব্যাংক। এর আওতায় যোগ্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে অর্থায়ন করা হবে। এক্ষেত্রে আইপিএফএফ-২-এর আওতায় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থছাড় করা হবে। এ প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের মোট অর্থায়ন ৩৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার। এর মধ্যে ৩৮ বছর মেয়াদি ২৫ কোটি ৭০ লাখ ডলারের জন্য কোনো সুদ দিতে হবে না। এতে গ্রেস পিরিয়ড ধরা হয়েছে ছয় বছর। বাকি ১০ কোটি ডলার দেয়া হচ্ছে ৩০ বছরের জন্য। এক্ষেত্রে গ্রেস পিরিয়ড থাকছে নয় বছর।

এছাড়া পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, ভুটান ও নেপালের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক বৃদ্ধিতে আঞ্চলিক সংযোগ প্রকল্প-১-এর আওতায় অর্থায়ন করা হবে অবকাঠামো খাতে। এ খাতে বিনা সুদে মোট ১৫ কোটি ডলার অর্থায়ন করবে সংস্থাটি। এ ঋণ পরিশোধে বাংলাদেশ ৩৮ বছর সময় পাবে। ছয় বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ এ ঋণে বাংলাদেশকে সার্ভিস চার্জ দিতে হবে দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে। এর আগে অনুরূপ আরেকটি প্রকল্পের আওতায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ তিন স্থলবন্দরের আধুনিকায়ন ও বেনাপোল বন্দরের নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে কাজ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় কাস্টমস আধুনিকায়ন ও আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন এ প্রকল্পে অর্থায়ন করছে বিশ্বব্যাংক। প্রকল্পটির আওতায় একই সঙ্গে বন্দরে পণ্য খালাস কার্যক্রম সহজীকরণ করা হবে। ফলে আন্তঃদেশীয় বাণিজ্যে আগের তুলনায় কম সময় প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি প্রকল্পটির আওতায় নারী উদ্যোক্তাদেরও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

০৮ এপ্রিল, ২০১৭ ১৩:৩৬:১৩